CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

স্বাস্থ্যখাতে চীনা অনুদান,আধুনিক চিকিৎসা সহায়তা 

#
news image

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় অঙ্কের ঋণের পাশাপাশি দেশটি স্বাস্থ্যখাতে যে অর্থ দিচ্ছে, তার পুরোটাই অনুদান হিসেবে আসছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই মানবিক কূটনীতি দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নতুন দিশা দিচ্ছে।১. অনুদানের পরিমাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রচীন ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ১০.১৩ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ২১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা) অনুদান দিয়েছে, যার ৯০ শতাংশই স্বাস্থ্যখাতে ব্যবহৃত হয়েছে।অনুদান/অর্থায়নের অবস্থাপরিমাণ (ডলার)বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়)ইতিমধ্যে দেওয়া অনুদান (২০২৪ পর্যন্ত)$১০.১৩ কোটি১,২১৩ কোটি ৮০ লাখপাইপলাইনে থাকা অনুদান$৪৫.৫ কোটি৫,৪৮২ কোটি ২০ লাখমোট সম্ভাব্য অনুদান$৫৫.৬৩ কোটি৬,৭৭৬ কোটি টাকাএই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. অনুদানে নির্মিতব্য প্রধান হাসপাতাল ও সুবিধাচীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের অনুদান দিচ্ছে। এই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু জমির ব্যবস্থা করবে, নির্মাণ করবে চীন।প্রকল্পের নামঅবস্থানশয্যা সংখ্যাপ্রাক্কলিত চীনা অনুদান (কোটি টাকা)বিশেষত্ববাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিটচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)১৫০১৮০দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও প্লাস্টিক সার্জারি।টারশিয়ারি হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)নীলফামারী (তিস্তা প্রকল্প সংলগ্ন)১,০০০১,৪৮০ (পুরোটাই অনুদান)ক্যানসার, স্নায়ুরোগ, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ বিশেষায়িত সেবা।বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালচট্টগ্রাম (হাটহাজারী)৫০০-৭০০১,৯৪৫ (মোট ২,৬২৭ কোটি টাকার মধ্যে)টারশিয়ারি লেভেলের বিশেষায়িত হাসপাতাল, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল (পরিকল্পিত)সাভারের ধামরাই১০০-আহত ও প্রতিবন্ধী রোগীদের পুনর্বাসন।এছাড়াও, চীন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনে রোবোটিক থেরাপি ইউনিটে বিনিয়োগ করছে এবং দেশে আরও এক হাজার ডায়ালাইসিস মেশিন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রঅবকাঠামো ছাড়াও চীন বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে সহায়তা করছে:প্রশিক্ষণ: প্রতি বছর শতাধিক বাংলাদেশি নার্স ও চিকিৎসককে চীন প্রশিক্ষণ দেয়, যা আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক।সরঞ্জাম ও ওষুধ: বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে চীন থেকে ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) আমদানি করে। এছাড়া, মেডিকেল সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বড় অংশও চীন থেকে আমদানি হয়।কোভিড-১৯ সহায়তা: কোভিড-১৯ সংকটের সময় চীন সবার আগে মাস্ক, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে এবং বাংলাদেশ প্রথম কোভিড ভ্যাকসিন চীন থেকেই পেয়েছে।বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা: চীনা বিশেষজ্ঞরা জটিল রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠাতে আগ্রহী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. শেখ সায়েদুল হক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, চীনা অনুদানের ফলে স্বাস্থ্যখাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের মানুষ আরও বেশি উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ সতর্ক করে বলেছেন যে, শুধু ভবন তৈরি নয়, সুষ্ঠু পরিচালনা, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা নির্ভর করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ অক্টোবর, ২০২৫,  4:42 PM

news image

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে এগিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় অঙ্কের ঋণের পাশাপাশি দেশটি স্বাস্থ্যখাতে যে অর্থ দিচ্ছে, তার পুরোটাই অনুদান হিসেবে আসছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চীনের এই মানবিক কূটনীতি দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নতুন দিশা দিচ্ছে।১. অনুদানের পরিমাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রচীন ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে ১০.১৩ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ২১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা) অনুদান দিয়েছে, যার ৯০ শতাংশই স্বাস্থ্যখাতে ব্যবহৃত হয়েছে।অনুদান/অর্থায়নের অবস্থাপরিমাণ (ডলার)বাংলাদেশি টাকায় (প্রায়)ইতিমধ্যে দেওয়া অনুদান (২০২৪ পর্যন্ত)$১০.১৩ কোটি১,২১৩ কোটি ৮০ লাখপাইপলাইনে থাকা অনুদান$৪৫.৫ কোটি৫,৪৮২ কোটি ২০ লাখমোট সম্ভাব্য অনুদান$৫৫.৬৩ কোটি৬,৭৭৬ কোটি টাকাএই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. অনুদানে নির্মিতব্য প্রধান হাসপাতাল ও সুবিধাচীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের অনুদান দিচ্ছে। এই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু জমির ব্যবস্থা করবে, নির্মাণ করবে চীন।প্রকল্পের নামঅবস্থানশয্যা সংখ্যাপ্রাক্কলিত চীনা অনুদান (কোটি টাকা)বিশেষত্ববাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিটচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)১৫০১৮০দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও প্লাস্টিক সার্জারি।টারশিয়ারি হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)নীলফামারী (তিস্তা প্রকল্প সংলগ্ন)১,০০০১,৪৮০ (পুরোটাই অনুদান)ক্যানসার, স্নায়ুরোগ, হৃদরোগ, কিডনি রোগসহ বিশেষায়িত সেবা।বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালচট্টগ্রাম (হাটহাজারী)৫০০-৭০০১,৯৪৫ (মোট ২,৬২৭ কোটি টাকার মধ্যে)টারশিয়ারি লেভেলের বিশেষায়িত হাসপাতাল, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল (পরিকল্পিত)সাভারের ধামরাই১০০-আহত ও প্রতিবন্ধী রোগীদের পুনর্বাসন।এছাড়াও, চীন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসনে রোবোটিক থেরাপি ইউনিটে বিনিয়োগ করছে এবং দেশে আরও এক হাজার ডায়ালাইসিস মেশিন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রঅবকাঠামো ছাড়াও চীন বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতকে সহায়তা করছে:প্রশিক্ষণ: প্রতি বছর শতাধিক বাংলাদেশি নার্স ও চিকিৎসককে চীন প্রশিক্ষণ দেয়, যা আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক।সরঞ্জাম ও ওষুধ: বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো নিয়মিতভাবে চীন থেকে ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) আমদানি করে। এছাড়া, মেডিকেল সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির বড় অংশও চীন থেকে আমদানি হয়।কোভিড-১৯ সহায়তা: কোভিড-১৯ সংকটের সময় চীন সবার আগে মাস্ক, পিপিই ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছে এবং বাংলাদেশ প্রথম কোভিড ভ্যাকসিন চীন থেকেই পেয়েছে।বিশেষজ্ঞ সহযোগিতা: চীনা বিশেষজ্ঞরা জটিল রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠাতে আগ্রহী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ড. শেখ সায়েদুল হক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, চীনা অনুদানের ফলে স্বাস্থ্যখাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের মানুষ আরও বেশি উন্নত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ সতর্ক করে বলেছেন যে, শুধু ভবন তৈরি নয়, সুষ্ঠু পরিচালনা, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা নির্ভর করবে।