CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

শঙ্কার মাঝে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন

#
news image

সকল রাজনৈতি দলের মধ্যে নির্বাচনি আমেজ লক্ষ্য করা গেলেও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে এ নিয়ে। আর বিভিন্ন মহলে চলছে কানাঘুষা এসব বিষয় নিয়ে। সম্প্রতি এক জামায়ত নেতার বক্তব্যে শঙ্কা আরো ঘনিভূত হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, বিশেষ কিছু সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না। 
তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ হয়েছে এবং শুনানির দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। আসনভিত্তিক সংক্ষুব্ধ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে কমিশনের কাছে। ‘আমাদের মূল বিষয় ছিল সীমানা নির্ধারণ নিয়ে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের আগে তাদের দাবি ও শর্তগুলো নিশ্চিত করার দাবি জানায় দলটি। নয় তো এবারও ভালো নির্বাচন হবে না। আইনশৃঙ্খলা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও উৎসবমুখর ভোট নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আসেনি। আমরা অন্যান্য দাবির সঙ্গে জোরালোভাবে বলেছি সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। কমিশন বলেছে তারা কাজ করছে।’

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, ‘আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চলতি বছরের ডিসেম্বরে হলেও জামায়াতের আপত্তি নেই।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য যে শর্ত এবং দাবিগুলো আমরা দিয়েছি এগুলো এনসিওর করে নির্বাচনে যেতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই ঘোষণাপত্র ৫ আগস্টের আগে দিতে হবে। এমন জল্পনা কল্পনাও ছিল যে, এটি হয়তবা আরও পরে দেয়া হবে, আদৌ হচ্ছে কি-না তার নিশ্চয়তা নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর একটা স্নায়ু চাপ ছিল জুলাই ঘোষণাপত্র না আসলে ছাত্ররা কোনো কিছুই মানবে না। মাঠে স্পস্টই আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল যে, জুলাই সনদ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি’র কারণে এটি যথাসময়ে হচ্ছে না। কিন্তু শেষ মেষ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করা হলে পরিস্থিতি একধরনের ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। এ সময় এনসিপি’র শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম একে স্বাগতও জানান। আর এমনটাও চেয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনিও চান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন করলে তার তোড়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে বসে প্রধান উপদেষ্টা চেয়েছেন যে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি হোক। ফলে এটি হওয়ার পর বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলও অভিনন্দন জানায়। যদিও এনসিপির একটি শক্ত অংশ অভিমান করে জুলাই ঘোষণার দিন ঢাকায় না থেকে সাগর পাড়ে ভাবতে গিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বের হয়। কিন্তু এনিয়ে এখনো নানান ধরনের সন্দেহের ডালপালা মেলে আছে। তবে ঘোষণা পত্রকে ইতিবাচক নিয়ে ওইদিন রাতে প্রধান উপদেষ্টা জাতী উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে মাঠের রাজনৈতিক দলকে একটি আশ্বস্ত বার্তা দেন। এদিকে রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনী ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে বিএনপি’তে স্বস্তি দেখা যায়। বলা হয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। কিন্তু একথাও ঠিক যে জুলাই ঘোষণাপত্রকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক প্রহসন উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন গণঅভ্যুত্থানের ৬০ ছাত্রনেতা। এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করেন তারা। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনের টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না এ প্রশ্নে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সবার মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। মূলত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী মন্তব্য-সমালোচনায় উত্তেজনার পারদ আরও চরমে। অবশ্য কোনো কোনো দল অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। এরই মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও শঙ্কা বাড়ছে, তবে সাধারণ মানুষ এখনো আশাবাদী যে, সব রাজনৈতিক দল আলোচনায় বসবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হবে। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের চাকরিজীবী পর্যন্ত অনেকেই চান, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরুক।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও ঐকমত্য নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি না হলে ভোটে অনাগ্রহ বাড়বে এবং সহিংসতার ঝুঁকি থেকে যাবে। সাধারণ ভোটাররা আশঙ্কা করছেন, যথাসময়ে নির্বাচন না হলে অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও সমঝোতার বিকল্প নেই।
এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাপত্র পাঠের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি মনে করি, জুলাইয়ের যে আকাংক্ষা এই ঘোষণাপত্রে সেটার তেমন কোনো প্রতিফলন হয়নি। একটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আমরা দেখেছি। ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। পরে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ আগস্টের পরিবর্তে কর্মসূচিটি আগামী ১৩ আগস্ট (বুধবার) একই সময়ে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মাঠে নামা অনেকের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কারো কারো মতে, দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের আগে নির্বাচন নয় এমন দাবিতে মাঠ ঘোলা করতে না পেরে ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দলটি মাঠ দখল নিতে চায়। এবং নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে ফেলতে চায়। কারো কারো আশঙ্কা জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের ওই দিনে অর্থাৎ ৫ আগস্টের রাতে কি এজন্যই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দেয়া ভাষণের একটি অংশে বলেছিলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়’। এজন্য কি প্রধান উপদেষ্টার আশঙ্কার কয়েকদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন নির্বাচনের আগে কিন্তু দেশে অনেক গন্ডগোল হবে। তিনি জাতীয় নির্বাচন বানচালে দেশে অনেক গন্ডগোলের আশঙ্কাও করেন। অন্যদিকে বিএনপি’র আরেক নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র যারা করছেন, তাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।

জানা গেছে, মাঠে হাতে গোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মনে করে এতো দ্রুত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষতি। তারা শুরুতেই বেশ কয়েকটি ফর্মূলা নিয়ে এগুতে চেয়েছিল। প্রথমে জাতীয় সরকার। ধারণা ছিল জাতীয় সরকার গঠন করা গেলে তারা ধীরে ধীরে প্রশাসনে শক্ত অবস্থান নিয়ে নেবে। কারণ তাদের অনেক নেতাকর্মী পরিচয় লুকিয়ে আওয়ামী লীগের সহায়তায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাকরি নিয়ে নেয়। এখন অবস্থার পরিবর্তনে দেনদরবার করে এসব আস্থাভাজন কর্মকর্তা কর্মচারিদের জায়গা মতা আসীন করে তারপরে নির্বাচন দিলে তাতে কিছুটা ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দলের শক্ত অবস্থান থেকে এধরনের গোপন মতলব নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা হয়। ফলে ওই রাজনৈতিক দলটির জাতীয় সরকার গঠন করার চক্রান্ত বাতিল হয়ে যায়। এরপর শুরু করে তারা দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের নামে প্রশাসন দখলের। যেভাবে অতীতে প্রশাসনকে কবজা করে আওয়ামী লীগের শাসনামলকে দীর্ঘমেয়াদী করেছিল। কিন্তু জানা গেছে বর্তমানে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে এতেও বিপত্ত বাধে। প্রশাসনকে কুক্ষিগত করা থেকে ব্যর্থ হয়ে দলটি এখন শুরু করেছে ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এতে দলটি হালে পানি পায়নি বা শক্ত ভিত পাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি ওই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একটি গোপন গবেষণার খবর পাওয়া গেছে। এতে তারা দেখেছে অতি সুন্দরভাবে একটি নির্বাচন হলেও দলটি ২০টি বেশি আসনে জয়ী হতে পারবে না। আর এজন্য নতুন ফর্দ নিয়ে তারা মাঠে নেমে নির্বাচন বানচালসহ দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলতে পরিকল্পনা নিয়েছে। আর একাজে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামাতে তারা এবার নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যকরের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এর পাশাপাশি ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ কয়েকটি দফা নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। 
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ নেতারা। ১১ আগস্ট সোমবার বিকেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর কয়েকদিন আগে জুলাই ঘোষণা পত্র উপস্থাপনের পরের দিনই খোদ লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। চলতি বছরের গত জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশে ঐ রাজনৈতিক দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। আর এসব কারণ মিলিয়ে কারো কারো আশঙ্কা সামনের দিনে সার্বিক অবস্থা ঘোলাটে করে নির্বাচন আরও পিছিয়ে নেয়াসহ এমনকি ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলার পরিস্থিতি তৈরিতে তৎপর হতে পারে। 
এদিকে নির্বাচন নিয়ে শংকার মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য ছুঁড়ে দিলেন জাতীয় নাগরিক পাটি(এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হবে না। এখন দেখা যাক আসলেই সামনের দিনগুলি কোন দিকে যায়।

 

ইউসুফ আলী বাচ্চু

২৩ আগস্ট, ২০২৫,  6:10 PM

news image

সকল রাজনৈতি দলের মধ্যে নির্বাচনি আমেজ লক্ষ্য করা গেলেও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে এ নিয়ে। আর বিভিন্ন মহলে চলছে কানাঘুষা এসব বিষয় নিয়ে। সম্প্রতি এক জামায়ত নেতার বক্তব্যে শঙ্কা আরো ঘনিভূত হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, বিশেষ কিছু সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না। 
তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ হয়েছে এবং শুনানির দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। আসনভিত্তিক সংক্ষুব্ধ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে কমিশনের কাছে। ‘আমাদের মূল বিষয় ছিল সীমানা নির্ধারণ নিয়ে।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের আগে তাদের দাবি ও শর্তগুলো নিশ্চিত করার দাবি জানায় দলটি। নয় তো এবারও ভালো নির্বাচন হবে না। আইনশৃঙ্খলা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও উৎসবমুখর ভোট নিয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আসেনি। আমরা অন্যান্য দাবির সঙ্গে জোরালোভাবে বলেছি সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। কমিশন বলেছে তারা কাজ করছে।’

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে কী কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, ‘আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চলতি বছরের ডিসেম্বরে হলেও জামায়াতের আপত্তি নেই।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য যে শর্ত এবং দাবিগুলো আমরা দিয়েছি এগুলো এনসিওর করে নির্বাচনে যেতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই ঘোষণাপত্র ৫ আগস্টের আগে দিতে হবে। এমন জল্পনা কল্পনাও ছিল যে, এটি হয়তবা আরও পরে দেয়া হবে, আদৌ হচ্ছে কি-না তার নিশ্চয়তা নেই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর একটা স্নায়ু চাপ ছিল জুলাই ঘোষণাপত্র না আসলে ছাত্ররা কোনো কিছুই মানবে না। মাঠে স্পস্টই আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল যে, জুলাই সনদ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি’র কারণে এটি যথাসময়ে হচ্ছে না। কিন্তু শেষ মেষ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করা হলে পরিস্থিতি একধরনের ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। এ সময় এনসিপি’র শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম একে স্বাগতও জানান। আর এমনটাও চেয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনিও চান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন করলে তার তোড়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে বসে প্রধান উপদেষ্টা চেয়েছেন যে একটি ঘোষণাপত্র তৈরি হোক। ফলে এটি হওয়ার পর বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলও অভিনন্দন জানায়। যদিও এনসিপির একটি শক্ত অংশ অভিমান করে জুলাই ঘোষণার দিন ঢাকায় না থেকে সাগর পাড়ে ভাবতে গিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বের হয়। কিন্তু এনিয়ে এখনো নানান ধরনের সন্দেহের ডালপালা মেলে আছে। তবে ঘোষণা পত্রকে ইতিবাচক নিয়ে ওইদিন রাতে প্রধান উপদেষ্টা জাতী উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে মাঠের রাজনৈতিক দলকে একটি আশ্বস্ত বার্তা দেন। এদিকে রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনী ঘোষণায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে বিএনপি’তে স্বস্তি দেখা যায়। বলা হয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। কিন্তু একথাও ঠিক যে জুলাই ঘোষণাপত্রকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণামূলক প্রহসন উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন গণঅভ্যুত্থানের ৬০ ছাত্রনেতা। এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণাপত্রকে প্রত্যাখ্যান করেন তারা। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনের টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না এ প্রশ্নে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সবার মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। মূলত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী মন্তব্য-সমালোচনায় উত্তেজনার পারদ আরও চরমে। অবশ্য কোনো কোনো দল অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। এরই মধ্যে সহিংসতার আশঙ্কা, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও শঙ্কা বাড়ছে, তবে সাধারণ মানুষ এখনো আশাবাদী যে, সব রাজনৈতিক দল আলোচনায় বসবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হবে। গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে শহরের চাকরিজীবী পর্যন্ত অনেকেই চান, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরুক।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও ঐকমত্য নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি না হলে ভোটে অনাগ্রহ বাড়বে এবং সহিংসতার ঝুঁকি থেকে যাবে। সাধারণ ভোটাররা আশঙ্কা করছেন, যথাসময়ে নির্বাচন না হলে অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হবে। এতে দৈনন্দিন জীবন, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সংলাপ ও সমঝোতার বিকল্প নেই।
এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাপত্র পাঠের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি মনে করি, জুলাইয়ের যে আকাংক্ষা এই ঘোষণাপত্রে সেটার তেমন কোনো প্রতিফলন হয়নি। একটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা আমরা দেখেছি। ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। পরে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ আগস্টের পরিবর্তে কর্মসূচিটি আগামী ১৩ আগস্ট (বুধবার) একই সময়ে একই স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।
‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মাঠে নামা অনেকের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। কারো কারো মতে, দীর্ঘ মেয়াদী সংস্কারের আগে নির্বাচন নয় এমন দাবিতে মাঠ ঘোলা করতে না পেরে ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান এবং এ সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে দলটি মাঠ দখল নিতে চায়। এবং নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে ফেলতে চায়। কারো কারো আশঙ্কা জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের ওই দিনে অর্থাৎ ৫ আগস্টের রাতে কি এজন্যই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দেয়া ভাষণের একটি অংশে বলেছিলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়’। এজন্য কি প্রধান উপদেষ্টার আশঙ্কার কয়েকদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন নির্বাচনের আগে কিন্তু দেশে অনেক গন্ডগোল হবে। তিনি জাতীয় নির্বাচন বানচালে দেশে অনেক গন্ডগোলের আশঙ্কাও করেন। অন্যদিকে বিএনপি’র আরেক নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র যারা করছেন, তাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।

জানা গেছে, মাঠে হাতে গোনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মনে করে এতো দ্রুত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষতি। তারা শুরুতেই বেশ কয়েকটি ফর্মূলা নিয়ে এগুতে চেয়েছিল। প্রথমে জাতীয় সরকার। ধারণা ছিল জাতীয় সরকার গঠন করা গেলে তারা ধীরে ধীরে প্রশাসনে শক্ত অবস্থান নিয়ে নেবে। কারণ তাদের অনেক নেতাকর্মী পরিচয় লুকিয়ে আওয়ামী লীগের সহায়তায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চাকরি নিয়ে নেয়। এখন অবস্থার পরিবর্তনে দেনদরবার করে এসব আস্থাভাজন কর্মকর্তা কর্মচারিদের জায়গা মতা আসীন করে তারপরে নির্বাচন দিলে তাতে কিছুটা ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দলের শক্ত অবস্থান থেকে এধরনের গোপন মতলব নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা হয়। ফলে ওই রাজনৈতিক দলটির জাতীয় সরকার গঠন করার চক্রান্ত বাতিল হয়ে যায়। এরপর শুরু করে তারা দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের নামে প্রশাসন দখলের। যেভাবে অতীতে প্রশাসনকে কবজা করে আওয়ামী লীগের শাসনামলকে দীর্ঘমেয়াদী করেছিল। কিন্তু জানা গেছে বর্তমানে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে এতেও বিপত্ত বাধে। প্রশাসনকে কুক্ষিগত করা থেকে ব্যর্থ হয়ে দলটি এখন শুরু করেছে ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এতে দলটি হালে পানি পায়নি বা শক্ত ভিত পাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি ওই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একটি গোপন গবেষণার খবর পাওয়া গেছে। এতে তারা দেখেছে অতি সুন্দরভাবে একটি নির্বাচন হলেও দলটি ২০টি বেশি আসনে জয়ী হতে পারবে না। আর এজন্য নতুন ফর্দ নিয়ে তারা মাঠে নেমে নির্বাচন বানচালসহ দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলতে পরিকল্পনা নিয়েছে। আর একাজে শিক্ষার্থীদের মাঠে নামাতে তারা এবার নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যকরের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এর পাশাপাশি ভোটের অনুপাত (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ কয়েকটি দফা নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। 
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ও অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ নেতারা। ১১ আগস্ট সোমবার বিকেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে প্রতিনিধিদলের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর কয়েকদিন আগে জুলাই ঘোষণা পত্র উপস্থাপনের পরের দিনই খোদ লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। চলতি বছরের গত জুলাই মাসের ২য় সপ্তাহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশে ঐ রাজনৈতিক দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। আর এসব কারণ মিলিয়ে কারো কারো আশঙ্কা সামনের দিনে সার্বিক অবস্থা ঘোলাটে করে নির্বাচন আরও পিছিয়ে নেয়াসহ এমনকি ভিন্ন প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলার পরিস্থিতি তৈরিতে তৎপর হতে পারে। 
এদিকে নির্বাচন নিয়ে শংকার মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য ছুঁড়ে দিলেন জাতীয় নাগরিক পাটি(এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন হবে না। এখন দেখা যাক আসলেই সামনের দিনগুলি কোন দিকে যায়।