CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

‘গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার’ প্রকল্পে মহাদুর্নীতি অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নামে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ  

#
news image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (জিআর) প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আংশিক প্রকল্প তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পূর্বের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ করা এবং সরজমিনে অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নামে ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা তছরুপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই দুর্নীতির কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মেম্বার ও প্রকল্পের সভাপতিরা, এবং এর সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও জনাব মামুনুর রশিদ) জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের মূল ধরন: ভুয়া প্রকল্প ও ডবল বিল
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই দুর্নীতির প্রধান পদ্ধতি ছিল একই কাজকে ডবল প্রকল্পে দেখানো:
ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ: একাধিক প্রকল্পের অ্যাপ্রোচসহ রাস্তা সংস্কারের কাজ পূর্বেই ঠিকাদার কর্তৃক নির্মিত ব্রিজের কাজের সঙ্গে ধরা ছিল। এর অর্থ হলো, একই কাজের জন্য ঠিকাদার একবার বিল তুলেছেন এবং জিআর প্রকল্প থেকে দ্বিতীয়বার বিল তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্তিত্বহীন প্রকল্প: কিছু প্রকল্পের সরজমিনে কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
সন্দেহজনক প্রকল্পের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারগণ
প্রকল্পের তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৩ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা (নগদ ও চাল) আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়:
প্রকল্পের নাম ও অবস্থান    বরাদ্দ    প্রকল্পের সভাপতি    দুর্নীতির ধরন-
উত্তর শিয়ালকাঠী ৯ নং ওয়ার্ড (কীর্তনীয়া বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা    পারভীন রহমান (মহিলা মেম্বার) সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
উত্তর ভিটেবাড়িয়া ২ নং ওয়ার্ড (ফরাজী সামনে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা পারভীন রহমান (মহিলা মেম্বার) সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
নদমুল্লা ৭ নং ওয়ার্ড (রুহুল খাবই পাশে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা    মনিরুল ইসলাম মেম্বার    সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
গোলবুনিয়া (আব্দুল হক মাস্টার) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।১ লক্ষ টাকা    বাহাউদ্দিন বাদল মেম্বার    ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপের অভিযোগ।
তেলিখালী ১ নং ওয়ার্ড (মাখন অধিকারীর বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা বাহাউদ্দিন বাদল মেম্বার    সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
ধাওয়া ৯ নং ওয়ার্ড (পশারিবুনিয়া নাসির উদ্দিন মুন্সির বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা    মো. ওয়াদুদ হোসেন কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ধাওয়া ৩ নং ওয়ার্ড (মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ২ লক্ষ টাকা    মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গৌরীপুর ৩ নং ওয়ার্ড (আবু হানাফিয়া মাদ্রাসা সামনে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ১ লক্ষ টাকাজিয়াউল আহসান মেম্বার সরজমিনে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি (ভুয়া)।
গৌরীপুর ৩ নং ওয়ার্ড (খলিল রতনের বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।১ লক্ষ টাকা    জিয়াউল আহসান মেম্বার কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইকরি ইউনিয়নের সিং খালি দাখিল মাদ্রাসার খালের উপর ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ২ টন চাল    মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মোট নগদ বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ (আংশিক): ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। মোট চাল আত্মসাতের অভিযোগ (আংশিক): ২ টন (প্রায় ৪ লক্ষ টাকা)।
পিআইও’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারীরা বলছেন, এই বৃহৎ অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) মামুনুর রশিদ সরাসরি জড়িত। প্রকল্পের ভুয়া বিল ও ডবল কাজের বিল পাশ করানোয় তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এই দুর্নীতি সম্ভব নয়।
এই দুর্নীতির ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হওয়ায়, সাধারণ জনগণ তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) মামুনুর রশিদের কাছে এসব বিষয় জানতে চাইলে তিনি মুঠোফেনে জানান, এই পকল্পগুলো চলমান আছে, আগামী মাসে কাজ শেষ হবে। দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। গত অর্থবছরের কাজ এখন কেন করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি বলতে পারবেন।
এই বিষয় বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা আক্তারকে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভি করেননি।পরে তারা মুঠোফোন খুদেবার্তা প্রেরণ করলেও তার কোন উত্তর তিনি দেননি।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ অক্টোবর, ২০২৫,  3:52 PM

news image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (জিআর) প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আংশিক প্রকল্প তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পূর্বের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ করা এবং সরজমিনে অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নামে ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা তছরুপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই দুর্নীতির কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মেম্বার ও প্রকল্পের সভাপতিরা, এবং এর সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও জনাব মামুনুর রশিদ) জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের মূল ধরন: ভুয়া প্রকল্প ও ডবল বিল
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই দুর্নীতির প্রধান পদ্ধতি ছিল একই কাজকে ডবল প্রকল্পে দেখানো:
ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ: একাধিক প্রকল্পের অ্যাপ্রোচসহ রাস্তা সংস্কারের কাজ পূর্বেই ঠিকাদার কর্তৃক নির্মিত ব্রিজের কাজের সঙ্গে ধরা ছিল। এর অর্থ হলো, একই কাজের জন্য ঠিকাদার একবার বিল তুলেছেন এবং জিআর প্রকল্প থেকে দ্বিতীয়বার বিল তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া বলে অভিযোগ উঠেছে।
অস্তিত্বহীন প্রকল্প: কিছু প্রকল্পের সরজমিনে কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
সন্দেহজনক প্রকল্পের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারগণ
প্রকল্পের তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১৩ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা (নগদ ও চাল) আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়:
প্রকল্পের নাম ও অবস্থান    বরাদ্দ    প্রকল্পের সভাপতি    দুর্নীতির ধরন-
উত্তর শিয়ালকাঠী ৯ নং ওয়ার্ড (কীর্তনীয়া বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা    পারভীন রহমান (মহিলা মেম্বার) সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
উত্তর ভিটেবাড়িয়া ২ নং ওয়ার্ড (ফরাজী সামনে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা পারভীন রহমান (মহিলা মেম্বার) সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
নদমুল্লা ৭ নং ওয়ার্ড (রুহুল খাবই পাশে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা    মনিরুল ইসলাম মেম্বার    সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
গোলবুনিয়া (আব্দুল হক মাস্টার) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।১ লক্ষ টাকা    বাহাউদ্দিন বাদল মেম্বার    ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপের অভিযোগ।
তেলিখালী ১ নং ওয়ার্ড (মাখন অধিকারীর বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা বাহাউদ্দিন বাদল মেম্বার    সম্পূর্ণ ভুয়া (ঠিকাদারের কাজের সঙ্গে ওভারল্যাপ)।
ধাওয়া ৯ নং ওয়ার্ড (পশারিবুনিয়া নাসির উদ্দিন মুন্সির বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার। ১ লক্ষ টাকা    মো. ওয়াদুদ হোসেন কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ধাওয়া ৩ নং ওয়ার্ড (মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ২ লক্ষ টাকা    মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গৌরীপুর ৩ নং ওয়ার্ড (আবু হানাফিয়া মাদ্রাসা সামনে) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ১ লক্ষ টাকাজিয়াউল আহসান মেম্বার সরজমিনে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি (ভুয়া)।
গৌরীপুর ৩ নং ওয়ার্ড (খলিল রতনের বাড়ি) ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।১ লক্ষ টাকা    জিয়াউল আহসান মেম্বার কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইকরি ইউনিয়নের সিং খালি দাখিল মাদ্রাসার খালের উপর ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সহ রাস্তা সংস্কার।    ২ টন চাল    মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মোট নগদ বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ (আংশিক): ৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা। মোট চাল আত্মসাতের অভিযোগ (আংশিক): ২ টন (প্রায় ৪ লক্ষ টাকা)।
পিআইও’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারীরা বলছেন, এই বৃহৎ অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) মামুনুর রশিদ সরাসরি জড়িত। প্রকল্পের ভুয়া বিল ও ডবল কাজের বিল পাশ করানোয় তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এই দুর্নীতি সম্ভব নয়।
এই দুর্নীতির ফলে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ হওয়ায়, সাধারণ জনগণ তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) মামুনুর রশিদের কাছে এসব বিষয় জানতে চাইলে তিনি মুঠোফেনে জানান, এই পকল্পগুলো চলমান আছে, আগামী মাসে কাজ শেষ হবে। দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। গত অর্থবছরের কাজ এখন কেন করছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিনি বলতে পারবেন।
এই বিষয় বক্তব্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা আক্তারকে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভি করেননি।পরে তারা মুঠোফোন খুদেবার্তা প্রেরণ করলেও তার কোন উত্তর তিনি দেননি।