CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন: বিএনপির আগ্রহে ভাটা, জামায়াতের 'সংস্কার আগে' 

#
news image

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সাবেক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বিপরীতমুখী অবস্থানে নির্বাচনী আবহ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও, জামায়াত 'প্রয়োজনীয় সংস্কার আগে, তারপর নির্বাচন'— এই দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কে টানাপোড়েন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। বিশেষ করে 'সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে'— এই প্রশ্নে তাদের মতবিরোধ এখন চরমে।

বিএনপি'র অবস্থান: বিএনপি শুরু থেকেই বলছে, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন হওয়া মঙ্গলজনক। তারা সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সারাদেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের কৌশল হলো, নির্বাচনের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত রাখা।

জামায়াতের অবস্থান: জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট জানিয়েছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া জরুরি।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিবাদ ও নতুন মেরুকরণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি সমমনা দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকলেও, বিএনপি এর ঘোর বিরোধিতা করছে। এই বিরোধের কারণে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির দাবিতে জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি কয়েকটি সমমনা দলকে নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে চলমান আলোচনা একটি 'বার্নিং ইস্যু' এবং এর সমাধানের পরই নির্বাচনের গতি প্রকৃতি বোঝা যাবে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব ও মাঠপর্যায়ের চিত্র

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাকসু) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, জামায়াত নেতাদের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব এর-ই প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাঠকর্মী ও জেলা পর্যায়ের নেতা জানান, শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের অপ্রত্যাশিত বিজয় তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্দীপনা কিছুটা কমে গেছে।

তবে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই গুঞ্জন অস্বীকার করে বলেন, "বিএনপি পূর্ণ উদ্যম ও প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে।"

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্বাচনী আলোচনা কমলেও, স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখনো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। আমরা আশা রাখি, উক্ত ঘোষণার অনুরূপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"

সব মিলিয়ে, জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পিআর পদ্ধতির বিরোধ এবং 'সংস্কার বনাম নির্বাচন' বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  6:34 PM

news image

অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সাবেক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বিপরীতমুখী অবস্থানে নির্বাচনী আবহ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও, জামায়াত 'প্রয়োজনীয় সংস্কার আগে, তারপর নির্বাচন'— এই দাবিতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কে টানাপোড়েন

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। বিশেষ করে 'সংস্কার আগে না নির্বাচন আগে'— এই প্রশ্নে তাদের মতবিরোধ এখন চরমে।

বিএনপি'র অবস্থান: বিএনপি শুরু থেকেই বলছে, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন হওয়া মঙ্গলজনক। তারা সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সারাদেশে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের কৌশল হলো, নির্বাচনের জন্য কর্মীদের প্রস্তুত রাখা।

জামায়াতের অবস্থান: জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট জানিয়েছে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ হওয়ার পরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের আগে এই বিষয়গুলোর সমাধান হওয়া জরুরি।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে বিবাদ ও নতুন মেরুকরণ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি সমমনা দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকলেও, বিএনপি এর ঘোর বিরোধিতা করছে। এই বিরোধের কারণে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির দাবিতে জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি কয়েকটি সমমনা দলকে নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে চলমান আলোচনা একটি 'বার্নিং ইস্যু' এবং এর সমাধানের পরই নির্বাচনের গতি প্রকৃতি বোঝা যাবে।

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব ও মাঠপর্যায়ের চিত্র

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাকসু) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, জামায়াত নেতাদের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব এর-ই প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ডাকসু-জাকসু নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাঠকর্মী ও জেলা পর্যায়ের নেতা জানান, শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের অপ্রত্যাশিত বিজয় তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্দীপনা কিছুটা কমে গেছে।

তবে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই গুঞ্জন অস্বীকার করে বলেন, "বিএনপি পূর্ণ উদ্যম ও প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে।"

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্বাচনী আলোচনা কমলেও, স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এখনো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। আমরা আশা রাখি, উক্ত ঘোষণার অনুরূপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"

সব মিলিয়ে, জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পিআর পদ্ধতির বিরোধ এবং 'সংস্কার বনাম নির্বাচন' বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।