নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই, ২০২৫, 5:23 PM
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাকে "মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়" উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিল পূর্বক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন, "মানবিক বিপর্যয়ের সময় এখন রাজনৈতিক চর্চা পরিহার করে আমাদের সকলের উচিত মানবিকতা প্রদর্শন করা।"
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের পর হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসাবে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবি
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, "প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে স্কুলের অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছে। আর অগণিত শিক্ষার্থী অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের সুচিকিৎসা দরকার।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্র তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে যারা এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতালে ভিড় এড়ানোর আহ্বান ও তথ্য প্রকাশের তাগিদ
আলোচনায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, "আমাদের সকলের উচিত এখন হাসপাতাল এড়িয়ে চলা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, চিকিৎসকরা বারণ করার পরও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছে। এতে করে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা বাচ্চাগুলোর ইনফেকশন হয়ে জীবনহানির শঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের একান্তই প্রয়োজন, শুধু তাদের উচিত হাসপাতালে যাওয়া। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে হাসপাতালমুখী হওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের সকলের দায়িত্ব।"
হাওলাদার আরও বলেন, "দুর্ঘটনায় নিহতদের নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর উচিত, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা। একই সঙ্গে যারা আহত হয়েছেন তাদেরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা জরুরি।"
তিনি যোগ করেন, "স্কুলের ওপর বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে জাতীয় জীবনে মানবিক বিপর্যয়। জাতীয় পার্টি পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। দুর্ঘটনার পর, বিমানের পাইলট, স্কুলের শিক্ষক বিশেষ করে অগণিত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই তাদের তার শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন। যারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের এখন সুচিকিৎসা দরকার। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাবো, প্রয়োজন হলে আহতদের বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হোক। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।" তিনি জানান, ইতিমধ্যে তারা তাদের পার্টির নেতাকর্মীদের আহতদের রক্ত দিয়ে সাহায্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরাতন বিমান ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, "যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি অনেক পুরনো। এ ধরনের ঘটনা আরও বেশ কয়েকবার ঘটেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো, যে প্রশিক্ষণ বিমানগুলো আমরা ব্যবহার করছি, সেগুলো ব্যবহার উপযোগী কিনা তা ভেবে দেখার।" একইসঙ্গে রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ আদৌ কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার জন্য সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আরও অংশগ্রহণ করেন সাবেক এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির নেতা সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাবেক এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আক্তার, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মাসরুর মওলা, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, হারুন আর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আমানত হোসেন আমানত, শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. বেলাল হোসেন, ফখরুল আহসান শাহজাদা, সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাত, শারমিন পারভীন লিজা, আনিসুর রহমান বাবু, মাশুক আহমেদ, শাহনাজ পারভীন, এবং শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুলাই, ২০২৫, 5:23 PM
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাকে "মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়" উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হাওলাদার টাওয়ারে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিল পূর্বক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে বলেন, "মানবিক বিপর্যয়ের সময় এখন রাজনৈতিক চর্চা পরিহার করে আমাদের সকলের উচিত মানবিকতা প্রদর্শন করা।"
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের পর হতাহতের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসাবে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের দাবি
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরও বলেন, "প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে স্কুলের অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছে। আর অগণিত শিক্ষার্থী অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের সুচিকিৎসা দরকার।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্র তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে যারা এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
হাসপাতালে ভিড় এড়ানোর আহ্বান ও তথ্য প্রকাশের তাগিদ
আলোচনায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, "আমাদের সকলের উচিত এখন হাসপাতাল এড়িয়ে চলা। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, চিকিৎসকরা বারণ করার পরও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছে। এতে করে বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা বাচ্চাগুলোর ইনফেকশন হয়ে জীবনহানির শঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের একান্তই প্রয়োজন, শুধু তাদের উচিত হাসপাতালে যাওয়া। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে হাসপাতালমুখী হওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের সকলের দায়িত্ব।"
হাওলাদার আরও বলেন, "দুর্ঘটনায় নিহতদের নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর উচিত, যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের তালিকা প্রকাশ করা। একই সঙ্গে যারা আহত হয়েছেন তাদেরও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা জরুরি।"
তিনি যোগ করেন, "স্কুলের ওপর বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে জাতীয় জীবনে মানবিক বিপর্যয়। জাতীয় পার্টি পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। দুর্ঘটনার পর, বিমানের পাইলট, স্কুলের শিক্ষক বিশেষ করে অগণিত কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। মহান সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই তাদের তার শ্রেষ্ঠতম স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন। যারা অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন রয়েছে, তাদের এখন সুচিকিৎসা দরকার। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাবো, প্রয়োজন হলে আহতদের বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হোক। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।" তিনি জানান, ইতিমধ্যে তারা তাদের পার্টির নেতাকর্মীদের আহতদের রক্ত দিয়ে সাহায্য করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরাতন বিমান ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, "যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি অনেক পুরনো। এ ধরনের ঘটনা আরও বেশ কয়েকবার ঘটেছে। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাবো, যে প্রশিক্ষণ বিমানগুলো আমরা ব্যবহার করছি, সেগুলো ব্যবহার উপযোগী কিনা তা ভেবে দেখার।" একইসঙ্গে রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণ আদৌ কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার জন্য সরকার ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে আরও অংশগ্রহণ করেন সাবেক এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির নেতা সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাবেক এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আক্তার, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, মাসরুর মওলা, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আরিফুর রহমান খান, সরদার শাহজাহান, হারুন আর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, আমানত হোসেন আমানত, শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. বেলাল হোসেন, ফখরুল আহসান শাহজাদা, সেকান্দার আলী সেরনিয়াবাত, শারমিন পারভীন লিজা, আনিসুর রহমান বাবু, মাশুক আহমেদ, শাহনাজ পারভীন, এবং শারফুদ্দিন আহমেদ শিপু।