আব্দুল লতিফ রানা
০২ জুন, ২০২৫, 5:09 PM
শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর দুর্নীতির অন্যতম সহযোগিরা (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লি:) বাপেক্সে এখনো বহাল তবিয়তে। শুধু তাই নয়, পতিত সরকারের ব্যর্থ মিশন কার্যক্রম চালানোর জন্য নানা কৌশল ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, বাপেক্সের চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর উপদেষ্টার কাছে গত একজন কর্মকর্তার পরিচয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এর দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক সূত্র জানায়, দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) মুহাম্মদ শিহাব সালাম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যে দুদক কমিশন, প্রধান কার্যালয় ঢাকা, নথি নং-০০.০১.-০১.০৩৫.২৫-২৫২৮২, তারিখ-০৭-০৫-২০২৫ ইং এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্¦ালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে গত ২০১৬ সালে বিদেশী প্রতিষ্ঠান “সান্তোস’ ও বাপেক্সের সাথে যৌথভাবে মগনামা-২ কূফ খনন, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় রেকডপত্র (প্রস্তাবনা, বাপেক্স এর পরিচালনা বোর্ড এর অনুমোধন, চুক্তিপত্র, কার্যাদেশ, অর্থছাড় সংক্রান্ত রেকডপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্র) দাখিলের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। উল্লেখিত প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বাপেক্স এর সকাল কর্মকর্তার নাম, বর্তমান পদবি ও কর্মস্থল, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ যোগাযোগের নম্বর চাওয়া হয়েছে। উল্লেখিত বিষয়গুলো গত ১৪ মের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ ভুতাত্ত্বিক জরিপ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল/গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এর দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আর সেই মুহুর্তেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ¦ালানী উপদেষ্টা গ্রেফতারকৃত ড. তৌফিক এ এলাহীর অন্যতম সহযোগি বাপেক্সে এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মর্তুজা আহম্মদ ফারুক উগ্র ভাষায় দুর্নীতির সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু তিনি যে অসত্য বক্তব্যে দিয়েছেন, তা উপস্থিত জনেরা প্রতিবাদ করেছেন।
সূত্র জানায়, মর্তুজা আহমদ ফারুক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিয়োজিত তৎকালীন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মুনসুর কর্তৃক নিয়োজিত একজন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আর্থিক দুর্নীতি অনিয়মত সংক্রান্ত্রে একটি উচ্চতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মর্তুজা আহমদ ফারুকের সময় পাশ করা জিওবি অর্থায়নে পরিচালিত “গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন প্রজেক্ট (সালডা, ৩-৪ ও ফেন্সুগঞ্জ, ৪-৫)” শীর্ষক প্রকল্পের দূর্নীতি সংক্রান্তে গত ২০১৭ সালে বাপেক্ষ এর ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৩০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। উক্ত অর্থ ৫০ টি কোর্ড ও ৪১টি সাব কোডে বিভক্ত করা ছিল। আলোচিত তদন্ত প্রতিবেদনের ৫৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের জন্য মোট ৫জন কর্মকর্তাকে দাীয় করা হয়েছে। তার মধ্যে মো. মর্তুজা আহমদ ফারুক ও প্রকল্প পরিচালক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাব উদ্দিন অন্যতম বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উক্ত প্রকল্পের আর্থিক কোডে বরাদ্দকৃত অর্থ অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ পূর্বক গত ২০১৭ সালের ২০ জুন দাখিল করা হযেছে। কিন্তু সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক, প্রকল্প পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিনসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার সরকারের কোন কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাপেক্সের সাবেক চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরের সময়ে ৫ বছর বা গত ২০০৯ থেকে ০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বাপেক্সের অপর এক সূত্র জানায়, ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি সর্বৈব সত্য হিসেবে দুদকের মামলাই যথেষ্ট। ওহিদুল কমিটির বিরোধিতা সত্ত্বেও হুকুম পালনে চুক্তির প্রারন্তিক সভায় ভিডিও, নিথি উত্থাপন, কার্যবিবরণী, মন্ত্রণালয় এবং বাপেক্সের লম্পজন্ম, তৎকালীন পিএসসি, ডিজিএম শাহনেওয়াজ পারভেন, বর্তমানে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর এমডি, বাপেক্স এর সাবেক এমডি প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান ও ভূতত্ত্ব বিভাগের সেকান্দার আবু মুহাম্মদ মেরাজুল, তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সহব্যবস্থাপক থাকার সময়ে নাইকোর ফান্ডে ৩ বছর কানাডায় পড়ার নামে থাকার রও কোন সনদ আনতে পারেননি। জিওলজি গ্রুপ পলিট্রিক্সের ক্ষমতায় তখন থেকেই দুর্নীতিতে আসক্ত ছিলেন।
ভারতীয় ও এনজিসি ও দেশী-বিদেশী সাপ্লায়ার্সদের এজেন্ট নামে খ্যাত তারইও তারই দুই ফ্যাসিস্ট বন্ধু বাপেক্স হতে জিএম পদোন্নতি লুটে বাপেক্সের রিজার্ভ বিভাগের পদ দখলে দেশের ভূতত্ত¦ ডাটাকা পাচারকারী মেহেরুল হাসান এবং শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোটায় দীর্ঘ সময় দখলে নেওয়া পরিচালক (প্রশাসন) জনেন্দ্র শীর্ষ পীরগাছার মো, আলতাফ হোসেন ক্ষমতার দাপটে পুরো সেক্টরের নিয়োগ, পদোন্নতি, লোভাতুর পদায়ন, ও শাস্তিমুলক বদলী বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে লাখ লাখ টাকার সম্মানী হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সে পুতুল চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের তোয়াক্কা করতে হতো না।
অপর সূত্র জানায়, ‘র’ এর আলতাফ নিজেকে পেট্রোবাংরার নেক্সট চেয়ারম্যান ডিকলেয়ার করে অগ্রনী ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখা হতে স্যান্টোস বাংলাদেশ লিমিটেড, এর ব্যাংক হিসেবের পরিবর্তে স্যান্টোস ফিন্যান্স লিমিটেড, ইউকে ব্যাক ট্রান্সফারে ১৫ মিলিয়ন ডলারের চ্যানেল প্রবাহ করা হয়েছে। বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তদন্ত করলে প্রমাণিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বাপেক্স থেকে পাচারকৃত অর্থের মাধ্যমেই ড. তৌফিক ই ইলাহারী সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রমোদ ভ্রমনের সফর সঙ্গী হয়েছিলেন। বিদেশে প্রমোদ ভ্রদমেণর রেকর্ডপত্র, নৌবাহিনীর সুইমিং পুলে সাঁতার শিক্ষা কোর্সের কর্মকর্তাগণ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স হতে মনিটরিং নামে বিনোদন টীমের সুবিধাভোগীরাও সব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। এসব দর্নীতি অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে বৈষম্য বিরোধী বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উল্লেখিত অভিযোগগুলো বিষয়ে একধিক কর্মকর্তা সকালের সময়কে জানান, তারা সংবাদ মাধ্যমে কোন কথা বলার অধিকার রাখেন না। তাই এমডির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর বাপেক্সের এমডির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আব্দুল লতিফ রানা
০২ জুন, ২০২৫, 5:09 PM
শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর দুর্নীতির অন্যতম সহযোগিরা (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লি:) বাপেক্সে এখনো বহাল তবিয়তে। শুধু তাই নয়, পতিত সরকারের ব্যর্থ মিশন কার্যক্রম চালানোর জন্য নানা কৌশল ছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, বাপেক্সের চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ জ¦ালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এর উপদেষ্টার কাছে গত একজন কর্মকর্তার পরিচয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। উক্ত অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব এর দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক সূত্র জানায়, দুদকের সহকারী পরিচালক (মানিলন্ডারিং) মুহাম্মদ শিহাব সালাম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যে দুদক কমিশন, প্রধান কার্যালয় ঢাকা, নথি নং-০০.০১.-০১.০৩৫.২৫-২৫২৮২, তারিখ-০৭-০৫-২০২৫ ইং এর মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ ও জ্¦ালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দূর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানে গত ২০১৬ সালে বিদেশী প্রতিষ্ঠান “সান্তোস’ ও বাপেক্সের সাথে যৌথভাবে মগনামা-২ কূফ খনন, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় রেকডপত্র (প্রস্তাবনা, বাপেক্স এর পরিচালনা বোর্ড এর অনুমোধন, চুক্তিপত্র, কার্যাদেশ, অর্থছাড় সংক্রান্ত রেকডপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রেকর্ডপত্র) দাখিলের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। উল্লেখিত প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বাপেক্স এর সকাল কর্মকর্তার নাম, বর্তমান পদবি ও কর্মস্থল, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসহ যোগাযোগের নম্বর চাওয়া হয়েছে। উল্লেখিত বিষয়গুলো গত ১৪ মের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে বাংলাদেশ ভুতাত্ত্বিক জরিপ সমিতির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল/গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এর দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আর সেই মুহুর্তেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ¦ালানী উপদেষ্টা গ্রেফতারকৃত ড. তৌফিক এ এলাহীর অন্যতম সহযোগি বাপেক্সে এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মর্তুজা আহম্মদ ফারুক উগ্র ভাষায় দুর্নীতির সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু তিনি যে অসত্য বক্তব্যে দিয়েছেন, তা উপস্থিত জনেরা প্রতিবাদ করেছেন।
সূত্র জানায়, মর্তুজা আহমদ ফারুক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিয়োজিত তৎকালীন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মুনসুর কর্তৃক নিয়োজিত একজন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আর্থিক দুর্নীতি অনিয়মত সংক্রান্ত্রে একটি উচ্চতর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মর্তুজা আহমদ ফারুকের সময় পাশ করা জিওবি অর্থায়নে পরিচালিত “গ্যাস ক্ষেত্র উন্নয়ন প্রজেক্ট (সালডা, ৩-৪ ও ফেন্সুগঞ্জ, ৪-৫)” শীর্ষক প্রকল্পের দূর্নীতি সংক্রান্তে গত ২০১৭ সালে বাপেক্ষ এর ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৩০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। উক্ত অর্থ ৫০ টি কোর্ড ও ৪১টি সাব কোডে বিভক্ত করা ছিল। আলোচিত তদন্ত প্রতিবেদনের ৫৫ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের জন্য মোট ৫জন কর্মকর্তাকে দাীয় করা হয়েছে। তার মধ্যে মো. মর্তুজা আহমদ ফারুক ও প্রকল্প পরিচালক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাব উদ্দিন অন্যতম বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উক্ত প্রকল্পের আর্থিক কোডে বরাদ্দকৃত অর্থ অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ পূর্বক গত ২০১৭ সালের ২০ জুন দাখিল করা হযেছে। কিন্তু সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক, প্রকল্প পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিনসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার সরকারের কোন কোন শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে বাপেক্সের সাবেক চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুরের সময়ে ৫ বছর বা গত ২০০৯ থেকে ০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বাপেক্সের অপর এক সূত্র জানায়, ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি সর্বৈব সত্য হিসেবে দুদকের মামলাই যথেষ্ট। ওহিদুল কমিটির বিরোধিতা সত্ত্বেও হুকুম পালনে চুক্তির প্রারন্তিক সভায় ভিডিও, নিথি উত্থাপন, কার্যবিবরণী, মন্ত্রণালয় এবং বাপেক্সের লম্পজন্ম, তৎকালীন পিএসসি, ডিজিএম শাহনেওয়াজ পারভেন, বর্তমানে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর এমডি, বাপেক্স এর সাবেক এমডি প্রকৌশলী আতিকুজ্জামান ও ভূতত্ত্ব বিভাগের সেকান্দার আবু মুহাম্মদ মেরাজুল, তাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি সহব্যবস্থাপক থাকার সময়ে নাইকোর ফান্ডে ৩ বছর কানাডায় পড়ার নামে থাকার রও কোন সনদ আনতে পারেননি। জিওলজি গ্রুপ পলিট্রিক্সের ক্ষমতায় তখন থেকেই দুর্নীতিতে আসক্ত ছিলেন।
ভারতীয় ও এনজিসি ও দেশী-বিদেশী সাপ্লায়ার্সদের এজেন্ট নামে খ্যাত তারইও তারই দুই ফ্যাসিস্ট বন্ধু বাপেক্স হতে জিএম পদোন্নতি লুটে বাপেক্সের রিজার্ভ বিভাগের পদ দখলে দেশের ভূতত্ত¦ ডাটাকা পাচারকারী মেহেরুল হাসান এবং শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোটায় দীর্ঘ সময় দখলে নেওয়া পরিচালক (প্রশাসন) জনেন্দ্র শীর্ষ পীরগাছার মো, আলতাফ হোসেন ক্ষমতার দাপটে পুরো সেক্টরের নিয়োগ, পদোন্নতি, লোভাতুর পদায়ন, ও শাস্তিমুলক বদলী বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে লাখ লাখ টাকার সম্মানী হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সে পুতুল চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের তোয়াক্কা করতে হতো না।
অপর সূত্র জানায়, ‘র’ এর আলতাফ নিজেকে পেট্রোবাংরার নেক্সট চেয়ারম্যান ডিকলেয়ার করে অগ্রনী ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখা হতে স্যান্টোস বাংলাদেশ লিমিটেড, এর ব্যাংক হিসেবের পরিবর্তে স্যান্টোস ফিন্যান্স লিমিটেড, ইউকে ব্যাক ট্রান্সফারে ১৫ মিলিয়ন ডলারের চ্যানেল প্রবাহ করা হয়েছে। বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক তদন্ত করলে প্রমাণিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে। বাপেক্স থেকে পাচারকৃত অর্থের মাধ্যমেই ড. তৌফিক ই ইলাহারী সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রমোদ ভ্রমনের সফর সঙ্গী হয়েছিলেন। বিদেশে প্রমোদ ভ্রদমেণর রেকর্ডপত্র, নৌবাহিনীর সুইমিং পুলে সাঁতার শিক্ষা কোর্সের কর্মকর্তাগণ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স হতে মনিটরিং নামে বিনোদন টীমের সুবিধাভোগীরাও সব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। এসব দর্নীতি অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে বৈষম্য বিরোধী বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উল্লেখিত অভিযোগগুলো বিষয়ে একধিক কর্মকর্তা সকালের সময়কে জানান, তারা সংবাদ মাধ্যমে কোন কথা বলার অধিকার রাখেন না। তাই এমডির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর বাপেক্সের এমডির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।