CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

'আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ৬ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সুপারিশ

#
news image

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যৌথভাবে খোলাচিঠি দিয়েছে ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আমলে নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে চিঠির শুরুতে সংস্থাগুলো গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এবং মৌলিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করেছে।স্বাক্ষরকারী সংস্থা এবং মূল আহ্বানচিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো: সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার যেন মানবাধিকার সুরক্ষা আরও বিস্তৃত করে এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের ঝুঁকি প্রতিহত করতে পারে।১২ দফা সুপারিশের সারসংক্ষেপছয়টি মানবাধিকার সংস্থা নিম্নলিখিত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে:দফা নংসুপারিশের বিষয়মূল দাবি১.জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তাগুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। আইসিটির স্বাধীনতা ও সম্পদ শক্তিশালী করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা।২.নিরাপত্তা খাতে সংস্কারর‌্যাব বিলুপ্ত করা এবং সেনাগোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর ক্ষমতা সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। সামরিক কর্মীদের বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রত্যাহার করা।৩.গুমের অপরাধ নির্ধারণ ও তদন্তআন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুমকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে অধ্যাদেশ পাস করা (মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়ে)। গুম তদন্ত কমিশনকে পর্যাপ্ত সম্পদ ও ক্ষমতা দেওয়া।৪.জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার'প্যারিস প্রিন্সিপলে’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন ও কার্যকর করা।৫.ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংস্কারসন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি আইনে মানহানির ধারাসহ অন্যান্য দমনমূলক আইন বাতিল বা সংশোধন করা।৬.ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা'পারসোনাল ডাটা প্রোটেকশন অধ্যাদেশ' ও 'ন্যাশনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট অধ্যাদেশ' আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন করা, যাতে নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে।৭.মতপ্রকাশের স্বাধীনতাগণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা এবং সাংবাদিকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার বা হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।৮.রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারআগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা (বিশেষত যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই) পর্যালোচনা করে বাতিল করা।৯.আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেওয়া সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। একে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনীতির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।১০.সিভিল সোসাইটি ও এনজিও স্বাধীনতাএনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংস্কার এবং বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন পুনর্বিবেচনা করা।১১.রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষারোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা হ্রাস করা।১২.আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহযোগিতাবাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসি'র চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং অভিযুক্ত কাউকে বাংলাদেশে থাকলে তাকে হস্তান্তর করা।সংস্থাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, নিরাপত্তা খাতে এখনও কাঠামোগতভাবে সংস্কার হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য এখনও জবাবদিহিতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    

২০ অক্টোবর, ২০২৫,  5:13 PM

news image

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যৌথভাবে খোলাচিঠি দিয়েছে ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই চিঠিতে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১২টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আমলে নিতে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে চিঠির শুরুতে সংস্থাগুলো গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এবং মৌলিক স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করেছে।স্বাক্ষরকারী সংস্থা এবং মূল আহ্বানচিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো: সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্চ এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।সংস্থাগুলো আহ্বান জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার যেন মানবাধিকার সুরক্ষা আরও বিস্তৃত করে এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের ঝুঁকি প্রতিহত করতে পারে।১২ দফা সুপারিশের সারসংক্ষেপছয়টি মানবাধিকার সংস্থা নিম্নলিখিত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে:দফা নংসুপারিশের বিষয়মূল দাবি১.জবাবদিহিতা ও বিচারের নিশ্চয়তাগুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। আইসিটির স্বাধীনতা ও সম্পদ শক্তিশালী করা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা।২.নিরাপত্তা খাতে সংস্কারর‌্যাব বিলুপ্ত করা এবং সেনাগোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই)-এর ক্ষমতা সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। সামরিক কর্মীদের বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রত্যাহার করা।৩.গুমের অপরাধ নির্ধারণ ও তদন্তআন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুমকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে অধ্যাদেশ পাস করা (মৃত্যুদণ্ড বাদ দিয়ে)। গুম তদন্ত কমিশনকে পর্যাপ্ত সম্পদ ও ক্ষমতা দেওয়া।৪.জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সংস্কার'প্যারিস প্রিন্সিপলে’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন ও কার্যকর করা।৫.ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষায় আইন সংস্কারসন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি আইনে মানহানির ধারাসহ অন্যান্য দমনমূলক আইন বাতিল বা সংশোধন করা।৬.ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা'পারসোনাল ডাটা প্রোটেকশন অধ্যাদেশ' ও 'ন্যাশনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট অধ্যাদেশ' আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন করা, যাতে নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে।৭.মতপ্রকাশের স্বাধীনতাগণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা এবং সাংবাদিকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার বা হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া।৮.রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারআগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা (বিশেষত যেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই) পর্যালোচনা করে বাতিল করা।৯.আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে দেওয়া সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা। একে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও বহুদলীয় রাজনীতির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।১০.সিভিল সোসাইটি ও এনজিও স্বাধীনতাএনজিও বিষয়ক ব্যুরো সংস্কার এবং বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন পুনর্বিবেচনা করা।১১.রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষারোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা হ্রাস করা।১২.আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহযোগিতাবাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসি'র চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং অভিযুক্ত কাউকে বাংলাদেশে থাকলে তাকে হস্তান্তর করা।সংস্থাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, নিরাপত্তা খাতে এখনও কাঠামোগতভাবে সংস্কার হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য এখনও জবাবদিহিতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না।