রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 11:05 AM
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় চিকিৎসা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২৭ বছর বয়সী সান্ত্বনা চাকমার মৃত্যু আবারও পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। মারিশ্যা পাকোয়াখালী গ্রামের এ তরুণীর অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান স্বাস্থ্য সঙ্কটের বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি।
সোমবার (২২শে সেপ্টেম্বর) সকালে প্রসব বেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক সেবা না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্ব অতিক্রম করার পথে গাড়িতেই সন্তান জন্ম দেন তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত চিকিৎসক পদ থাকলেও বেশিরভাগই দীর্ঘদিন শূন্য। যারা আছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকায় মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও জরুরি চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের অভাব প্রকট। ফলে গুরুতর অবস্থার রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পান না।
হাসপাতালে নেই আধুনিক ল্যাব, আইসিইউ কিংবা পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্সেরও অভাব রয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল, ফলে জরুরি রোগীকে জেলা সদর কিংবা বড় শহরে পাঠাতে সময় নষ্ট হয়, যা প্রাণহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতাল ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অকার্যকর। জনবল সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দরিদ্র ও দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য এটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসার খরচও গরিব মানুষের নাগালের বাইরে। সামান্য অসুখ থেকে বড় ধরনের অপারেশন—সবকিছুর জন্য তাদের খাগড়াছড়ি কিংবা চট্টগ্রাম যেতে হয়। যাতায়াত খরচ, ঝুঁকি ও সময়—সব মিলিয়ে জীবন রক্ষার পথটি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত গর্ভবতী নারী, শিশু ও প্রবীণরা সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “প্রতিটি মায়ের জীবন সুরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব। অথচ এখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।”
তাদের দাবি, দ্রুত প্রসূতি, শিশু ও জরুরি সেবার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। একইসঙ্গে আধুনিক ল্যাব, আইসিইউ, ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে হবে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল সচল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনেরও জোর দাবি তুলেছেন তারা।
সান্ত্বনা চাকমার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; এটি পাহাড়ি অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সংকটের করুণ প্রতিফলন। চিকিৎসা, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যদি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বহু পরিবার একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হবে।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 11:05 AM
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় চিকিৎসা সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২৭ বছর বয়সী সান্ত্বনা চাকমার মৃত্যু আবারও পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। মারিশ্যা পাকোয়াখালী গ্রামের এ তরুণীর অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলমান স্বাস্থ্য সঙ্কটের বেদনাদায়ক প্রতিচ্ছবি।
সোমবার (২২শে সেপ্টেম্বর) সকালে প্রসব বেদনা শুরু হলে স্বজনরা তাকে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক সেবা না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্ব অতিক্রম করার পথে গাড়িতেই সন্তান জন্ম দেন তিনি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত চিকিৎসক পদ থাকলেও বেশিরভাগই দীর্ঘদিন শূন্য। যারা আছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকায় মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও জরুরি চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের অভাব প্রকট। ফলে গুরুতর অবস্থার রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা পান না।
হাসপাতালে নেই আধুনিক ল্যাব, আইসিইউ কিংবা পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্সেরও অভাব রয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও দুর্বল, ফলে জরুরি রোগীকে জেলা সদর কিংবা বড় শহরে পাঠাতে সময় নষ্ট হয়, যা প্রাণহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতাল ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত অকার্যকর। জনবল সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। দরিদ্র ও দুর্গম এলাকায় বসবাসরত মানুষের জন্য এটি ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসার খরচও গরিব মানুষের নাগালের বাইরে। সামান্য অসুখ থেকে বড় ধরনের অপারেশন—সবকিছুর জন্য তাদের খাগড়াছড়ি কিংবা চট্টগ্রাম যেতে হয়। যাতায়াত খরচ, ঝুঁকি ও সময়—সব মিলিয়ে জীবন রক্ষার পথটি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত গর্ভবতী নারী, শিশু ও প্রবীণরা সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে আছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “প্রতিটি মায়ের জীবন সুরক্ষিত রাখা আমাদের দায়িত্ব। অথচ এখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।”
তাদের দাবি, দ্রুত প্রসূতি, শিশু ও জরুরি সেবার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। একইসঙ্গে আধুনিক ল্যাব, আইসিইউ, ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করতে হবে। দুর্গম এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল সচল রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনেরও জোর দাবি তুলেছেন তারা।
সান্ত্বনা চাকমার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের শোক নয়; এটি পাহাড়ি অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সংকটের করুণ প্রতিফলন। চিকিৎসা, অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যদি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বহু পরিবার একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হবে।