আব্দুল লতিফ রানা
৩১ জুলাই, ২০২৫, 3:38 PM
বাংলাদেশ এক্সটা মোহরার বা নকলনবীস এসোসিয়েশনের সাবেক সহ সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম হেমায়ায়েত উদ্দিনকে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে মৃত দেখানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ঘটনায় দেশের সকল মোহরার বা নকল নবীসদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে। এই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা পত্রে যাদের সই স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেই গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ৬ নং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারগণ জানিয়েছেন, উক্ত মৃত্যুর সনদটি উল্লেখিত মামলার আসামি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে থাকতে পারেন। অপরদিকে উল্লেখিত জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে মৃত্যুর সনদ এর বিষয়টি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তেও জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
জানা গেছে, নকলনবীস মো. রফিকুল ইসলাম শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের গাইবান্ধা ফুলছড়ি উজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আর সেই পদের প্রভাব খাটিয়ে সারাদেশের নকলনবীসদের টতস্থ রাখতেন এবং এসোসিয়েশনে পদ আকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। পতিত সরকারের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উবায়দুল কাদের মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাহজাহান খানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় নকল নবীসদের উপর জুলুম নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। এসব জুলুম নির্যাতনের কারণে নকল নবীস এম. এম. হেমায়েত উদ্দিন আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার আসামি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের স্বাক্ষর জাল করে মামলার বাদিকে মৃত দেখিলে তার মৃত্যুর সনদ আদালতে দাখিল করেন। এরপর ওই মামলার বাদি আদালতে হাজির হয়ে উক্ত মৃত্যুর সনদ জাল বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগে আদালতে সিআর মামলা নম্বর-১২৮৪/২০১৯ (পল্টন) দায়ের করেন। ওই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) এর স্বারক নম্বর পিবিআই/ ২০১৯/৪০৭২ এর ক্রমিক নম্বর ৬৪৮ তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। মামলার সূত্রে জানা গেছে, নকলনবীস মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ প্রথম শ্রম-আদালত ঢাকায় বি.এল এর মামলা নম্বর ৮৮৯/২০১৮ দায়ের করেন নকলনবীস মো. হেমায়েত উদ্দিন। উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মো. রফিকুল ইসলাম যাতে নকলনবীস এসোসিয়েশন এর সভাপতি দাবি করতে না পারেন। সেজন্য একটি অন্তবর্তীকালীণ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন তিনি। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে আদালত গত ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মঞ্জুর করেন। এরপর মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলাম আইনজীবীর মাধ্যমে উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে একই বছরের ৫ নভেম্বর শুনানীর দিন ধার্য করেন। উক্ত শুনানীর দিন তিনি তার আইজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলার বাদি এম. এম. হেমায়েত উদ্দিনকে মৃত দেখিয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তারই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের স্বাক্ষর জাল করে মৃত্যুর সনদ উপস্থাপন করেন।
ওই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদি মো. হেমায়েত উদ্দিন ও আসামি মো. রফিকুল ইসলাম এর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে সাংগঠনিক কমিটির বৈধতা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হেমায়েতের সঙ্গে কোন প্রকার সুবিধা করতে পারেননি। ফলে উপায়ন্তর না পেয়ে আসামি রফিকুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবীস) এসোসিয়েশন এর গঠনতন্ত্রের ৪ নম্বর ধারা একই লাইন (এস এ টি মোহরার টি. সি. মোহরার, মোহরার সহকারী প্রধান সহকারী) গোপন করে। আর সেই অনুসারে মো. রফিকুল ইসলাম নিজেকে সংগঠনের সভাপতি দাবি করে। আর তিনি সারা দেশে অবৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। আর এর বিরুদ্ধে মো. হেমায়েত উদ্দিন আদালতে বি.এল এ অভিযোগ মামলা নং ৮৮৯/২০১৮ দায়ের করেন। মামলায় আরো যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন, মো. শাহাব উদ্দিন, মো. মাসুদ রানা, মো. আজিুর রহমান, চেয়ারম্যান ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান, সদ মো. নরুল ইসলাম।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর আদালত প্রথম শ্রম আদালত ঢাকায় শুনানি শেষে আদালত হতে নেমে যাওয়ার সময় রাজধানীর মতিঝিলস্থ কর্মস্থান ব্যাংক এর পূর্বপাশ্বের রাস্তায় মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন বাদী হেমায়েত উদ্দিনকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এসময় তাকে কুলি ঘুষি ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
উল্লেখিত নকলনবীস মো. হেমায়েত উদ্দিন এর মৃত্যুর সনদ এর বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ৬নং এরেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিুর রহমান ও মেম্বার মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব বাংলাদেশ (পিবিআই) এর তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাকে জানিয়ে দিয়েছি, এধরণের মৃত্যুর সনদ দেওয়ার কোন প্রকার প্রমান আমাদের এখানে নেই। আর আমরা কোন নকলনবীস মৃত্যুর সনদ প্রদান করি নাই। তাই উল্লেখিত মৃত্যুর সনদটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরা করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলামের বাবার নাম মো. আব্দুল কাইয়ূম সরকার, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি জিগাবাড়ী গ্রামের তাদের বাড়ি। অপরদিকে মামলার বাদির বাড়ি পাশের ইউনিয়নে হলেও আসামি নিজের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত মৃত্যুর সনদ আদালতে দাখিল করেছেন।
বিভিন্ন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. রফিকুল ইসলাম আওয়ামী সরকারের সময়কার সাবেক একজন হুইপের ভাতিজা পরিচয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় পদ নিয়ে বিভিন্ন লোকজনের মাঝে প্রভাব খাটাতেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের প্রভাব খাটিয়ে এবং স্বঘোষিত সভাপতি পরিচয়ে নকলনবীসসহ কর্মচারী নিয়োগের নামে সারাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব ব্যক্তিদের কারো কারো চাকুরী দিয়েছেন। আবার এখনো অনেক ব্যক্তির চাকরি দিতে পারেন নাই। গত পনেব বছরে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম- স্বঘোষিত সভাপতি পরিচয়ে সংগঠনটির ১৬ হাজার ৩৪৫ জন সদস্যের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। আর এর প্রতিবাদ করায় অনেক নকল নবীসকে নানা ধরণে হয়রানী ও হুমকি ধামকি দিয়েছে। আবার নকল-নবিস গত আওয়ামী লীগের সময়ে নানা অনিয়মের নকল-নবিশ নিয়োগ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, রফিকুল ইসলাম মামলার বাদিকে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দিয়ে তাকে মারপিক করে তাকে জখম করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তিনি ১৯৩/৩২৩/৫০৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আর মো. শাহাব উদ্দিন বাদিকে মারধর করে হুমকি দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি মাসুদ রানা সহ অন্যান্য আসামিরা মামলার বাদী মৃত্যুর সনদ তৈরীর সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখিত ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার বাদি মো. রফিকুল ইসলামের সেল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
আব্দুল লতিফ রানা
৩১ জুলাই, ২০২৫, 3:38 PM
বাংলাদেশ এক্সটা মোহরার বা নকলনবীস এসোসিয়েশনের সাবেক সহ সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম হেমায়ায়েত উদ্দিনকে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে মৃত দেখানোর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ঘটনায় দেশের সকল মোহরার বা নকল নবীসদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে। এই জাল জালিয়াতির মাধ্যমে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা পত্রে যাদের সই স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেই গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ৬ নং এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারগণ জানিয়েছেন, উক্ত মৃত্যুর সনদটি উল্লেখিত মামলার আসামি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজন করে থাকতে পারেন। অপরদিকে উল্লেখিত জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে মৃত্যুর সনদ এর বিষয়টি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর তদন্তেও জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
জানা গেছে, নকলনবীস মো. রফিকুল ইসলাম শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের গাইবান্ধা ফুলছড়ি উজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আর সেই পদের প্রভাব খাটিয়ে সারাদেশের নকলনবীসদের টতস্থ রাখতেন এবং এসোসিয়েশনে পদ আকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। পতিত সরকারের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উবায়দুল কাদের মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাহজাহান খানসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে ছবি তুলে তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী কায়দায় নকল নবীসদের উপর জুলুম নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। এসব জুলুম নির্যাতনের কারণে নকল নবীস এম. এম. হেমায়েত উদ্দিন আদালতে মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার আসামি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরন্ডাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের স্বাক্ষর জাল করে মামলার বাদিকে মৃত দেখিলে তার মৃত্যুর সনদ আদালতে দাখিল করেন। এরপর ওই মামলার বাদি আদালতে হাজির হয়ে উক্ত মৃত্যুর সনদ জাল বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগে আদালতে সিআর মামলা নম্বর-১২৮৪/২০১৯ (পল্টন) দায়ের করেন। ওই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) এর স্বারক নম্বর পিবিআই/ ২০১৯/৪০৭২ এর ক্রমিক নম্বর ৬৪৮ তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। মামলার সূত্রে জানা গেছে, নকলনবীস মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ প্রথম শ্রম-আদালত ঢাকায় বি.এল এর মামলা নম্বর ৮৮৯/২০১৮ দায়ের করেন নকলনবীস মো. হেমায়েত উদ্দিন। উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মো. রফিকুল ইসলাম যাতে নকলনবীস এসোসিয়েশন এর সভাপতি দাবি করতে না পারেন। সেজন্য একটি অন্তবর্তীকালীণ নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন তিনি। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে আদালত গত ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর মঞ্জুর করেন। এরপর মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলাম আইনজীবীর মাধ্যমে উক্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে একই বছরের ৫ নভেম্বর শুনানীর দিন ধার্য করেন। উক্ত শুনানীর দিন তিনি তার আইজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলার বাদি এম. এম. হেমায়েত উদ্দিনকে মৃত দেখিয়ে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তারই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের স্বাক্ষর জাল করে মৃত্যুর সনদ উপস্থাপন করেন।
ওই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মামলার বাদি মো. হেমায়েত উদ্দিন ও আসামি মো. রফিকুল ইসলাম এর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে সাংগঠনিক কমিটির বৈধতা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলাম হেমায়েতের সঙ্গে কোন প্রকার সুবিধা করতে পারেননি। ফলে উপায়ন্তর না পেয়ে আসামি রফিকুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার (নকল নবীস) এসোসিয়েশন এর গঠনতন্ত্রের ৪ নম্বর ধারা একই লাইন (এস এ টি মোহরার টি. সি. মোহরার, মোহরার সহকারী প্রধান সহকারী) গোপন করে। আর সেই অনুসারে মো. রফিকুল ইসলাম নিজেকে সংগঠনের সভাপতি দাবি করে। আর তিনি সারা দেশে অবৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। আর এর বিরুদ্ধে মো. হেমায়েত উদ্দিন আদালতে বি.এল এ অভিযোগ মামলা নং ৮৮৯/২০১৮ দায়ের করেন। মামলায় আরো যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন, মো. শাহাব উদ্দিন, মো. মাসুদ রানা, মো. আজিুর রহমান, চেয়ারম্যান ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান, সদ মো. নরুল ইসলাম।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর আদালত প্রথম শ্রম আদালত ঢাকায় শুনানি শেষে আদালত হতে নেমে যাওয়ার সময় রাজধানীর মতিঝিলস্থ কর্মস্থান ব্যাংক এর পূর্বপাশ্বের রাস্তায় মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম ও তার লোকজন বাদী হেমায়েত উদ্দিনকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। এসময় তাকে কুলি ঘুষি ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
উল্লেখিত নকলনবীস মো. হেমায়েত উদ্দিন এর মৃত্যুর সনদ এর বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ৬নং এরেন্ডাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিুর রহমান ও মেম্বার মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এই জালিয়াতির ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব বাংলাদেশ (পিবিআই) এর তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাকে জানিয়ে দিয়েছি, এধরণের মৃত্যুর সনদ দেওয়ার কোন প্রকার প্রমান আমাদের এখানে নেই। আর আমরা কোন নকলনবীস মৃত্যুর সনদ প্রদান করি নাই। তাই উল্লেখিত মৃত্যুর সনদটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরা করা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। মামলার আসামি মো. রফিকুল ইসলামের বাবার নাম মো. আব্দুল কাইয়ূম সরকার, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি জিগাবাড়ী গ্রামের তাদের বাড়ি। অপরদিকে মামলার বাদির বাড়ি পাশের ইউনিয়নে হলেও আসামি নিজের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত মৃত্যুর সনদ আদালতে দাখিল করেছেন।
বিভিন্ন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. রফিকুল ইসলাম আওয়ামী সরকারের সময়কার সাবেক একজন হুইপের ভাতিজা পরিচয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় পদ নিয়ে বিভিন্ন লোকজনের মাঝে প্রভাব খাটাতেন। সাব রেজিস্ট্রি অফিসের প্রভাব খাটিয়ে এবং স্বঘোষিত সভাপতি পরিচয়ে নকলনবীসসহ কর্মচারী নিয়োগের নামে সারাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব ব্যক্তিদের কারো কারো চাকুরী দিয়েছেন। আবার এখনো অনেক ব্যক্তির চাকরি দিতে পারেন নাই। গত পনেব বছরে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম- স্বঘোষিত সভাপতি পরিচয়ে সংগঠনটির ১৬ হাজার ৩৪৫ জন সদস্যের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। আর এর প্রতিবাদ করায় অনেক নকল নবীসকে নানা ধরণে হয়রানী ও হুমকি ধামকি দিয়েছে। আবার নকল-নবিস গত আওয়ামী লীগের সময়ে নানা অনিয়মের নকল-নবিশ নিয়োগ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, রফিকুল ইসলাম মামলার বাদিকে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দিয়ে তাকে মারপিক করে তাকে জখম করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তিনি ১৯৩/৩২৩/৫০৬ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আর মো. শাহাব উদ্দিন বাদিকে মারধর করে হুমকি দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি মাসুদ রানা সহ অন্যান্য আসামিরা মামলার বাদী মৃত্যুর সনদ তৈরীর সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখিত ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার বাদি মো. রফিকুল ইসলামের সেল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।