CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ধানমন্ডি ক্লাবের নির্বাচন ঘিরে চোরের বড় গলা!

#
news image

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ধানমন্ডি ক্লাব’-এর নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ক্লাবের প্রায় ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্তরা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের সদস্য তথা ভোটাররা এটিকে বলছেন, ‘চোরের বড় গলা’।
২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে গতবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে। আর্থিক অনিয়মের চিত্র পেতে চার্টার্ড একাউন্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরি করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে এই শ্বেতপত্রসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে  ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
গত ২৪ জুন দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে করা অভিযোগে জানানো হয়, উল্লেখিত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু ও এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল এবং ২০১৯ থেকে ২০১৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচনে কয়েকজন প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু কয়েকদিন আগে ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের ঠিকানায় একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠান। এতে তিনি ক্লাবের সদ্য সাবেক ইন্টেরিম কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। সদস্য তথা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ক্লাবের কেনাকাটায় নানা অনিয়ম হয়েছে এবং এতে ইন্টেরিম কমিটির সভাপতি সম্পৃক্ত। তবে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়- কেনাকাটার জন্য পৃথক কমিটি কাজ করে থাকে। এরসঙ্গে ইন্টেরিম কমিটির প্রধানের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগই নেই।
ধানমন্ডি ক্লাবের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে সদ্য সাবেক ইন্টেরিম কমিটির প্রধান হাবিব উল্যাহ বাবুলসহ তিনজন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ক্লাবের ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উদঘাটনসহ বিগত কমিটির অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রণয়ন করায় অভিযুক্তরা টার্গেট করেছেন হাবিব উল্যাহ বাবুলকে। ক্লাব সদস্যদের কয়েকজন জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু চিঠিটি সদস্যদেরকে ই-মেইলেও পাঠিয়েছেন। তবে মজার বিষয় হলো, চিঠির শেষদিকে তিনি লিখেছেন- যেহেতু তিনি ক্লাবের সদস্য তাই এব্যাপারে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন না। সদস্যরা বলছেন, ভুয়া অভিযোগ বলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সৎ সাহস নেই বাবুর।
গত ২৪ জুন দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, ক্লাবটিতে শুধু বার লাইসেন্স অনুমোদনের নামে তিন কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ, একটি বার লাইসেন্স অনুমোদনের সরকারি ব্যয় ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫শ টাকা। ব্যাংক হিসাবেও রয়েছে অসঙ্গতি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নামে অগ্রীম অর্থ প্রদান দেখানো হয়েছে। ন্যাশনাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের সাথে করা ক্লাবের চুক্তিও অসংলগ্ন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, রহস্যজনক কারণে হারানো রয়েছে সাইদুর রহমানের নামে অর্থ গ্রহণের নথি। প্রায় সাত কোটি টাকার ভাউচার কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলা, সদস্যপদ স্থানান্তর ও ভর্তি ফি ক্লাবে জমা না করা, অডিট হিসাবের সাথে ব্যাংক হিসাবের গড়মিল, ক্লাবের দলিল সংরক্ষণ না করা এবং লাইসেন্স আপডেট না করার কথাও উঠে আসে শ্বেতপত্রে। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে বলেও দুদকে করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  10:46 PM

news image

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ধানমন্ডি ক্লাব’-এর নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে ক্লাবের প্রায় ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্তরা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের সদস্য তথা ভোটাররা এটিকে বলছেন, ‘চোরের বড় গলা’।
২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে গতবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে। আর্থিক অনিয়মের চিত্র পেতে চার্টার্ড একাউন্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরি করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে এই শ্বেতপত্রসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছে  ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
গত ২৪ জুন দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে করা অভিযোগে জানানো হয়, উল্লেখিত অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে ক্লাবের সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু ও এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল এবং ২০১৯ থেকে ২০১৪ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচনে কয়েকজন প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু কয়েকদিন আগে ক্লাবের প্রত্যেক সদস্যের ঠিকানায় একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠান। এতে তিনি ক্লাবের সদ্য সাবেক ইন্টেরিম কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। সদস্য তথা ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ক্লাবের কেনাকাটায় নানা অনিয়ম হয়েছে এবং এতে ইন্টেরিম কমিটির সভাপতি সম্পৃক্ত। তবে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়- কেনাকাটার জন্য পৃথক কমিটি কাজ করে থাকে। এরসঙ্গে ইন্টেরিম কমিটির প্রধানের সম্পৃক্ত থাকার সুযোগই নেই।
ধানমন্ডি ক্লাবের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে সদ্য সাবেক ইন্টেরিম কমিটির প্রধান হাবিব উল্যাহ বাবুলসহ তিনজন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ক্লাবের ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উদঘাটনসহ বিগত কমিটির অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রণয়ন করায় অভিযুক্তরা টার্গেট করেছেন হাবিব উল্যাহ বাবুলকে। ক্লাব সদস্যদের কয়েকজন জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান মাহমুদ বাবু চিঠিটি সদস্যদেরকে ই-মেইলেও পাঠিয়েছেন। তবে মজার বিষয় হলো, চিঠির শেষদিকে তিনি লিখেছেন- যেহেতু তিনি ক্লাবের সদস্য তাই এব্যাপারে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন না। সদস্যরা বলছেন, ভুয়া অভিযোগ বলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সৎ সাহস নেই বাবুর।
গত ২৪ জুন দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল, ক্লাবটিতে শুধু বার লাইসেন্স অনুমোদনের নামে তিন কোটি টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ, একটি বার লাইসেন্স অনুমোদনের সরকারি ব্যয় ১০ লাখ ৯২ হাজার ৫শ টাকা। ব্যাংক হিসাবেও রয়েছে অসঙ্গতি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নামে অগ্রীম অর্থ প্রদান দেখানো হয়েছে। ন্যাশনাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের সাথে করা ক্লাবের চুক্তিও অসংলগ্ন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, রহস্যজনক কারণে হারানো রয়েছে সাইদুর রহমানের নামে অর্থ গ্রহণের নথি। প্রায় সাত কোটি টাকার ভাউচার কম্পিউটার থেকে মুছে ফেলা, সদস্যপদ স্থানান্তর ও ভর্তি ফি ক্লাবে জমা না করা, অডিট হিসাবের সাথে ব্যাংক হিসাবের গড়মিল, ক্লাবের দলিল সংরক্ষণ না করা এবং লাইসেন্স আপডেট না করার কথাও উঠে আসে শ্বেতপত্রে। এছাড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে বলেও দুদকে করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।