জাহিদুল আলম
০২ জুন, ২০২৫, 5:23 PM
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড দেশের অন্যতম আলোচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যা এক সময়ে বহুমাত্রিক ব্যবসা কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ রফিকুল আমিন-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের কারণে আজ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রতারণার কৌশল: ট্রি-প্ল্যান্টেশন থেকে কোটি টাকার হাতিয়ে নেওয়া
ডেসটিনির বহুল আলোচিত ট্রি-প্ল্যান্টেশন প্রকল্পে দেখানো হয় ১ কোটি ৭৪ লাখ গাছের অস্তিত্ব, যার মাধ্যমে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। অথচ তদন্তে দেখা যায়, প্রকৃত গাছের সংখ্যা ছিল সীমিত, এবং অধিকাংশ গাছই ছিল কল্পিত কল্পনা । এই প্রকল্পে প্রায় ১৭ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ তদন্তে ভুয়া দলিল ও মিথ্যা তথ্য উদঘাটিত হয়, যা প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।
মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়
তদন্তে আরও জানা যায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় অনিয়মিতভাবে। এই অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয় রফিকুল আমিন ও তার পরিবারের নামে-বেনামে জমি, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিদেশে অর্থ পাচারে।
বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
বর্তমানে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪৬ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের অধীনে কোম্পানি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ—কোম্পানির স্বচ্ছ ও আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান ও একমাত্র বাধা মোঃ রফিকুল আমিন। তার নেতৃত্বাধীন প্রতারণামূলক কাঠামোই লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে করেছে কলুষিত।
অনলাইনে গুজব ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের দাবি, অনলাইনে কিছু ব্যক্তি রফিকুল আমিনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে কোম্পানির পুনর্গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করছেন, হাইকোর্টের ১৭৩/২২ রায় বাস্তবায়নের বিরুদ্ধেও সচেষ্ট একটি মহল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল আমিন গং।
এই প্রচেষ্টা ব্যবসা পুনরায় শুরু হওয়া থেকে বিরত রাখতে সক্রিয়, অথচ এই বিষয়ে এখনো আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন।
বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, বোর্ডের একটি অংশ রফিকুল আমিনের সাথে অপছায়ায় মিশে গোপনে প্রতারণামূলকভাবে কোম্পানি চালুর চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করছে।
বিনিয়োগকারীদের দাবি
বিনিয়োগকারীরা চান—
• দ্রুত কোম্পানি চালু হোক।
• ১৭৩/২২ হাইকোর্ট রায় অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি পরিচালনা করা হোক।
• রফিকুল আমিন ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
• ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।
কর্তৃপক্ষের নিরবতা ও ভবিষ্যতের আহ্বান
এই সংকটময় মুহূর্তে, হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা অগ্রগতি জানানো হয়নি। তবে, বিনিয়োগকারীদের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রেক্ষিতে, এই ইস্যুর দ্রুত সমাধান এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড-এর ভবিষ্যৎ এবং লক্ষ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে—সৎ, দৃঢ় ও আইনানুগ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর।
জাহিদুল আলম
০২ জুন, ২০২৫, 5:23 PM
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড দেশের অন্যতম আলোচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যা এক সময়ে বহুমাত্রিক ব্যবসা কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ রফিকুল আমিন-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের কারণে আজ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রতারণার কৌশল: ট্রি-প্ল্যান্টেশন থেকে কোটি টাকার হাতিয়ে নেওয়া
ডেসটিনির বহুল আলোচিত ট্রি-প্ল্যান্টেশন প্রকল্পে দেখানো হয় ১ কোটি ৭৪ লাখ গাছের অস্তিত্ব, যার মাধ্যমে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। অথচ তদন্তে দেখা যায়, প্রকৃত গাছের সংখ্যা ছিল সীমিত, এবং অধিকাংশ গাছই ছিল কল্পিত কল্পনা । এই প্রকল্পে প্রায় ১৭ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ তদন্তে ভুয়া দলিল ও মিথ্যা তথ্য উদঘাটিত হয়, যা প্রমাণ করে যে প্রকল্পটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।
মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়
তদন্তে আরও জানা যায়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয় অনিয়মিতভাবে। এই অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয় রফিকুল আমিন ও তার পরিবারের নামে-বেনামে জমি, ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং বিদেশে অর্থ পাচারে।
বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
বর্তমানে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪৬ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ডিস্ট্রিবিউটর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ডের অধীনে কোম্পানি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ—কোম্পানির স্বচ্ছ ও আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান ও একমাত্র বাধা মোঃ রফিকুল আমিন। তার নেতৃত্বাধীন প্রতারণামূলক কাঠামোই লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে করেছে কলুষিত।
অনলাইনে গুজব ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের দাবি, অনলাইনে কিছু ব্যক্তি রফিকুল আমিনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে কোম্পানির পুনর্গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা অভিযোগ করছেন, হাইকোর্টের ১৭৩/২২ রায় বাস্তবায়নের বিরুদ্ধেও সচেষ্ট একটি মহল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল আমিন গং।
এই প্রচেষ্টা ব্যবসা পুনরায় শুরু হওয়া থেকে বিরত রাখতে সক্রিয়, অথচ এই বিষয়ে এখনো আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন।
বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, বোর্ডের একটি অংশ রফিকুল আমিনের সাথে অপছায়ায় মিশে গোপনে প্রতারণামূলকভাবে কোম্পানি চালুর চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করছে।
বিনিয়োগকারীদের দাবি
বিনিয়োগকারীরা চান—
• দ্রুত কোম্পানি চালু হোক।
• ১৭৩/২২ হাইকোর্ট রায় অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থাপনায় কোম্পানি পরিচালনা করা হোক।
• রফিকুল আমিন ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
• ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক।
কর্তৃপক্ষের নিরবতা ও ভবিষ্যতের আহ্বান
এই সংকটময় মুহূর্তে, হাইকোর্ট নিযুক্ত বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা অগ্রগতি জানানো হয়নি। তবে, বিনিয়োগকারীদের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রেক্ষিতে, এই ইস্যুর দ্রুত সমাধান এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড-এর ভবিষ্যৎ এবং লক্ষ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে—সৎ, দৃঢ় ও আইনানুগ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর।