CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বিআরটিএ'র বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের সাজা মওকুফে তৎপরতা: কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন অভিযুক্তরা

#
news image

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া) কার্যালয়ের দুর্নীতি ও দালাল পোষার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের শাস্তি মওকুফ করার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা এ কাজে প্রায় কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত চারজন: জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের রোড পরীক্ষায় ঘুষ আদায়, দালাল চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চারজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃতরা হলেন: মোহাম্মদ জিমর হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক, শাহরিয়ার হাসান শান্ত, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মো. আরিফ হোসেন, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মীর্জা মাহমুদুর রশিদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ।
বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মকর্তারা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং ৩(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত ৪ মার্চ তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পাশাপাশি বদলির আদেশও দেওয়া হয়।
স্থানান্তর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: বদলি আদেশে, মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জিমর হোসেনকে ঢাকা জেলা সার্কেল থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে, মো. আরিফ হোসেনকে দিনাজপুর সার্কেলে, মীর্জা মাহমুদুর রশিদকে রংপুর সার্কেলে এবং শাহরিয়ার হাসান শান্তকে মাগুরা সার্কেলে বদলি করা হয়।
এই বদলির আদেশ সত্ত্বেও, এই চারজন কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে রেহাই পেতে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি মওকুফের চেষ্টা করছেন।

বিআরটিএ'র ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর 'প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২৫' অনুযায়ী, বিআরটিএ দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ বিষয়ে বিবিএস-এর সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) এ তথ্য উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিআরটিএ'র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গাবতলী বাস ডিপোতে পরিচালিত এক অভিযানে নগদ অর্থসহ কয়েকজন দালালকে আটক ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগেও দালালমুক্ত করার জন্য বিআরটিএ সকল অফিসে পত্র দিয়েছিল। তবে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে দালাল চক্রের কার্যক্রম এখনো চলমান এবং এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, এই কর্মকর্তাদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তাহলে বিআরটিএ'তে আবারও দালাল ও ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তার ঘটবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  3:48 PM

news image

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা জেলা সার্কেল (ইকুরিয়া) কার্যালয়ের দুর্নীতি ও দালাল পোষার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের শাস্তি মওকুফ করার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা এ কাজে প্রায় কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত চারজন: জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের রোড পরীক্ষায় ঘুষ আদায়, দালাল চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়া এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চারজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকৃতরা হলেন: মোহাম্মদ জিমর হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক, শাহরিয়ার হাসান শান্ত, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মো. আরিফ হোসেন, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মীর্জা মাহমুদুর রশিদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ।
বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মকর্তারা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ এবং ৩(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত ৪ মার্চ তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার পাশাপাশি বদলির আদেশও দেওয়া হয়।
স্থানান্তর ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: বদলি আদেশে, মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ জিমর হোসেনকে ঢাকা জেলা সার্কেল থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে, মো. আরিফ হোসেনকে দিনাজপুর সার্কেলে, মীর্জা মাহমুদুর রশিদকে রংপুর সার্কেলে এবং শাহরিয়ার হাসান শান্তকে মাগুরা সার্কেলে বদলি করা হয়।
এই বদলির আদেশ সত্ত্বেও, এই চারজন কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে রেহাই পেতে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি মওকুফের চেষ্টা করছেন।

বিআরটিএ'র ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর 'প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২৫' অনুযায়ী, বিআরটিএ দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ বিষয়ে বিবিএস-এর সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) এ তথ্য উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিআরটিএ'র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গাবতলী বাস ডিপোতে পরিচালিত এক অভিযানে নগদ অর্থসহ কয়েকজন দালালকে আটক ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগেও দালালমুক্ত করার জন্য বিআরটিএ সকল অফিসে পত্র দিয়েছিল। তবে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে দালাল চক্রের কার্যক্রম এখনো চলমান এবং এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, এই কর্মকর্তাদের যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তাহলে বিআরটিএ'তে আবারও দালাল ও ঘুষ বাণিজ্যের বিস্তার ঘটবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।