CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে হলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে: সালাউদ্দিন

#
news image

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা তৈরি হয়েই দলে আসেন। এসেই পারফর্ম করেন। মাঝে মধ্যে অফফর্মে পড়লেও তাদের পারফরম্যান্সে থাকে ধারাবাহিকতার ছাপ। কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা ঠিক উল্টো। বয়সভিত্তিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়িয়ে জাতীয় দলে ঢোকা ক্রিকেটারদের অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করতে সময় নেন। আর যেটুকু পারফরম্যান্স আসে, তাও হয় ভীষণ অধারাবাহিক।  ফলে ম্যাচজুড়ে থাকে অনিশ্চয়তা—কবে, কখন, কে জ্বলে উঠবেন- তা বলা যায় না। এমন বাস্তবতায় সমালোচনা আর ট্রল যেন সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেটারদের। এসব বাস্তবতা মেনেই বাংলাদেশের সহকারী কোচ সালাউদ্দিন বললেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে হলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের দেশে ক্রিকেট খেলতে হলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে, এটাই স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা অনেক উপভোগ করে ক্রিকেটকে। ব্যর্থ হলেও তাদের জন্য অনেক অপশন থাকে। তারা অন্য একটা চাকরি করতে পারে। চাকরি না করলেও সরকার তাকে বেকার ভাতা দেবে। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের ঐ অবস্থা নেই। তাদের ওপরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত কিছু চাপ চলেই আসে। কারণ দলে থাকা হবে কিনা, দলের বাইরে গেলে কীভাবে পরিবার চালাতে হবে, সবকিছু চলেই আসে। এই ছেলেরা কোনও চাকরিও করতে পারবে না। সুতরাং ক্রিকেটটাই তাদের সব।’

যদিও সালাউদ্দিন দাবি করছেন, এখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা। লিটন-মিরাজরা যেন ক্রিকেটকে চাপ না ভেবে উপভোগের মন্ত্রে খেলতে পারে সেটাই আশা সালাউদ্দিনের, ‘এখন থেকে বের হওয়া চেষ্টা করছি। কারণ আমাদের বের হতেই হবে। ছেলেরা যেন ক্রিকেট উপভোগ করে, তাদের মানসিকতা যেন উন্নত হয়, সেই চেষ্টাই করছি। একটা ছোটখাটো ব্যাপারে তাদের ওপর চাপ আসতে পারে। হয়তো একটা লেখার কারণেই চাপ আসতে পারে। এগুলো থেকে ক্রিকেটারদের বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের শিখতে হবে। ’

লিটনের উদহারণ দিতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে লিটনকে যখন আমি সামনাসামনি দেখি বা কথা বলি, সে অনেক গভীর চিন্তা করে। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটা বেশি জরুরি। মাঝেমধ্যে হয়তো একটু দুশ্চিন্তাও করে। সেটা করলে খেলাটা খুব বেশি উপভোগ করা যায় না। এই কারণে তার পারফরম্যান্স মাঝেমাঝে খারাপ হয়। এখান থেকেও সে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো অধিনায়কত্ব করবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্বার্থপর ক্রিকেট খেলার অভিযোগ পুরনো। যেখানে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা প্রয়োজন, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই করতে পারে না। বক্তিগত অর্জনের জন্য লড়তে দেখা যায় প্রায়ই। যদিও বাংলাদেশের সহকারী কোচের দাবি ভিন্ন, ‘প্রত্যেকে দলের জন্য খেলে। বোর্ডে যখন রান থাকে না, ২ উইকেট পড়ে গেছে, তখন চাইলেও স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায় না। যদিও সেটি চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে অনেক সময় হাত খুলে খেলতে দেয় না। সে যখন তিন নম্বর পজিশনে খেলেছে তখন চাপমুক্ত খেলতে পারতো, পাওয়ারপ্লেটা ব্যবহার করতে পারতো। যখনই চারে নামে তখন দেখা যায় ২ উইকেট নেই পাওয়ার প্লের পরে। তখন চাইলেও তার স্বাভাবিক খেলা দিতে পারে না। ’

যদিও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা জানালেন সালাউদ্দিন, ‘হয়তো মানিয়ে নিতে নিতে সে অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে, ঐখানেও (চার নম্বরে) কী করে স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায়। এ কারণেই তার খেলাটা হয়তো একটু পরিবর্তিত হয়ে যায়, আমরাও চেষ্টা করছি সে যেন স্বাভাবিক খেলতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে একটু আগ্রাসী হতেই হবে।’

সালাউদ্দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের তুলনা দিয়েছেন। অথচ আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যেখানে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নতির ধারায় এগিয়ে চলেছে। সেখানে বাংলাদেশে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নেই। আছে ঘরোয়া লিগ, বিদেশি কোচ, বয়সভিত্তিক দল—তবু জাতীয় দলে এসেই অধিকাংশ ক্রিকেটার সময় নেন। ব্যর্থতার পর উঠে আসে ‘শেখার’গল্প।  তাই প্রশ্ন উঠেছে, আর কতদিন চলবে এই শেখার অধ্যায়? আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো শেখার জায়গা নয়, প্রমাণের মঞ্চ। সেখানে বারবার সময় চাওয়া মানে দায় এড়ানো।

ক্রিড়া প্রতিবেদক

১৬ জুলাই, ২০২৫,  5:04 PM

news image

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা তৈরি হয়েই দলে আসেন। এসেই পারফর্ম করেন। মাঝে মধ্যে অফফর্মে পড়লেও তাদের পারফরম্যান্সে থাকে ধারাবাহিকতার ছাপ। কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটা ঠিক উল্টো। বয়সভিত্তিক কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্যুতি ছড়িয়ে জাতীয় দলে ঢোকা ক্রিকেটারদের অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফর্ম করতে সময় নেন। আর যেটুকু পারফরম্যান্স আসে, তাও হয় ভীষণ অধারাবাহিক।  ফলে ম্যাচজুড়ে থাকে অনিশ্চয়তা—কবে, কখন, কে জ্বলে উঠবেন- তা বলা যায় না। এমন বাস্তবতায় সমালোচনা আর ট্রল যেন সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেটারদের। এসব বাস্তবতা মেনেই বাংলাদেশের সহকারী কোচ সালাউদ্দিন বললেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলতে হলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের দেশে ক্রিকেট খেলতে হলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে, এটাই স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা অনেক উপভোগ করে ক্রিকেটকে। ব্যর্থ হলেও তাদের জন্য অনেক অপশন থাকে। তারা অন্য একটা চাকরি করতে পারে। চাকরি না করলেও সরকার তাকে বেকার ভাতা দেবে। আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের ঐ অবস্থা নেই। তাদের ওপরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত কিছু চাপ চলেই আসে। কারণ দলে থাকা হবে কিনা, দলের বাইরে গেলে কীভাবে পরিবার চালাতে হবে, সবকিছু চলেই আসে। এই ছেলেরা কোনও চাকরিও করতে পারবে না। সুতরাং ক্রিকেটটাই তাদের সব।’

যদিও সালাউদ্দিন দাবি করছেন, এখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটাররা। লিটন-মিরাজরা যেন ক্রিকেটকে চাপ না ভেবে উপভোগের মন্ত্রে খেলতে পারে সেটাই আশা সালাউদ্দিনের, ‘এখন থেকে বের হওয়া চেষ্টা করছি। কারণ আমাদের বের হতেই হবে। ছেলেরা যেন ক্রিকেট উপভোগ করে, তাদের মানসিকতা যেন উন্নত হয়, সেই চেষ্টাই করছি। একটা ছোটখাটো ব্যাপারে তাদের ওপর চাপ আসতে পারে। হয়তো একটা লেখার কারণেই চাপ আসতে পারে। এগুলো থেকে ক্রিকেটারদের বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের শিখতে হবে। ’

লিটনের উদহারণ দিতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে লিটনকে যখন আমি সামনাসামনি দেখি বা কথা বলি, সে অনেক গভীর চিন্তা করে। একজন অধিনায়ক হিসেবে এটা বেশি জরুরি। মাঝেমধ্যে হয়তো একটু দুশ্চিন্তাও করে। সেটা করলে খেলাটা খুব বেশি উপভোগ করা যায় না। এই কারণে তার পারফরম্যান্স মাঝেমাঝে খারাপ হয়। এখান থেকেও সে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো অধিনায়কত্ব করবে।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্বার্থপর ক্রিকেট খেলার অভিযোগ পুরনো। যেখানে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা প্রয়োজন, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই করতে পারে না। বক্তিগত অর্জনের জন্য লড়তে দেখা যায় প্রায়ই। যদিও বাংলাদেশের সহকারী কোচের দাবি ভিন্ন, ‘প্রত্যেকে দলের জন্য খেলে। বোর্ডে যখন রান থাকে না, ২ উইকেট পড়ে গেছে, তখন চাইলেও স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায় না। যদিও সেটি চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে অনেক সময় হাত খুলে খেলতে দেয় না। সে যখন তিন নম্বর পজিশনে খেলেছে তখন চাপমুক্ত খেলতে পারতো, পাওয়ারপ্লেটা ব্যবহার করতে পারতো। যখনই চারে নামে তখন দেখা যায় ২ উইকেট নেই পাওয়ার প্লের পরে। তখন চাইলেও তার স্বাভাবিক খেলা দিতে পারে না। ’

যদিও কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টার কথা জানালেন সালাউদ্দিন, ‘হয়তো মানিয়ে নিতে নিতে সে অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে, ঐখানেও (চার নম্বরে) কী করে স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায়। এ কারণেই তার খেলাটা হয়তো একটু পরিবর্তিত হয়ে যায়, আমরাও চেষ্টা করছি সে যেন স্বাভাবিক খেলতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে একটু আগ্রাসী হতেই হবে।’

সালাউদ্দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের তুলনা দিয়েছেন। অথচ আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যেখানে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মাঝেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উন্নতির ধারায় এগিয়ে চলেছে। সেখানে বাংলাদেশে সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নেই। আছে ঘরোয়া লিগ, বিদেশি কোচ, বয়সভিত্তিক দল—তবু জাতীয় দলে এসেই অধিকাংশ ক্রিকেটার সময় নেন। ব্যর্থতার পর উঠে আসে ‘শেখার’গল্প।  তাই প্রশ্ন উঠেছে, আর কতদিন চলবে এই শেখার অধ্যায়? আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো শেখার জায়গা নয়, প্রমাণের মঞ্চ। সেখানে বারবার সময় চাওয়া মানে দায় এড়ানো।