নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 5:59 PM
অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের রহস্য। খুনি কে, খুনের প্রকৃত কারণ কী বা ওই হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল- এমন সব প্রশ্নের জবাব ‘হয়তো’ আর পাওয়া যাবে না। কেননা, এখন পর্যন্ত বহুল আলোচিত সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এমনই আভাস দিয়ে বলেছে, সাগর-রুনী খুনের তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে তদন্তের এই ‘চ্যাপ্টার ক্লোজ’ করার চিন্তা করছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এমনকি আলোচিত মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা দেওয়ার কথাও ভাবছে তারা। আগামী অক্টোবরে এটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে না পারলে যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়, সেটিই ফাইনাল রিপোর্ট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পিবিআই বিভিন্ন সময়ে বহু পুরোনো বা ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে অনেককে তাক লাগিয়ে ছিল। এর মধ্যে সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত শামসুদ্দোহা খান মজলিশের স্ত্রী সেলিমা খান মজলিশ (৬৩) হত্যার রহস্য দীর্ঘ ১৩ বছর পর উদ্ঘাটন করে পিবিআই। গত বছর এই খুনে সাবেক ওই এমপির মেয়ে শামীমা খান মজলিশ ওরফে পপির (৫৭) সম্পৃক্ততা উদ্ঘাটনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, মেয়ে শামীমা খান মজলিশের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তার পরিকল্পনায়ই সেলিমা খান খুন হন। অন্যদিকে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে সগিরা মোর্শেদ সালাম নামে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এটি ছিল ক্লুলেস এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে মামলাটি প্রায় হিমাগারে চলে গিয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে, সগিরা মোর্শেদ হত্যাকাণ্ড আসলে ছিনতাই-সংক্রান্ত ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার নেপথ্যে ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এ রকম আরও অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করে প্রশংসিত হয়েছে পিবিআই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন বা খুনি শনাক্ত করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরাসহ প্রায় সব মহল। এই অবস্থায় সাগর-রুনী হত্যা মামলাটির যদি ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়, তবে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও আর হবে না। একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূর খুনিদের বিচার দেখে মরতে চাওয়া সেই দুঃখিনী মা সালেহা মনিরের আক্ষেপ হয়তো কখনোই দূর হবে না। তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, বহুল আলোচিত সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ উদ্ঘাটন এবং খুনি শনাক্ত করার লক্ষ্যে সবগুলো দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ বা খুনি শনাক্ত করা যায়নি। পিবিআই চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতা, নিহতদের কর্মস্থলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সামিট গ্রুপের একজন কর্তাব্যক্তিসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের বক্তব্য বা জবানবন্দি এবং আগের বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু কোনো মাধ্যম থেকেই সাগর-রুনী খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামান্যতম ‘ক্লু’ উদ্ঘাটন করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিবিআইপ্রধান পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তে বলার মতো তেমন অগ্রগতি নেই। তবে এখনো কাজ করে যাচ্ছি। আপাতত এর বাইরে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ তবে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বারবার আদালতে সময় বাড়িয়ে নিয়েও সাগর-রুনী খুনের তদন্তে কোনো অগ্রগতি না থাকায় এ অধ্যায়টি শেষ করার চিন্তা করছেন পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যে প্রক্রিয়ায় এগোনো হচ্ছে তাতে বহুল আলোচিত মামলাটির কোনো অগ্রগতি ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। বক্তব্য বা জবানবন্দি নিয়ে সবকিছু যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে নিহতদের কর্মস্থলের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তি, সাংবাদিক নেতা ও তৎকালীন বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নিয়েছে পিবিআই। এর মধ্যে ওই সময়ের সাবেক আইজিপি, ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান, তৎকালীন র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির। মাস দুয়েক আগে দুই চোখে অস্ত্রোপচার করে লেন্স স্থাপন করা হয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারানো এই দুঃখিনী মা বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ। গত সপ্তাহে আলাপকালে সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে বরাবরের মতোই আক্ষেপ করেন সালেহা মনির। এ সময় তিনি বলেন, ‘পিবিআই মামলা হাতে পাওয়ার পর বাসায় এসে কর্মকর্তারা কথা বলে যান। অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক দিন হলো, আর কোনো অগ্রগতি তারা জানাননি। এখন দেখি বারবার সময় নিচ্ছে। তারাও আদৌ কী করবেন, সেটা বুঝতে পারছি না। কী আর বলব, আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছি।’ সালেহা মনির বলেন, ‘পিবিআই পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তারা ছোট্ট ‘ক্লু’ ধরেও বহু পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে, জড়িতদের আইনের আওতায় এনেছে। এখানে (সাগর-রুনী) কেন হচ্ছে না? আগের সরকার থাকতে তো বলা হতো, এই খুনের সঙ্গে রাঘববোয়ালরা জড়িত বলেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এখন তো রাঘববোয়ালরা নেই, তাহলে খুনিরা কেন শনাক্ত হচ্ছে না?’ এদিকে আলোচিত মামলাটির বাদী এবং নিহত রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘পিবিআই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই কয়েকবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু এর পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ বা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা কতদূর এগিয়েছেন বা জড়িতদের শনাক্ত করা- সবকিছুই এখনো অন্ধকারে রয়েছে।’ সাগর-রুনীর হত্যার বিচার নিয়ে নওশের আলম বলেন, ‘বারবার দাবি জানাতে হবে কেন? এটা তো রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কেন এত বছরেও শেষ হচ্ছে না সেটা বোধগম্য নয়। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। প্রকৃত খুনিদের শাস্তি হোক, রহস্য উদ্ঘাটন হোক- এটাই আমাদের চাওয়া।’ সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। সাগর-রুনী হত্যার পর এই সংগঠনটিও অন্য সংগঠনের পাশাপাশি আন্দোলন-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে আলাপকালে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারের আমলে বারবার সাগর-রুনী হত্যার বিচার চেয়েছি, কিন্তু পাইনি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অন্তত চার থেকে পাঁচবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন আয়োজন করেছি, সেখানেও কোনো আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে না। কোনো সভ্য রাষ্ট্রে একটি হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য ১৩ বছর ধরে দাবি জানাতে হয় না। আমরা বিস্মিত হচ্ছি! কেন এই হত্যার বিচার হচ্ছে না?’ ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কী ধরে নেব সাগর-রুনী খুন হননি, তাদের কেউ খুন করেননি? বারবার তদন্ত সংস্থা বদলানোর পরও কেন খুনি শনাক্ত হচ্ছে না? তাহলে তো বুঝতে হবে- যাদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাদের যোগ্যতা-দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তা না হলে ১২০ বার কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ নিতে হয়? আমাদের স্পষ্ট কথা, সাগর-রুনী হত্যার বিচার না হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। তাই এই হত্যার বিচার হতেই হবে।’ সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী দুজনেই ছিলেন পেশাদার রিপোর্টারদের প্রধান সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য। ডিআরইউ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিয়মিত প্রতিবাদ সভা ও বিবৃতি দিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে নিয়মিত বিচার চেয়ে আসছে। ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাগর-রুনী হত্যায় কারা জড়িত সেটাই উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটা হত্যা মামলার তদন্ত ১৩ বছরেও শেষ হয় না, এই দেশে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে অনেকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সাগর-রুনী হত্যার বিচার হবে, কিন্তু আশ্বাসের ফল মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা আশা করেছিলাম, এবার অন্তত বিচার পাব, কিন্তু অগ্রগতি দেখছি না। এখন আমরা শুধুই হতাশ।’ সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পর ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা হয়। ফলে মামলাটির প্রথম তদন্ত শুরু হয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে। তিন দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশ ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্তকাজ পরিচালনা করে। ডিবি পুলিশের ব্যর্থতায় মামলাটি ২০১২ সালের এপ্রিলে র্যাবের কাছে স্থানান্তরিত হয়। এলিট ফোর্সও আদালত থেকে বারবার সময় নিয়েও খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়। ফলে গত বছরের ৪ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশে র্যাব থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিআইবি। পরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যেখানে পিবিআইপ্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু পিবিআইও এরই মধ্যে কয়েক দফা সময় নিয়েও তদন্তের অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেদিনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। ফলে এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছানো হয় ১২০ বার। নতুন করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ঠিক করেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান। এর আগে র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তকালেও বহুবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়ে যায়। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া ফ্ল্যাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে খুন করা হয় মাছরাঙা টিভির তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনীকে। পরের দিন শেরেবাংলা নগর থানায় এই সাংবাদিক দম্পতি খুনের মামলা করেন রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান। ঘটনার সময় বাসায় ছিল সাগর-রুনীর একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ, যার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। হত্যাকাণ্ডের পর আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। তানভীর ও পলাশ বর্তমানে কারাগারের বাইরে ও অন্যরা কারাগারে আছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 5:59 PM
অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের রহস্য। খুনি কে, খুনের প্রকৃত কারণ কী বা ওই হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল- এমন সব প্রশ্নের জবাব ‘হয়তো’ আর পাওয়া যাবে না। কেননা, এখন পর্যন্ত বহুল আলোচিত সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এমনই আভাস দিয়ে বলেছে, সাগর-রুনী খুনের তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে তদন্তের এই ‘চ্যাপ্টার ক্লোজ’ করার চিন্তা করছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এমনকি আলোচিত মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা দেওয়ার কথাও ভাবছে তারা। আগামী অক্টোবরে এটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করতে না পারলে যে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়, সেটিই ফাইনাল রিপোর্ট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পিবিআই বিভিন্ন সময়ে বহু পুরোনো বা ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে অনেককে তাক লাগিয়ে ছিল। এর মধ্যে সাভারের সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত শামসুদ্দোহা খান মজলিশের স্ত্রী সেলিমা খান মজলিশ (৬৩) হত্যার রহস্য দীর্ঘ ১৩ বছর পর উদ্ঘাটন করে পিবিআই। গত বছর এই খুনে সাবেক ওই এমপির মেয়ে শামীমা খান মজলিশ ওরফে পপির (৫৭) সম্পৃক্ততা উদ্ঘাটনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, মেয়ে শামীমা খান মজলিশের পরকীয়া সম্পর্কের জেরে তার পরিকল্পনায়ই সেলিমা খান খুন হন। অন্যদিকে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে সগিরা মোর্শেদ সালাম নামে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এটি ছিল ক্লুলেস এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসেবে মামলাটি প্রায় হিমাগারে চলে গিয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ বছর পর ২০১৯ সালের নভেম্বরে পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে, সগিরা মোর্শেদ হত্যাকাণ্ড আসলে ছিনতাই-সংক্রান্ত ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার নেপথ্যে ছিল পারিবারিক দ্বন্দ্ব। এ রকম আরও অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করে প্রশংসিত হয়েছে পিবিআই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন বা খুনি শনাক্ত করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরাসহ প্রায় সব মহল। এই অবস্থায় সাগর-রুনী হত্যা মামলাটির যদি ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়, তবে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারও আর হবে না। একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূর খুনিদের বিচার দেখে মরতে চাওয়া সেই দুঃখিনী মা সালেহা মনিরের আক্ষেপ হয়তো কখনোই দূর হবে না। তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, বহুল আলোচিত সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ উদ্ঘাটন এবং খুনি শনাক্ত করার লক্ষ্যে সবগুলো দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ বা খুনি শনাক্ত করা যায়নি। পিবিআই চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতা, নিহতদের কর্মস্থলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, সামিট গ্রুপের একজন কর্তাব্যক্তিসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকের বক্তব্য বা জবানবন্দি এবং আগের বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু কোনো মাধ্যম থেকেই সাগর-রুনী খুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামান্যতম ‘ক্লু’ উদ্ঘাটন করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিবিআইপ্রধান পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তে বলার মতো তেমন অগ্রগতি নেই। তবে এখনো কাজ করে যাচ্ছি। আপাতত এর বাইরে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’ তবে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বারবার আদালতে সময় বাড়িয়ে নিয়েও সাগর-রুনী খুনের তদন্তে কোনো অগ্রগতি না থাকায় এ অধ্যায়টি শেষ করার চিন্তা করছেন পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যে প্রক্রিয়ায় এগোনো হচ্ছে তাতে বহুল আলোচিত মামলাটির কোনো অগ্রগতি ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। বক্তব্য বা জবানবন্দি নিয়ে সবকিছু যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে নিহতদের কর্মস্থলের দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তি, সাংবাদিক নেতা ও তৎকালীন বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীলদের বক্তব্য নিয়েছে পিবিআই। এর মধ্যে ওই সময়ের সাবেক আইজিপি, ডিএমপির সাবেক ডিবিপ্রধান, তৎকালীন র্যাবের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাংবাদিক সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির। মাস দুয়েক আগে দুই চোখে অস্ত্রোপচার করে লেন্স স্থাপন করা হয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারানো এই দুঃখিনী মা বর্তমানে কিছুটা অসুস্থ। গত সপ্তাহে আলাপকালে সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার নিয়ে বরাবরের মতোই আক্ষেপ করেন সালেহা মনির। এ সময় তিনি বলেন, ‘পিবিআই মামলা হাতে পাওয়ার পর বাসায় এসে কর্মকর্তারা কথা বলে যান। অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক দিন হলো, আর কোনো অগ্রগতি তারা জানাননি। এখন দেখি বারবার সময় নিচ্ছে। তারাও আদৌ কী করবেন, সেটা বুঝতে পারছি না। কী আর বলব, আল্লাহর কাছেই বিচার দিয়েছি।’ সালেহা মনির বলেন, ‘পিবিআই পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তারা ছোট্ট ‘ক্লু’ ধরেও বহু পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে, জড়িতদের আইনের আওতায় এনেছে। এখানে (সাগর-রুনী) কেন হচ্ছে না? আগের সরকার থাকতে তো বলা হতো, এই খুনের সঙ্গে রাঘববোয়ালরা জড়িত বলেই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এখন তো রাঘববোয়ালরা নেই, তাহলে খুনিরা কেন শনাক্ত হচ্ছে না?’ এদিকে আলোচিত মামলাটির বাদী এবং নিহত রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘পিবিআই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই কয়েকবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু এর পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ বা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা কতদূর এগিয়েছেন বা জড়িতদের শনাক্ত করা- সবকিছুই এখনো অন্ধকারে রয়েছে।’ সাগর-রুনীর হত্যার বিচার নিয়ে নওশের আলম বলেন, ‘বারবার দাবি জানাতে হবে কেন? এটা তো রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। এমন একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কেন এত বছরেও শেষ হচ্ছে না সেটা বোধগম্য নয়। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। প্রকৃত খুনিদের শাস্তি হোক, রহস্য উদ্ঘাটন হোক- এটাই আমাদের চাওয়া।’ সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)। সাগর-রুনী হত্যার পর এই সংগঠনটিও অন্য সংগঠনের পাশাপাশি আন্দোলন-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে আলাপকালে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারের আমলে বারবার সাগর-রুনী হত্যার বিচার চেয়েছি, কিন্তু পাইনি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও অন্তত চার থেকে পাঁচবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন আয়োজন করেছি, সেখানেও কোনো আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে না। কোনো সভ্য রাষ্ট্রে একটি হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য ১৩ বছর ধরে দাবি জানাতে হয় না। আমরা বিস্মিত হচ্ছি! কেন এই হত্যার বিচার হচ্ছে না?’ ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কী ধরে নেব সাগর-রুনী খুন হননি, তাদের কেউ খুন করেননি? বারবার তদন্ত সংস্থা বদলানোর পরও কেন খুনি শনাক্ত হচ্ছে না? তাহলে তো বুঝতে হবে- যাদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাদের যোগ্যতা-দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তা না হলে ১২০ বার কেন তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ নিতে হয়? আমাদের স্পষ্ট কথা, সাগর-রুনী হত্যার বিচার না হলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে অপরাধ বৃদ্ধি পায়। তাই এই হত্যার বিচার হতেই হবে।’ সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী দুজনেই ছিলেন পেশাদার রিপোর্টারদের প্রধান সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্য। ডিআরইউ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নিয়মিত প্রতিবাদ সভা ও বিবৃতি দিয়ে সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে নিয়মিত বিচার চেয়ে আসছে। ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সাগর-রুনী হত্যায় কারা জড়িত সেটাই উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটা হত্যা মামলার তদন্ত ১৩ বছরেও শেষ হয় না, এই দেশে সেটা মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে অনেকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সাগর-রুনী হত্যার বিচার হবে, কিন্তু আশ্বাসের ফল মেলেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা আশা করেছিলাম, এবার অন্তত বিচার পাব, কিন্তু অগ্রগতি দেখছি না। এখন আমরা শুধুই হতাশ।’ সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের পর ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা হয়। ফলে মামলাটির প্রথম তদন্ত শুরু হয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে। তিন দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশ ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্তকাজ পরিচালনা করে। ডিবি পুলিশের ব্যর্থতায় মামলাটি ২০১২ সালের এপ্রিলে র্যাবের কাছে স্থানান্তরিত হয়। এলিট ফোর্সও আদালত থেকে বারবার সময় নিয়েও খুনের রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনি গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়। ফলে গত বছরের ৪ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশে র্যাব থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে পিআইবি। পরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়, যেখানে পিবিআইপ্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করে ছয় মাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু পিবিআইও এরই মধ্যে কয়েক দফা সময় নিয়েও তদন্তের অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সর্বশেষ গত ১১ আগস্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেদিনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। ফলে এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছানো হয় ১২০ বার। নতুন করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ঠিক করেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান। এর আগে র্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তদন্তকালেও বহুবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়ে যায়। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া ফ্ল্যাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে খুন করা হয় মাছরাঙা টিভির তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনীকে। পরের দিন শেরেবাংলা নগর থানায় এই সাংবাদিক দম্পতি খুনের মামলা করেন রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান। ঘটনার সময় বাসায় ছিল সাগর-রুনীর একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ, যার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। হত্যাকাণ্ডের পর আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। তানভীর ও পলাশ বর্তমানে কারাগারের বাইরে ও অন্যরা কারাগারে আছেন।