CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

শরতের স্নিগ্ধতায় রাবিতে দশভূজার আগমনী 

#
news image

শরতের ভোর। আকাশে সামান্য কুয়াশা। স্নিগ্ধ ঠান্ডা হাওয়ায় শিউলি ফুলের সুবাস। ভোরে চন্ডীপাঠের ধ্বনি, কাশবন শিশিরভেজা। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃপক্ষের সূচনা। এমনই এক আবহে আজ মহালয়া। সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা । উৎসবের বাকি আর মাত্র সাত দিন। ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে জেগে উঠবে দশভূজা । 

রাকসু নির্বাচন ও পোষ্য কোটার দাবিদাওয়ার উত্তাপের মাঝে ভোর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনন্য শীতলতা। শত ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যাচ্ছে মতিহারের সবুজ চত্ত্বরের শরতের আকাশে । শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যস্ত সময় ভুলে শরতের আকাশে খুঁজে ফেরেন শৈশব-কৈশোরের মহালয়ার স্মৃতি। কেউ বাড়ির উৎসবের গল্প মনে করে আবেগে ভাসছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম মহালয়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছেন। মন্দিরে চলছে উৎসবের তোরজোর। গানে, শাস্ত্রে, নৃত্যে, কবিতায়, আলোকবাতিতে মেতে উঠছে মতিহারের সবুজ এক খন্ড চত্ত্বর। সবাই আগ্রহে অকালবোধনে দেবীকে জাগাতে ব্যস্ত।

অনুভূতি ব্যক্ত করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দৃশ্য কুমার দেব বলেন, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব ভাগাভাগির আনন্দই অন্যরকম। পরিবার থেকে দূরে থাকলেও নতুন পরিবারের সাথে মহালয়া আমার।

সমাজকর্ম বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্জয় সরকার, ক্যাম্পাসের প্রথম মহালয়ার অনূভুতি নিয়ে বলেন, দেবী দুর্গার আগমনী জীবনের প্রথম ক্যাম্পাসে পালন করছি। মনের ভিতর এক অনন্য অনূভুতি ও আনন্দ অনুভূত হচ্ছে। আজকের মহালয়া পালনের দিনটা জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পাঁচ বছর ক্যাম্পাসে কাটিয়ে মহালয়া নিয়ে অনূভুতি ব্যক্ত করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অর্পন ধর। তিনি ছোটবেলার মহালয়া দেখার স্মৃতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবার সাথে মহালয়ায় সময় কাটানো হতো। মা সবসময় আমাকে ভোরবেলা ঘুম থেকে তুলে দিত। কিন্তু শেষ পাচ বছর ক্যাম্পাসে এই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে। তবুও কেন্দ্রীয় মন্দিরে মহালয়ার উৎসবে গিয়ে বাড়ির আনন্দ কিছুটা হলেও পেয়েছি।

ধর্মীয় উৎসব হলেও মহালয়ায় মিশে থাকে আবেগ, স্মৃতি আর ক্যাম্পাসজুড়ে পারিবারিক উষ্ণতার আমেজ। ব্যস্ততা ও যান্ত্রিকতার ভেতরেও মহালয়ার ভোর শিক্ষার্থীদের গানের সুর, ধূপের গন্ধ, আলোকবাতির ঝলকানি মনে করিয়ে দেয় শরতের প্রশান্তি আর দেবীর আগমনী বার্তা।

মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাসে তাই আজকের সকাল অন্য দিনের মতো নয়। গানের সুর, ধূপের গন্ধ, আলোকবাতির ঝলকানি আর শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখরতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভরে উঠেছে শরতের মহালয়ার আবেশে।

ঐশ্বর্য বিশ্বাস, রাবি

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  5:07 PM

news image

শরতের ভোর। আকাশে সামান্য কুয়াশা। স্নিগ্ধ ঠান্ডা হাওয়ায় শিউলি ফুলের সুবাস। ভোরে চন্ডীপাঠের ধ্বনি, কাশবন শিশিরভেজা। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে মাতৃপক্ষের সূচনা। এমনই এক আবহে আজ মহালয়া। সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজা । উৎসবের বাকি আর মাত্র সাত দিন। ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে জেগে উঠবে দশভূজা । 

রাকসু নির্বাচন ও পোষ্য কোটার দাবিদাওয়ার উত্তাপের মাঝে ভোর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনন্য শীতলতা। শত ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীরা হারিয়ে যাচ্ছে মতিহারের সবুজ চত্ত্বরের শরতের আকাশে । শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যস্ত সময় ভুলে শরতের আকাশে খুঁজে ফেরেন শৈশব-কৈশোরের মহালয়ার স্মৃতি। কেউ বাড়ির উৎসবের গল্প মনে করে আবেগে ভাসছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম মহালয়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছেন। মন্দিরে চলছে উৎসবের তোরজোর। গানে, শাস্ত্রে, নৃত্যে, কবিতায়, আলোকবাতিতে মেতে উঠছে মতিহারের সবুজ এক খন্ড চত্ত্বর। সবাই আগ্রহে অকালবোধনে দেবীকে জাগাতে ব্যস্ত।

অনুভূতি ব্যক্ত করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দৃশ্য কুমার দেব বলেন, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব ভাগাভাগির আনন্দই অন্যরকম। পরিবার থেকে দূরে থাকলেও নতুন পরিবারের সাথে মহালয়া আমার।

সমাজকর্ম বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী দুর্জয় সরকার, ক্যাম্পাসের প্রথম মহালয়ার অনূভুতি নিয়ে বলেন, দেবী দুর্গার আগমনী জীবনের প্রথম ক্যাম্পাসে পালন করছি। মনের ভিতর এক অনন্য অনূভুতি ও আনন্দ অনুভূত হচ্ছে। আজকের মহালয়া পালনের দিনটা জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পাঁচ বছর ক্যাম্পাসে কাটিয়ে মহালয়া নিয়ে অনূভুতি ব্যক্ত করেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী অর্পন ধর। তিনি ছোটবেলার মহালয়া দেখার স্মৃতি নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবার সাথে মহালয়ায় সময় কাটানো হতো। মা সবসময় আমাকে ভোরবেলা ঘুম থেকে তুলে দিত। কিন্তু শেষ পাচ বছর ক্যাম্পাসে এই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে। তবুও কেন্দ্রীয় মন্দিরে মহালয়ার উৎসবে গিয়ে বাড়ির আনন্দ কিছুটা হলেও পেয়েছি।

ধর্মীয় উৎসব হলেও মহালয়ায় মিশে থাকে আবেগ, স্মৃতি আর ক্যাম্পাসজুড়ে পারিবারিক উষ্ণতার আমেজ। ব্যস্ততা ও যান্ত্রিকতার ভেতরেও মহালয়ার ভোর শিক্ষার্থীদের গানের সুর, ধূপের গন্ধ, আলোকবাতির ঝলকানি মনে করিয়ে দেয় শরতের প্রশান্তি আর দেবীর আগমনী বার্তা।

মতিহারের সবুজ ক্যাম্পাসে তাই আজকের সকাল অন্য দিনের মতো নয়। গানের সুর, ধূপের গন্ধ, আলোকবাতির ঝলকানি আর শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখরতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভরে উঠেছে শরতের মহালয়ার আবেশে।