আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৫, 2:36 PM
রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর শুক্রবার সোনার দামে হঠাৎ বড় পতন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনকে নিয়ে নতুন মন্তব্য ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দাম কমে গেছে ২ শতাংশেরও বেশি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে (ইস্টার্ন টাইম ১টা ৩৮ মিনিটে) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৪৮ ডলারে। এর আগে সেশন চলাকালে দাম উঠেছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৬৯ ডলারে। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো স্বর্ণ ৪ হাজার ৩০০ ডলার সীমা অতিক্রম করেছিল। তবুও সপ্তাহজুড়ে এর মোট বৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে বন্ধ হয় ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৩০ ডলারে। অন্যদিকে, ডলার সূচক (ডিএক্সওয়াই) বেড়েছে ০ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলার নির্ধারিত স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, ট্রাম্পের আগের ঘোষণার পর তুলনামূলক নরম সুর বাজারে উত্তেজনা কিছুটা কমিয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তিনি শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করেছে।
স্বর্ণকে সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। চলতি বছর এ ধাতুর দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশেরও বেশি। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, ডলার থেকে বিনিয়োগ সরে যাওয়া এবং ইটিএফ ফান্ডে প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমার সম্ভাবনাও এতে সহায়তা করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, আমরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম ৪ হাজার ৪৮৮ ডলার ধরে রাখছি। তবে বাজারের কাঠামোগত সহায়তা থাকায় দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাজারে ধারণা রয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হার কমাবে।
এইচএসবিসি ২০২৫ সালের গড় স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রতি আউন্সে ৩ হাজার ৪৫৫ ডলার করেছে এবং বলেছে, ২০২৬ সালে এটি ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের বাস্তব চাহিদা রেকর্ড দামে পৌঁছেও স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতের উৎসব মৌসুম সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের প্রিমিয়াম দশ বছরে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, রুপার দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৫১ দশমিক ২০ ডলারে, যদিও এর আগেই এটি রেকর্ড ৫৪ দশমিক ৪৭ ডলারে উঠেছিল। সপ্তাহ শেষে রুপার সামগ্রিক বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশে।
প্লাটিনামের দাম কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০৭ দশমিক ৮৫ ডলারে; আর প্যালাডিয়ামের পতন হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে, প্রতি আউন্সে দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ দশমিক ৫০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের উত্থান ও ট্রাম্পের ‘অসম্ভব শুল্কনীতি’ নিয়ে মন্তব্য স্বর্ণের বাজারে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা অটুট থাকবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০২৫, 2:36 PM
রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর শুক্রবার সোনার দামে হঠাৎ বড় পতন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনকে নিয়ে নতুন মন্তব্য ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দাম কমে গেছে ২ শতাংশেরও বেশি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে (ইস্টার্ন টাইম ১টা ৩৮ মিনিটে) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৪৮ ডলারে। এর আগে সেশন চলাকালে দাম উঠেছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৬৯ ডলারে। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো স্বর্ণ ৪ হাজার ৩০০ ডলার সীমা অতিক্রম করেছিল। তবুও সপ্তাহজুড়ে এর মোট বৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে বন্ধ হয় ৪ হাজার ২১৩ দশমিক ৩০ ডলারে। অন্যদিকে, ডলার সূচক (ডিএক্সওয়াই) বেড়েছে ০ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলার নির্ধারিত স্বর্ণের দাম আরও বেড়ে যায়।
বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, ট্রাম্পের আগের ঘোষণার পর তুলনামূলক নরম সুর বাজারে উত্তেজনা কিছুটা কমিয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তিনি শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সংঘাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করেছে।
স্বর্ণকে সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। চলতি বছর এ ধাতুর দাম বেড়েছে ৬৪ শতাংশেরও বেশি। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়, ডলার থেকে বিনিয়োগ সরে যাওয়া এবং ইটিএফ ফান্ডে প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কমার সম্ভাবনাও এতে সহায়তা করেছে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, আমরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম ৪ হাজার ৪৮৮ ডলার ধরে রাখছি। তবে বাজারের কাঠামোগত সহায়তা থাকায় দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাজারে ধারণা রয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভ অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট হার কমাবে।
এইচএসবিসি ২০২৫ সালের গড় স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রতি আউন্সে ৩ হাজার ৪৫৫ ডলার করেছে এবং বলেছে, ২০২৬ সালে এটি ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে এশিয়ার বাজারে স্বর্ণের বাস্তব চাহিদা রেকর্ড দামে পৌঁছেও স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতের উৎসব মৌসুম সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের প্রিমিয়াম দশ বছরে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, রুপার দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৫১ দশমিক ২০ ডলারে, যদিও এর আগেই এটি রেকর্ড ৫৪ দশমিক ৪৭ ডলারে উঠেছিল। সপ্তাহ শেষে রুপার সামগ্রিক বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশে।
প্লাটিনামের দাম কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০৭ দশমিক ৮৫ ডলারে; আর প্যালাডিয়ামের পতন হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে, প্রতি আউন্সে দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ দশমিক ৫০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের উত্থান ও ট্রাম্পের ‘অসম্ভব শুল্কনীতি’ নিয়ে মন্তব্য স্বর্ণের বাজারে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা অটুট থাকবে।