নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৫, 2:54 PM
নারী, তৃতীয় লিঙ্গ, এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধীসহ সকল ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জেন্ডার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আজ ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
"কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় কাঠামো শক্তিশালীকরণ" শীর্ষক এই বৈঠকে বক্তারা জেন্ডার সহিংসতাকে 'সঠিক লেন্স দিয়ে' দেখার এবং আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর আলোকপাত করেন।
তথ্য ও গবেষণার অভাব
বক্তারা উল্লেখ করেন, জেন্ডার সহিংসতা বিষয়ে তথ্যের অপর্যাপ্ততা একটি বড় বাধা। এই সমস্যা সমাধানে সরকারীভাবে ডাটাবেজ তৈরি এবং এ বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতার ওপর জোর
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূঁইয়া। তিনি বলেন:
জেন্ডার সহিংসতাকে উপযুক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং সেভাবেই মোকাবেলা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রক্রিয়া অবশ্যই নারীবান্ধব হতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে সেভাবেই বিষয়টিকে মোকাবেলা করতে হবে।
পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র সচেতনতা জোরদার করতে হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
শ্রমিক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ
ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পথে একটি বড় বাধা। অ্যাকশন এইড (২০১৫) এর তথ্য অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী কর্মী কর্মক্ষেত্রে আপত্তিকর মন্তব্য এবং যৌনভাবে আপত্তিকর ভাষার মুখোমুখি হন। এই সহিংসতা কেবল তাদের অধিকারই লঙ্ঘন করে না, বরং উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে আর্থিক ক্ষতি করে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।
সুপারিশ ও দাবি
বক্তারা কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সুরক্ষা নিশ্চিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের ওপর জোর দেন:
হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন: ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায়—কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন।
আইএলও কনভেনশন-১৯০: আইএলও কনভেনশন ১৯০ (কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি) অনুসমর্থন করা এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া। (উল্লেখ্য, সরকার এই বছরের আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অনুসমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি)।
আইন প্রণয়ন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন পাস করা।
কমিশনের সুপারিশ: নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন এবং শ্রম সংস্কার কমিশন এর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা।
কমিটি গঠন: কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং অভিযোগ বাক্স স্থাপনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪ এর প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের পক্ষে মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন বিলস পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন। আইএলও বাংলাদেশ-এর পরিচালক ম্যাক্স টুনন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক বেগম মেহেরুন্নেসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক এবং শ্রমিক নেতা নাইমুল আহসান জুয়েল ও কুতুবউদ্দিন আহমেদ সহ সরকারি, বেসরকারি এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৫, 2:54 PM
নারী, তৃতীয় লিঙ্গ, এবং শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধীসহ সকল ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জেন্ডার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আজ ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
"কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় কাঠামো শক্তিশালীকরণ" শীর্ষক এই বৈঠকে বক্তারা জেন্ডার সহিংসতাকে 'সঠিক লেন্স দিয়ে' দেখার এবং আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর আলোকপাত করেন।
তথ্য ও গবেষণার অভাব
বক্তারা উল্লেখ করেন, জেন্ডার সহিংসতা বিষয়ে তথ্যের অপর্যাপ্ততা একটি বড় বাধা। এই সমস্যা সমাধানে সরকারীভাবে ডাটাবেজ তৈরি এবং এ বিষয়ে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি ও সচেতনতার ওপর জোর
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানওয়ার জাহান ভূঁইয়া। তিনি বলেন:
জেন্ডার সহিংসতাকে উপযুক্ত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে এবং সেভাবেই মোকাবেলা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রক্রিয়া অবশ্যই নারীবান্ধব হতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে সেভাবেই বিষয়টিকে মোকাবেলা করতে হবে।
পরিবার থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র সচেতনতা জোরদার করতে হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
শ্রমিক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ
ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পথে একটি বড় বাধা। অ্যাকশন এইড (২০১৫) এর তথ্য অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী কর্মী কর্মক্ষেত্রে আপত্তিকর মন্তব্য এবং যৌনভাবে আপত্তিকর ভাষার মুখোমুখি হন। এই সহিংসতা কেবল তাদের অধিকারই লঙ্ঘন করে না, বরং উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে আর্থিক ক্ষতি করে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।
সুপারিশ ও দাবি
বক্তারা কর্মক্ষেত্রে জেন্ডার সুরক্ষা নিশ্চিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের ওপর জোর দেন:
হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন: ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায়—কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন।
আইএলও কনভেনশন-১৯০: আইএলও কনভেনশন ১৯০ (কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি) অনুসমর্থন করা এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া। (উল্লেখ্য, সরকার এই বছরের আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অনুসমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি)।
আইন প্রণয়ন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন পাস করা।
কমিশনের সুপারিশ: নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন এবং শ্রম সংস্কার কমিশন এর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা।
কমিটি গঠন: কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং অভিযোগ বাক্স স্থাপনের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের নির্দেশনা সঠিকভাবে অনুসরণ করা।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪ এর প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ। জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের পক্ষে মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন বিলস পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন। আইএলও বাংলাদেশ-এর পরিচালক ম্যাক্স টুনন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক বেগম মেহেরুন্নেসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক এবং শ্রমিক নেতা নাইমুল আহসান জুয়েল ও কুতুবউদ্দিন আহমেদ সহ সরকারি, বেসরকারি এবং একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।