CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচনের ৩ দিন আগে রাকসুর সময় পরিবর্তন, নতুন তারিখ ১৬ অক্টোবর

#
news image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৩ দিন আগে এসে ভোটগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ অক্টোবর। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা এবং ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেলের দাবির মুখে সোমবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন।

আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফকির নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত  বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,  শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘোষিত "কমপ্লিট শাটডাউন" কর্মসূচী চলমান আছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। উপর্যুক্ত বিবেচনায় রাকসু নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার স্বার্থে কমিশন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৬ অক্টোম্বর  রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে, দুপুর ১২ টায় ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা  এক সংবাদ সম্মেলন করেন ও নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা স্মারকলিপিতে রাকসু নির্বাচনের অনূকুল পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেন। কমপ্লিট শাটডাউন ও শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে অনেক শিক্ষার্থীরাই ক্যাম্পাস ছেড়েছে। ফলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ আর নেই। 

এরপর রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে এই উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও পরবর্তীতে প্রায় ৩ ঘন্টা আলোচনার পর ফেসবুক পেইজ থেকে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।এসময়ে বিকেল থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ২৫ তারিখেই রাকসু নির্বাচন নিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করে। এসময় পালটা স্লোগানে জামায়ত শিবির বাটপার, দালাল বলে স্লোগান দেয় ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সতন্ত্র ইউনিয়ন ও ফেডারেশনদের সাথে একত্মতা প্রকাশ করে। এসময় উভয় দিক থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে রাকসু নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা আসলে ছাত্রদল, স্বতন্ত্ররা বিজয় মিছিল করে। এবং রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয় ত্যাগ করে। তবে, ইসলামী ছাত্রশিবির রাকসু নির্বাচন পেছানোতে সন্তুষ্ট নয়। তারা রাত নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিবির কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে আছে


এবিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন,আমরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মানিনা। এই প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। যখন তারিখ পেছানো হয় তখন শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হোক কিন্তু এই প্রশাসন নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় তাই নির্বাচন কমিশন দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

রাবি প্রতিনিধি

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  10:53 PM

news image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৩ দিন আগে এসে ভোটগ্রহণের তারিখ পেছানো হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ অক্টোবর। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা এবং ছাত্রদলসহ কয়েকটি প্যানেলের দাবির মুখে সোমবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন।

আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফকির নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত  বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,  শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘোষিত "কমপ্লিট শাটডাউন" কর্মসূচী চলমান আছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। উপর্যুক্ত বিবেচনায় রাকসু নির্বাচন উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার স্বার্থে কমিশন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিবর্তে আগামী ১৬ অক্টোম্বর  রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে, দুপুর ১২ টায় ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা  এক সংবাদ সম্মেলন করেন ও নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা স্মারকলিপিতে রাকসু নির্বাচনের অনূকুল পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেন। কমপ্লিট শাটডাউন ও শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে অনেক শিক্ষার্থীরাই ক্যাম্পাস ছেড়েছে। ফলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ আর নেই। 

এরপর রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে এই উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও পরবর্তীতে প্রায় ৩ ঘন্টা আলোচনার পর ফেসবুক পেইজ থেকে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।এসময়ে বিকেল থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের সামনে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ২৫ তারিখেই রাকসু নির্বাচন নিয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করে। এসময় পালটা স্লোগানে জামায়ত শিবির বাটপার, দালাল বলে স্লোগান দেয় ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সতন্ত্র ইউনিয়ন ও ফেডারেশনদের সাথে একত্মতা প্রকাশ করে। এসময় উভয় দিক থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে রাকসু নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা আসলে ছাত্রদল, স্বতন্ত্ররা বিজয় মিছিল করে। এবং রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয় ত্যাগ করে। তবে, ইসলামী ছাত্রশিবির রাকসু নির্বাচন পেছানোতে সন্তুষ্ট নয়। তারা রাত নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিবির কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে আছে


এবিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন,আমরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মানিনা। এই প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। যখন তারিখ পেছানো হয় তখন শিক্ষার্থীরা নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হোক কিন্তু এই প্রশাসন নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 

সার্বিক বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয় তাই নির্বাচন কমিশন দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’