CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক প্রণয়নের উদ্যোগ ঢাকা চেম্বারের

#
news image

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তবচিত্র নিরূপণ ও উন্নয়নের করণীয় নির্ধারণে প্রথমবারের মতো “অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক” প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মতামত গ্রহণে শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীতে “অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক” শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভার আয়োজন করে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ পরিমাপের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূচক থাকলেও, সেগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত গতি-প্রকৃতি বা পরিবর্তনের কারণ সঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না। এ প্রেক্ষিতে ডিসিসিআই নিজস্ব ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যা প্রাথমিকভাবে ঢাকাকে কেন্দ্র করে হলেও পরবর্তীতে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি জানান, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিতব্য এই সূচক দেশের শিল্পখাতে উৎপাদন, বিক্রয়, অর্ডার প্রবাহ, রপ্তানি প্রবণতা, কর্মসংস্থান, ব্যবসায়িক আস্থা এবং বিনিয়োগের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেবে। প্রাথমিকভাবে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, আবাসন, পরিবহন ও স্টোরেজ এবং ব্যাংক খাতের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে পরিচালিত গবেষণায় ৬৫৪ জন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে—যাদের মধ্যে ৩৬৫ জন উৎপাদন খাত এবং ২৮৯ জন সেবা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল খাতের অবদান ৫৬ শতাংশ এবং সেবা খাতের অবদান ৪৪ শতাংশ।
ড. আসাদুজ্জামান বলেন, “উৎপাদন শিল্পে আটটি খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—খাদ্যপণ্য, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক ও উদ্ভিজ্জ পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিক, অ-ধাতব খনিজ এবং মৌলিক ধাতু। আর সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, স্থল পরিবহন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

তিনি জ্বালানি সরবরাহ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, ঋণপ্রদানের সহজীকরণ, ভ্যাট ও রাজস্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সরলীকরণ, এবং স্থানীয় সাপ্লাই চেইন উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান ও আশরাফ আহমেদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনপিও’র মহাপরিচালক মো. নূরুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসএসজিপি প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অধিশাখা) ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. এ.কে.এম আতিকুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা ও ড. মো. সালিম আল মামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম, র‌্যাপিডের গবেষণা পরিচালক ড. মো. দীন ইসলাম, বিআইএসএস’র গবেষণা পরিচালক ডা. মোহম্মদ জসিম উদ্দিন এবং আইএফসি’র সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিয়া রহমত আলী প্রমুখ।

আবুল কাসেম খান বলেন, “তৈরি পোশাক খাত তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেলেও এসএমই খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক সূচক প্রণয়নে শুধু নিজেদের বিশ্লেষণ নয়, প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করাও জরুরি।” মো. নূরুল আলম বলেন, “তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।” মিয়া রহমত আলী জানান, সরকার নতুন ইনসলভেন্সি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করবে।

নওশাদ মোস্তফা বলেন, “এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির চ্যালেঞ্জগুলো জানা গেলে তা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।” ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন গবেষণায় কৃষিখাতকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম প্রস্তাব করেন, গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ অক্টোবর, ২০২৫,  5:48 PM

news image

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাস্তবচিত্র নিরূপণ ও উন্নয়নের করণীয় নির্ধারণে প্রথমবারের মতো “অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক” প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মতামত গ্রহণে শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীতে “অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক” শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনা সভার আয়োজন করে সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ পরিমাপের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সূচক থাকলেও, সেগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত গতি-প্রকৃতি বা পরিবর্তনের কারণ সঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না। এ প্রেক্ষিতে ডিসিসিআই নিজস্ব ‘অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যা প্রাথমিকভাবে ঢাকাকে কেন্দ্র করে হলেও পরবর্তীতে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি জানান, ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিতব্য এই সূচক দেশের শিল্পখাতে উৎপাদন, বিক্রয়, অর্ডার প্রবাহ, রপ্তানি প্রবণতা, কর্মসংস্থান, ব্যবসায়িক আস্থা এবং বিনিয়োগের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেবে। প্রাথমিকভাবে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, আবাসন, পরিবহন ও স্টোরেজ এবং ব্যাংক খাতের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। তিনি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে পরিচালিত গবেষণায় ৬৫৪ জন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে—যাদের মধ্যে ৩৬৫ জন উৎপাদন খাত এবং ২৮৯ জন সেবা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল খাতের অবদান ৫৬ শতাংশ এবং সেবা খাতের অবদান ৪৪ শতাংশ।
ড. আসাদুজ্জামান বলেন, “উৎপাদন শিল্পে আটটি খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—খাদ্যপণ্য, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক ও উদ্ভিজ্জ পণ্য, রাবার ও প্লাস্টিক, অ-ধাতব খনিজ এবং মৌলিক ধাতু। আর সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, স্থল পরিবহন ও রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

তিনি জ্বালানি সরবরাহ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, ঋণপ্রদানের সহজীকরণ, ভ্যাট ও রাজস্ব প্রদানের প্রক্রিয়া সরলীকরণ, এবং স্থানীয় সাপ্লাই চেইন উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান ও আশরাফ আহমেদ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনপিও’র মহাপরিচালক মো. নূরুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসএসজিপি প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অধিশাখা) ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. এ.কে.এম আতিকুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা ও ড. মো. সালিম আল মামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম, র‌্যাপিডের গবেষণা পরিচালক ড. মো. দীন ইসলাম, বিআইএসএস’র গবেষণা পরিচালক ডা. মোহম্মদ জসিম উদ্দিন এবং আইএফসি’র সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট মিয়া রহমত আলী প্রমুখ।

আবুল কাসেম খান বলেন, “তৈরি পোশাক খাত তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেলেও এসএমই খাত অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক সূচক প্রণয়নে শুধু নিজেদের বিশ্লেষণ নয়, প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করাও জরুরি।” মো. নূরুল আলম বলেন, “তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা নীতি প্রণয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।” মিয়া রহমত আলী জানান, সরকার নতুন ইনসলভেন্সি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করবে।

নওশাদ মোস্তফা বলেন, “এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির চ্যালেঞ্জগুলো জানা গেলে তা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।” ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন গবেষণায় কৃষিখাতকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম প্রস্তাব করেন, গবেষণার ফল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।