CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

এআই বদলে দিচ্ছে কর্মসংস্থানের চিত্র, বাংলাদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছে বিশ্বব্যাংক

#
news image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ যদি সঠিক সময়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও ব্যবসাবান্ধব নীতিতে বিনিয়োগ করতে পারে, তবে এআই শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার হাতিয়ার।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: জবস, এআই অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান এআই-চালিত শ্রমবাজার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাংক বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ২০২৫ সালে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, যেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২০২৬ সালে এই হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশে এআই-সম্পৃক্ত কাজ বাড়ছে

বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি, কল সেন্টার, ফিনটেক ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে এআই-নির্ভর কাজের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, যেসব কর্মী এআই সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জন করেছেন, তারা বর্তমানে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি মজুরি পাচ্ছেন।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এআই-ভিত্তিক অটোমেশন কিছু মধ্যম দক্ষতার চাকরিকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশেষ করে গার্মেন্টসের ডিজাইন, প্রশাসনিক সাপোর্ট, ডেটা এন্ট্রি ও প্রাথমিক পর্যায়ের আইটি কাজের চাহিদা কমতে পারে।

পাঁচ দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পাঁচটি কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে—

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন: দক্ষিণ এশিয়ায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও মাত্র ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এই হার ৪৫ শতাংশের কিছু বেশি। গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত। এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ ডেটা সেন্টার এবং হাই-স্পিড ইন্টারনেট নিশ্চিত করা জরুরি।

মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন: বাংলাদেশে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়লেও এআই সম্পর্কিত দক্ষতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। বিশ্বব্যাংক বলছে— কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হন। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রোগ্রামিং, ডেটা অ্যানালিটিকস ও রোবোটিকস অন্তর্ভুক্ত করারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

শ্রমবাজারে অভিযোজন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কর্মী এমন পেশায় নিয়োজিত, যেখানে এআই প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। অপরদিকে ৬ থেকে ৮ শতাংশ কাজ সরাসরি ঝুঁকিতে। তরুণ ও মধ্যশিক্ষিত কর্মীদের জন্য বিকল্প দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ: বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের জন্য সহজ ঋণপ্রাপ্তি, ডেটা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে প্রণোদনা প্রদান করলে এআই গ্রহণের গতি বাড়বে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) প্রযুক্তি পার্ক ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সরকারি খাতে এআই ব্যবহার: বিশ্বব্যাংক মনে করে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা দ্রুততর করা সম্ভব। ট্যাক্স প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি পরামর্শ, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই-চালিত চ্যাটবট বা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগই মূল চাবিকাঠি

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ (দক্ষিণ এশিয়া) ফ্রান্সিসকা দে ক্যাম্পোস বলেন, “বাংলাদেশ যদি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ায় এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার অর্থনৈতিক কাঠামোকে রূপান্তরিত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এআই প্রযুক্তির সুবিধা কেবল বড় কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও ছড়িয়ে দিতে হবে।”

বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের জন্য এখনই সময় এআই-নির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার। কারণ প্রযুক্তিগত রূপান্তর একদিকে যেমন কিছু চাকরির ধরন বদলাবে, অপরদিকে নতুন খাত ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।

সঠিক নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ এআই যুগে দক্ষিণ এশিয়ার অগ্রণী দেশগুলোর কাতারে পৌঁছাতে পারবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ অক্টোবর, ২০২৫,  6:28 PM

news image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ যদি সঠিক সময়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও ব্যবসাবান্ধব নীতিতে বিনিয়োগ করতে পারে, তবে এআই শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার হাতিয়ার।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: জবস, এআই অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া অঞ্চলে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান এআই-চালিত শ্রমবাজার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বব্যাংক বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ২০২৫ সালে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে, যেখানে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২০২৬ সালে এই হার কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশে এআই-সম্পৃক্ত কাজ বাড়ছে

বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি, কল সেন্টার, ফিনটেক ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে এআই-নির্ভর কাজের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, যেসব কর্মী এআই সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জন করেছেন, তারা বর্তমানে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি মজুরি পাচ্ছেন।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এআই-ভিত্তিক অটোমেশন কিছু মধ্যম দক্ষতার চাকরিকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশেষ করে গার্মেন্টসের ডিজাইন, প্রশাসনিক সাপোর্ট, ডেটা এন্ট্রি ও প্রাথমিক পর্যায়ের আইটি কাজের চাহিদা কমতে পারে।

পাঁচ দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পাঁচটি কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে—

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন: দক্ষিণ এশিয়ায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও মাত্র ৬০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এই হার ৪৫ শতাংশের কিছু বেশি। গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত। এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, নিরাপদ ডেটা সেন্টার এবং হাই-স্পিড ইন্টারনেট নিশ্চিত করা জরুরি।

মানবসম্পদ ও দক্ষতা উন্নয়ন: বাংলাদেশে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়লেও এআই সম্পর্কিত দক্ষতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। বিশ্বব্যাংক বলছে— কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে তারা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হন। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রোগ্রামিং, ডেটা অ্যানালিটিকস ও রোবোটিকস অন্তর্ভুক্ত করারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

শ্রমবাজারে অভিযোজন: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কর্মী এমন পেশায় নিয়োজিত, যেখানে এআই প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। অপরদিকে ৬ থেকে ৮ শতাংশ কাজ সরাসরি ঝুঁকিতে। তরুণ ও মধ্যশিক্ষিত কর্মীদের জন্য বিকল্প দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ: বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের জন্য সহজ ঋণপ্রাপ্তি, ডেটা নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি বিনিয়োগে প্রণোদনা প্রদান করলে এআই গ্রহণের গতি বাড়বে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) প্রযুক্তি পার্ক ও উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সরকারি খাতে এআই ব্যবহার: বিশ্বব্যাংক মনে করে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা দ্রুততর করা সম্ভব। ট্যাক্স প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি পরামর্শ, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই-চালিত চ্যাটবট বা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগই মূল চাবিকাঠি

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ (দক্ষিণ এশিয়া) ফ্রান্সিসকা দে ক্যাম্পোস বলেন, “বাংলাদেশ যদি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারে, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাড়ায় এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার অর্থনৈতিক কাঠামোকে রূপান্তরিত করতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এআই প্রযুক্তির সুবিধা কেবল বড় কোম্পানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও ছড়িয়ে দিতে হবে।”

বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের জন্য এখনই সময় এআই-নির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার। কারণ প্রযুক্তিগত রূপান্তর একদিকে যেমন কিছু চাকরির ধরন বদলাবে, অপরদিকে নতুন খাত ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।

সঠিক নীতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ এআই যুগে দক্ষিণ এশিয়ার অগ্রণী দেশগুলোর কাতারে পৌঁছাতে পারবে।