CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

‘অবহেলার কারণেই সায়মার মৃত্যু হয়েছে’

#
news image

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সায়মা হোসাইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অবহেলা জনিত হত্যা’ বলে অভিযোগ করেছেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন তারা এই দাবি করেছেন। 

এসময় তাঁরা সায়মা ‘হত্যার’ অবহেলায় যুক্ত সকলের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিচারসহ চার দফা দাবি জানান। একইসাথে তাঁরা আগামী তিন দিন ক্লাস পরিক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। 

এর আগে গতকাল বিকেলে মৃত শিক্ষার্থীর নাম সায়মা হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এবং মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। 

তাদের অন্যান্য দাবি গুলো হলো- ‘প্রশাসন কর্তৃক সায়মার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের সংস্কার ও উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণে রোড ম্যাপ ঘোষণা’, সুইমিং পুলের একটি অংশের গ্যালারি সায়মার নামে নামকরণ’। 

এসময় তারা, ‘তুমি কে আমি কে, সায়মা সায়মা’, ‘আমার বোন মরলো কেনো, প্রশাসন জবাব দে’, ‘প্রশাসন তুমি বলো,একটি লাশের দাম কতো’, ‘পানিতে ডুবে বোন মরে, প্রশাসন কি করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। 

সমাবেশে অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফজল বলেন, ‘সায়মার মৃত্যুর সময় তিনজন প্রশিক্ষক সুইমিংপুলের মধ্যেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ সায়মার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন নাই। তারা যখন বুঝতে পেরেছেন সায়মা মারা গেছে, তখন তারা জিমনেসিয়াম থেকে লোক এনে সায়মাকে উদ্ধার করে। আমার প্রশ্ন তারা কেমন প্রশিক্ষক, একজন শিক্ষার্থী ডুবে আছে তারা তাকে উদ্ধার করতে পারে না। প্রশাসন তাদের কিভাবে নিয়োগ দিয়েছে সে প্রশ্নও থেকে যায়। আমাদের দাবি, পুরো ঘটনায় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী নিশাত জান্নাত বলেন, ‘কয়েকজনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সায়মা আজ আমাদের সাথে নেই। এই মর্মদায়ক ঘটনা মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুব কঠিন। সায়মার মৃত্যুর সাথে জড়িতদের সকলের বিচার করতে হবে। এছাড়া আমরা এ দাবি ছাড়াও আরও চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো মেনে নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের যখন সাঁতার শেখানো হয় তখন সুইমিংপুলে পানি কম থাকে। কিন্তু যখন প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ করেন তখন পানি বেশি থাকে। তাই শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোখসানা বেগম নিয়ম করে দিয়েছিলেন, কোনো হলের  প্রশিক্ষক ব্যতীত শিক্ষার্থীদের যেন পানিতে নামতে না দেওয়া হয়। অথচ নিহত শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে (মন্নুজান হল) সাঁতারের কোনো প্রশিক্ষকই নেই। তবে, সেসময় সেখানে রহমতুন্নেসা, রোকেয়া ও তাপসী রাবেয়া হলের প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রশিক্ষক বলেন, সেই শিক্ষার্থী যখন পানিতে নামতে তখন আমরা তিনজনই সেখানে ছিলাম। হঠাৎ করে যখন তাঁকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন আমরা আশেপাশে তাকে খোঁজা শুরু করি। এরমধ্যে সাঁতাররত এক মেয়ের পায়ের সাথে তার শরীর লাগে। তখন সেই মেয়ে চিৎকার করে উঠে। তখন আমাদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষক পানিতে নামে, তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারপর সুইমিংপুলের গার্ড পানিতে নেমে তাঁকে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনা হয়। তারা তাকে তুলে আনে। তারপর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের কাছে কোনো গাফিলতি ছিল না। 

নিহত শিক্ষার্থীর একই বিভাগের সহপাঠী মোহাম্মদ তামিম জানান, ওই শিক্ষার্থী সাঁতারে পারদর্শী ছিলেন। কয়েকদিন পর তিনি একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি সুইমিংপুল দুইবার সাঁতরে পার হন। পরে, তৃতীয়বার পার হওয়ার সময় তিনি হঠাৎ পানিতে ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে থাকা প্রশিক্ষক এবং অন্যান্যরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁকে সুইমিংপুলে ডুবে থাকতে দেখলে, তারা বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে তাঁকে উদ্ধার করেন। ট্রেইনার থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে সুইমিংপুলে নামেননি। বাইরে থেকে একজন শিক্ষার্থী এসে তাঁকে সুইমিংপুল থেকে বের করেন।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোখসানা বেগম টুকটাকি বলেন, সাঁতার প্রতিযোগিতা অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করেছিলেন সায়মা। দুই রাউন্ড সাঁতরানোর পর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রামেকে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

সেসময় প্রশিক্ষক ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসময় তিনজন প্রশিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমার নির্দেশনা দেওয়া ছিল, প্রশিক্ষক না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী পানিতে নামতে পারবে না। ওই সময় প্রশিক্ষকরা কি করছিলেন, এই বিষয়ে এখন বলতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে, আমি তখন সেখানে ছিলাম। 


সায়মার বাবা বলেন, একটু আগেই সায়মার দাফন শেষ হয়েছে। প্রাথমিক মৃত্যুর কারন পুলিশ এখনো আমাদেরকে জানায়নি । পরিবারের সবাই শোকাহত। নিজের মনকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি। আমি খুব শীঘ্রই ক্যাম্পাসে আসব।

রাবি প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর, ২০২৫,  6:09 PM

news image

সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সায়মা হোসাইনের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অবহেলা জনিত হত্যা’ বলে অভিযোগ করেছেন তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন তারা এই দাবি করেছেন। 

এসময় তাঁরা সায়মা ‘হত্যার’ অবহেলায় যুক্ত সকলের যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে বিচারসহ চার দফা দাবি জানান। একইসাথে তাঁরা আগামী তিন দিন ক্লাস পরিক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। 

এর আগে গতকাল বিকেলে মৃত শিক্ষার্থীর নাম সায়মা হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এবং মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। 

তাদের অন্যান্য দাবি গুলো হলো- ‘প্রশাসন কর্তৃক সায়মার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের সংস্কার ও উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণে রোড ম্যাপ ঘোষণা’, সুইমিং পুলের একটি অংশের গ্যালারি সায়মার নামে নামকরণ’। 

এসময় তারা, ‘তুমি কে আমি কে, সায়মা সায়মা’, ‘আমার বোন মরলো কেনো, প্রশাসন জবাব দে’, ‘প্রশাসন তুমি বলো,একটি লাশের দাম কতো’, ‘পানিতে ডুবে বোন মরে, প্রশাসন কি করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। 

সমাবেশে অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফজল বলেন, ‘সায়মার মৃত্যুর সময় তিনজন প্রশিক্ষক সুইমিংপুলের মধ্যেই উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ সায়মার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন নাই। তারা যখন বুঝতে পেরেছেন সায়মা মারা গেছে, তখন তারা জিমনেসিয়াম থেকে লোক এনে সায়মাকে উদ্ধার করে। আমার প্রশ্ন তারা কেমন প্রশিক্ষক, একজন শিক্ষার্থী ডুবে আছে তারা তাকে উদ্ধার করতে পারে না। প্রশাসন তাদের কিভাবে নিয়োগ দিয়েছে সে প্রশ্নও থেকে যায়। আমাদের দাবি, পুরো ঘটনায় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী নিশাত জান্নাত বলেন, ‘কয়েকজনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সায়মা আজ আমাদের সাথে নেই। এই মর্মদায়ক ঘটনা মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুব কঠিন। সায়মার মৃত্যুর সাথে জড়িতদের সকলের বিচার করতে হবে। এছাড়া আমরা এ দাবি ছাড়াও আরও চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো মেনে নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের যখন সাঁতার শেখানো হয় তখন সুইমিংপুলে পানি কম থাকে। কিন্তু যখন প্রতিযোগিতার জন্য শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ করেন তখন পানি বেশি থাকে। তাই শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোখসানা বেগম নিয়ম করে দিয়েছিলেন, কোনো হলের  প্রশিক্ষক ব্যতীত শিক্ষার্থীদের যেন পানিতে নামতে না দেওয়া হয়। অথচ নিহত শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে (মন্নুজান হল) সাঁতারের কোনো প্রশিক্ষকই নেই। তবে, সেসময় সেখানে রহমতুন্নেসা, রোকেয়া ও তাপসী রাবেয়া হলের প্রশিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রশিক্ষক বলেন, সেই শিক্ষার্থী যখন পানিতে নামতে তখন আমরা তিনজনই সেখানে ছিলাম। হঠাৎ করে যখন তাঁকে খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন আমরা আশেপাশে তাকে খোঁজা শুরু করি। এরমধ্যে সাঁতাররত এক মেয়ের পায়ের সাথে তার শরীর লাগে। তখন সেই মেয়ে চিৎকার করে উঠে। তখন আমাদের মধ্যে একজন প্রশিক্ষক পানিতে নামে, তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তারপর সুইমিংপুলের গার্ড পানিতে নেমে তাঁকে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে আনা হয়। তারা তাকে তুলে আনে। তারপর মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের কাছে কোনো গাফিলতি ছিল না। 

নিহত শিক্ষার্থীর একই বিভাগের সহপাঠী মোহাম্মদ তামিম জানান, ওই শিক্ষার্থী সাঁতারে পারদর্শী ছিলেন। কয়েকদিন পর তিনি একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি সুইমিংপুল দুইবার সাঁতরে পার হন। পরে, তৃতীয়বার পার হওয়ার সময় তিনি হঠাৎ পানিতে ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে থাকা প্রশিক্ষক এবং অন্যান্যরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁকে সুইমিংপুলে ডুবে থাকতে দেখলে, তারা বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে তাঁকে উদ্ধার করেন। ট্রেইনার থাকা সত্ত্বেও তারা কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে সুইমিংপুলে নামেননি। বাইরে থেকে একজন শিক্ষার্থী এসে তাঁকে সুইমিংপুল থেকে বের করেন।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোখসানা বেগম টুকটাকি বলেন, সাঁতার প্রতিযোগিতা অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করেছিলেন সায়মা। দুই রাউন্ড সাঁতরানোর পর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রামেকে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

সেসময় প্রশিক্ষক ছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেসময় তিনজন প্রশিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমার নির্দেশনা দেওয়া ছিল, প্রশিক্ষক না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী পানিতে নামতে পারবে না। ওই সময় প্রশিক্ষকরা কি করছিলেন, এই বিষয়ে এখন বলতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে, আমি তখন সেখানে ছিলাম। 


সায়মার বাবা বলেন, একটু আগেই সায়মার দাফন শেষ হয়েছে। প্রাথমিক মৃত্যুর কারন পুলিশ এখনো আমাদেরকে জানায়নি । পরিবারের সবাই শোকাহত। নিজের মনকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছি। আমি খুব শীঘ্রই ক্যাম্পাসে আসব।