CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

সম্মিলিত ব্যর্থতায় ডেঙ্গু ভয়াবহরুপে 

#
news image

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন।রাজধানীর শিশু হাসপাতালের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের মূল ক্ষোভ সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে ঘাটতি নিয়ে।

১. ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান ও মৃত্যুহারের কারণস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।মাস (২০২৫)আক্রান্তের সংখ্যাজানুয়ারি১,১৬১ফেব্রুয়ারি৩৭৪মার্চ৩৩৬এপ্রিল৭০১মে১,৭৭৩জুন৫,৯৫১জুলাই১০,৬৮৪আগস্ট১০,৪৯৬সেপ্টেম্বর১৫,৮৬৬অক্টোবর (২৪ তারিখ পর্যন্ত)১৬,২৯৬মোট মৃত্যু২৫৯বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো দেরিতে হাসপাতালে যাওয়া এবং ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন সংক্রমণকে জটিল করে তোলা।

২. জনগণের ক্ষোভ ও বিশেষজ্ঞদের দ্বিমতডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রধানত স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর দিকে।জনগণের অভিযোগ: ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী এবং চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি করপোরেশন মশা মারতে ব্যর্থ হওয়ায় ঘরে ঘরে ডেঙ্গু হচ্ছে, অথচ তারা এর জন্য কর নিচ্ছে। মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ তাদের চোখে পড়েনি।বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ ও এপিডেমিওলজিস্ট তারেক হাসান শিমুল মনে করেন, মশক নিধনের দায়িত্ব সরকারের হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ এককভাবে সরকারের কাজ নয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে।এপিডেমিওলজিস্ট তারেক হাসান শিমুল বলেন, "ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন তৈরি হচ্ছে, যা প্রতি বছর সংক্রমণের মাত্রা ও জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা একদিকে সরকারকে ব্যর্থ বলি, অন্যদিকে নিজের দায়িত্বটা পালন করি না... আমরা যেন নিজেরাই মশার চাষ করছি।"জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবকে প্রধান জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।৩. কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে দায়িত্বের বিভাজন ও গৃহীত পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে:সিটি করপোরেশনের অবস্থান: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের সব প্রচেষ্টা চলমান।

ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানো হয়েছে এবং তরুণদের দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের। তাদের কাজ আক্রান্তদের সেবা দেওয়া, যা তারা আন্তরিকতার সঙ্গে করছেন। তিনি আবারও জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো হাসপাতালে ভর্তির ওপর জোর দিয়েছেন।বিশেষজ্ঞরা এবং কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষই একমত যে, মশার আবাস ধ্বংস করা, পানি জমে থাকা বন্ধ করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধমূলক অস্ত্র। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর, ২০২৫,  5:11 PM

news image

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি হাসপাতালে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন।রাজধানীর শিশু হাসপাতালের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের মূল ক্ষোভ সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমে ঘাটতি নিয়ে।

১. ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান ও মৃত্যুহারের কারণস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।মাস (২০২৫)আক্রান্তের সংখ্যাজানুয়ারি১,১৬১ফেব্রুয়ারি৩৭৪মার্চ৩৩৬এপ্রিল৭০১মে১,৭৭৩জুন৫,৯৫১জুলাই১০,৬৮৪আগস্ট১০,৪৯৬সেপ্টেম্বর১৫,৮৬৬অক্টোবর (২৪ তারিখ পর্যন্ত)১৬,২৯৬মোট মৃত্যু২৫৯বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো দেরিতে হাসপাতালে যাওয়া এবং ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন সংক্রমণকে জটিল করে তোলা।

২. জনগণের ক্ষোভ ও বিশেষজ্ঞদের দ্বিমতডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রধানত স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর দিকে।জনগণের অভিযোগ: ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী এবং চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি করপোরেশন মশা মারতে ব্যর্থ হওয়ায় ঘরে ঘরে ডেঙ্গু হচ্ছে, অথচ তারা এর জন্য কর নিচ্ছে। মশক নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ তাদের চোখে পড়েনি।বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ ও এপিডেমিওলজিস্ট তারেক হাসান শিমুল মনে করেন, মশক নিধনের দায়িত্ব সরকারের হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ এককভাবে সরকারের কাজ নয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে।এপিডেমিওলজিস্ট তারেক হাসান শিমুল বলেন, "ভাইরাসের নতুন নতুন ধরন তৈরি হচ্ছে, যা প্রতি বছর সংক্রমণের মাত্রা ও জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা একদিকে সরকারকে ব্যর্থ বলি, অন্যদিকে নিজের দায়িত্বটা পালন করি না... আমরা যেন নিজেরাই মশার চাষ করছি।"জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাবকে প্রধান জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।৩. কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পদক্ষেপডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে দায়িত্বের বিভাজন ও গৃহীত পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে:সিটি করপোরেশনের অবস্থান: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের সব প্রচেষ্টা চলমান।

ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানো হয়েছে এবং তরুণদের দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ মূলত সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের। তাদের কাজ আক্রান্তদের সেবা দেওয়া, যা তারা আন্তরিকতার সঙ্গে করছেন। তিনি আবারও জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং সময়মতো হাসপাতালে ভর্তির ওপর জোর দিয়েছেন।বিশেষজ্ঞরা এবং কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষই একমত যে, মশার আবাস ধ্বংস করা, পানি জমে থাকা বন্ধ করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধমূলক অস্ত্র। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।