CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
টাইটেল ঢাকা-৯ এর ‘ঘরের মেয়ে’ তাসনিম জারা, কিন্তু ভোটার ঢাকা-১১? ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকারহরণের অপকৌশল রুখতে হবে কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ 'জাহাজপোড়া ক্যাসেল' রিসোর্ট’র শুভ উদ্বোধন করলেন ডিআইজি ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো সিনিয়রে আনসার ও জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহীর নতুন সভাপতি দীপু, সম্পাদক তাজ মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস ধর্ম ও বিকাশ দিয়ে ভোট কেনা আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়? প্রশ্ন রিজভীর ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে চাই.....ডা. শফিকুর রহমান পরাজিত শক্তির সহযোগীরাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিরোধী

তারের জট, ভোগান্তির ঝঞ্ঝাট

#
news image

রাজধানীর মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা কিংবা বাড্ডাসহ সর্বত্রই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো এখন কালো তারের জঞ্জালে ঢাকা। এসব তারের জট শুধু নগরীর সৌন্দর্যহানি করছে না, মানুষের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের অভাব এবং হঠাৎ করে নেওয়া উচ্ছেদ অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষকেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বাড্ডা, নদ্দা ও উত্তরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ফুটপাতে তারের কুণ্ডলি কাঁধ বা কোমর সমান উচ্চতায় নেমে এসেছে, যার ফলে পথচারীদের ঝুঁকে বা হাত দিয়ে সরিয়ে চলতে হচ্ছে।

ভোগান্তির কারণ: একাধিক অপারেটরের পৃথক তার এবং অকার্যকর উচ্ছেদ
ঢাকার এই তারের জঞ্জাল সৃষ্টি হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলো হলো:

অপারেটরদের প্রতিযোগিতা ও অব্যবস্থাপনা
পৃথক ফাইবার: প্রত্যেক অপারেটরই নিজস্ব ফাইবার টেনে আলাদা আলাদা সেবা দিচ্ছে। বাংলানেট টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী জুবায়ের আলমাহমুদ হোসাইন বলেন, এর ফলেই একই এলাকায় একাধিক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আলাদা তার ঝুলিয়ে রাখছে এবং অযথা জঞ্জাল সৃষ্টি হচ্ছে।

পুরোনো তার অপসারণ না করা: স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় অপারেটররা পুরোনো অকার্যকর তারও সরিয়ে নেয় না, ফলে সময়ের সাথে সাথে খুঁটিতে জমে যায় অসংখ্য পরিত্যক্ত তার। উত্তরার একটি খুঁটিতে ২৫টি পর্যন্ত আলাদা তার ঝুলতে দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষের হঠাৎ অভিযান ও ভোগান্তি
হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: সিটি কর্পোরেশন বা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে ঝুলন্ত তার অপসারণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে উত্তরা এলাকার এক বহুতল ভবনের সামনের তার একযোগে কেটে ফেলা হয়।

স্থবিরতা ও ক্ষতি: হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আশপাশের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, অফিস এমনকি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হয়। মাহমুদুল হাসান নোমান ও তানভীর হোসেনের মতো কর্মকর্তারা জানান, আগাম নোটিশ ছাড়া তার কেটে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্রাহকের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

ক্ষুদ্র আইএসপিগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা
হঠাৎ তার কেটে দেওয়ার ফলে ক্ষুদ্র ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের সীমিত বাজেটের মধ্যে নতুন করে লাইন বসানোর খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একটি আইএসপি কোম্পানির প্রযুক্তি প্রধানের মতে, পুরো বিনিয়োগ একসাথে নষ্ট হয়ে যায় এবং লোকবল, যাতায়াত ও পুনঃসংস্থাপন বাবদ বছরে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়।

সমাধানের পথ: 'অ্যাকটিভ শেয়ারিং' নীতি
বিশেষজ্ঞ ও আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো একমত যে, এই জট নিরসনে হঠাৎ তার কেটে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিমালা।

অ্যাকটিভ শেয়ারিং-এর দাবি: ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, রাজধানীতে ঝুলন্ত তারের জট নিরসনে 'অ্যাকটিভ শেয়ারিং' নীতি প্রয়োজন। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে, একটি ভবনে মাত্র একটি তার বরাদ্দ থাকবে, যা সব আইএসপি ব্যবহার করতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি কার্যকর হলে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ঝুলন্ত তার সরানো সম্ভব হবে।

আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং: জুবায়ের আলমাহমুদ হোসাইন আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপনে সরকারি সহযোগিতা এবং বিটিসিএল-এর আন্ডারগ্রাউন্ড অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

নতুন নীতিমালার আশ্বাস: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ জানান, সরকার নতুন লাইসেন্সিং গাইডলাইন ও পলিসি অনুমোদন করেছে, যেখানে সম্পূর্ণভাবে 'টেক নিউট্রালিটি'র ভিত্তিতে সব ধরনের নেটওয়ার্ক শেয়ারিং উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

সমন্বিত উদ্যোগ: শফিউল আজম পারভেজ আরও বলেন, এই জঞ্জাল দূর করতে সিটি কর্পোরেশন, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সকল সংস্থার একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ ব্যান্ডউইথ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; ফাইবার অপটিকই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সমাধান। তাই তার সম্পূর্ণ তুলে ফেলা সম্ভব না হলেও, নতুন নীতিমালা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই 'কালো জঞ্জাল' থেকে ঢাকাকে মুক্ত করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ অক্টোবর, ২০২৫,  7:04 PM

news image

রাজধানীর মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা কিংবা বাড্ডাসহ সর্বত্রই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো এখন কালো তারের জঞ্জালে ঢাকা। এসব তারের জট শুধু নগরীর সৌন্দর্যহানি করছে না, মানুষের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের অভাব এবং হঠাৎ করে নেওয়া উচ্ছেদ অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষকেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বাড্ডা, নদ্দা ও উত্তরা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ফুটপাতে তারের কুণ্ডলি কাঁধ বা কোমর সমান উচ্চতায় নেমে এসেছে, যার ফলে পথচারীদের ঝুঁকে বা হাত দিয়ে সরিয়ে চলতে হচ্ছে।

ভোগান্তির কারণ: একাধিক অপারেটরের পৃথক তার এবং অকার্যকর উচ্ছেদ
ঢাকার এই তারের জঞ্জাল সৃষ্টি হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলো হলো:

অপারেটরদের প্রতিযোগিতা ও অব্যবস্থাপনা
পৃথক ফাইবার: প্রত্যেক অপারেটরই নিজস্ব ফাইবার টেনে আলাদা আলাদা সেবা দিচ্ছে। বাংলানেট টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী জুবায়ের আলমাহমুদ হোসাইন বলেন, এর ফলেই একই এলাকায় একাধিক লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান আলাদা তার ঝুলিয়ে রাখছে এবং অযথা জঞ্জাল সৃষ্টি হচ্ছে।

পুরোনো তার অপসারণ না করা: স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় অপারেটররা পুরোনো অকার্যকর তারও সরিয়ে নেয় না, ফলে সময়ের সাথে সাথে খুঁটিতে জমে যায় অসংখ্য পরিত্যক্ত তার। উত্তরার একটি খুঁটিতে ২৫টি পর্যন্ত আলাদা তার ঝুলতে দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষের হঠাৎ অভিযান ও ভোগান্তি
হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: সিটি কর্পোরেশন বা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ অভিযান চালিয়ে ঝুলন্ত তার অপসারণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে উত্তরা এলাকার এক বহুতল ভবনের সামনের তার একযোগে কেটে ফেলা হয়।

স্থবিরতা ও ক্ষতি: হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আশপাশের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, অফিস এমনকি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও স্থবিরতা তৈরি হয়। মাহমুদুল হাসান নোমান ও তানভীর হোসেনের মতো কর্মকর্তারা জানান, আগাম নোটিশ ছাড়া তার কেটে দেওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্রাহকের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।

ক্ষুদ্র আইএসপিগুলোর ওপর বাড়তি বোঝা
হঠাৎ তার কেটে দেওয়ার ফলে ক্ষুদ্র ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো (আইএসপি) সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের সীমিত বাজেটের মধ্যে নতুন করে লাইন বসানোর খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একটি আইএসপি কোম্পানির প্রযুক্তি প্রধানের মতে, পুরো বিনিয়োগ একসাথে নষ্ট হয়ে যায় এবং লোকবল, যাতায়াত ও পুনঃসংস্থাপন বাবদ বছরে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়।

সমাধানের পথ: 'অ্যাকটিভ শেয়ারিং' নীতি
বিশেষজ্ঞ ও আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো একমত যে, এই জট নিরসনে হঠাৎ তার কেটে দেওয়া কোনো সমাধান নয়, বরং প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিমালা।

অ্যাকটিভ শেয়ারিং-এর দাবি: ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, রাজধানীতে ঝুলন্ত তারের জট নিরসনে 'অ্যাকটিভ শেয়ারিং' নীতি প্রয়োজন। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে, একটি ভবনে মাত্র একটি তার বরাদ্দ থাকবে, যা সব আইএসপি ব্যবহার করতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি কার্যকর হলে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ঝুলন্ত তার সরানো সম্ভব হবে।

আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং: জুবায়ের আলমাহমুদ হোসাইন আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপনে সরকারি সহযোগিতা এবং বিটিসিএল-এর আন্ডারগ্রাউন্ড অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।

নতুন নীতিমালার আশ্বাস: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ জানান, সরকার নতুন লাইসেন্সিং গাইডলাইন ও পলিসি অনুমোদন করেছে, যেখানে সম্পূর্ণভাবে 'টেক নিউট্রালিটি'র ভিত্তিতে সব ধরনের নেটওয়ার্ক শেয়ারিং উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

সমন্বিত উদ্যোগ: শফিউল আজম পারভেজ আরও বলেন, এই জঞ্জাল দূর করতে সিটি কর্পোরেশন, রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সকল সংস্থার একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ ব্যান্ডউইথ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ওয়্যারলেস প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়; ফাইবার অপটিকই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সমাধান। তাই তার সম্পূর্ণ তুলে ফেলা সম্ভব না হলেও, নতুন নীতিমালা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই 'কালো জঞ্জাল' থেকে ঢাকাকে মুক্ত করা সম্ভব।