CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নাগরিকরা: বাড়ছে মব ভয়োলেন্স ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

#
news image

মব ভয়োলেন্স, গণপিটুনি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এর ফলে অনেক মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসছে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে নাগরিকদের জীবনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন জুনে এই মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ এবং গুলি চালানোর ঘটনাও দেখা গেছে।

সংস্কার সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে দর কষাকষি ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তেমন না থাকলেও, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বকালীন সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি দুষ্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনার পর সাবেক সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ যেকোনো ব্যক্তিকে আন্দোলন বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মে মাসের ধারা অনুসরণ করে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, যেমন ধর্ষণ, আত্মহত্যা, হত্যা, শিশু ও নারীদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমকি ও হামলা, অর্থাৎ সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এই মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিকতাও বজায় রয়েছে। সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং দিনে দুপুরে বুলডোজার দিয়ে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে হতাহতের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং 'পুশইন'-এর ঘটনা বেড়েছে। অপরদিকে, পার্বত্য এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) সহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।

এমএসএফ-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে কারা হেফাজতে নারীসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৮। নিহত বন্দিদের মধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন, অপর এক বন্দি নির্যাতনে মারা গেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। বাকি এই মাসে ১ জন কয়েদি ও ৫ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে। রংপুরে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিশু-কিশোরীদের শারীরিক-মানসিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও মামলার সংখ্যা কমে গেলেও দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপির দলীয় কর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে, যা জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৫টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ৪৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন নিহত এবং ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জন গুলিবিদ্ধ এবং নিহতদের মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১ জন বৃদ্ধসহ ৬ জন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আঘাতে বিএনপির ১ জন এবং কথিত বিএনপি-জামাত সংঘর্ষে জামায়াতের ১ জন নিহত হয়েছেন।

এই মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার ১৬টি ঘটনা ঘটেছে এবং এই সকল ঘটনায় ২১ জন আহত ও ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন।

ইউসুফ আলী বাচ্চু:

০৭ জুলাই, ২০২৫,  7:54 PM

news image

মব ভয়োলেন্স, গণপিটুনি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এর ফলে অনেক মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসছে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে নাগরিকদের জীবনে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং প্রতিবেদন জুনে এই মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় জনতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ এবং গুলি চালানোর ঘটনাও দেখা গেছে।

সংস্কার সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে দর কষাকষি ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তেমন না থাকলেও, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বকালীন সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি দুষ্কৃতিকারীদের হাতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনার পর সাবেক সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ যেকোনো ব্যক্তিকে আন্দোলন বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মে মাসের ধারা অনুসরণ করে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, যেমন ধর্ষণ, আত্মহত্যা, হত্যা, শিশু ও নারীদের প্রতি শারীরিক নির্যাতন ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হুমকি ও হামলা, অর্থাৎ সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এই মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিকতাও বজায় রয়েছে। সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং দিনে দুপুরে বুলডোজার দিয়ে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে হতাহতের ঘটনা বন্ধ হয়নি, বরং 'পুশইন'-এর ঘটনা বেড়েছে। অপরদিকে, পার্বত্য এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) সহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক চর্চা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমমর্যাদা এবং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তার বিষয়গুলোর নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএসএফ জোর দাবি জানাচ্ছে।

এমএসএফ-এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে কারা হেফাজতে নারীসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৮। নিহত বন্দিদের মধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন, অপর এক বন্দি নির্যাতনে মারা গেছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। বাকি এই মাসে ১ জন কয়েদি ও ৫ জন হাজতির মৃত্যু হয়েছে। রংপুরে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিশু-কিশোরীদের শারীরিক-মানসিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ও মামলার সংখ্যা কমে গেলেও দুষ্কৃতিকারি কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিএনপির দলীয় কর্মীদের অন্তর্দ্বন্দ্ব লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলেছে, যা জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির সৃষ্টি করেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৫টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ৪৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন নিহত এবং ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জন গুলিবিদ্ধ এবং নিহতদের মধ্যে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ১ জন বৃদ্ধসহ ৬ জন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আঘাতে বিএনপির ১ জন এবং কথিত বিএনপি-জামাত সংঘর্ষে জামায়াতের ১ জন নিহত হয়েছেন।

এই মাসে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার ১৬টি ঘটনা ঘটেছে এবং এই সকল ঘটনায় ২১ জন আহত ও ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন।