রাবি প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর, ২০২৫, 6:26 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন ভেঙেছেন উপাচার্য। অনশন শুরুর প্রায় ২৪ ঘন্টা পর অনশন ভাঙলেন তাঁরা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং পানীয় পান করিয়ে অনশন ভাঙিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সৈকত ঢাকার সময়কে বলেন, উপাচার্য আমাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন এটি বাস্তবায়নে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যেহেতু সভাপতি নিজে পদত্যাগ করছেন না, সেহেতু তাকে যদি সরাসরি প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সরাতে হলে একটি দীর্ঘ পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তিনি আমাদের ধৈর্য্য ধরে তাদের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই আশ্বাসে আমরা অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
এর আগে গতকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন বিভাগের ৫ শিক্ষার্থী। আজ দুপুর ১টায় অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভাগের পঞ্চাশর্ধ শিক্ষার্থী এসে প্রশাসনের ভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন আলী মণ্ডল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইলমুল মুনতাহা ও আয়েশা খাতুন হুমায়রা, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইমন হোসেন ও মো. কাউছার এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাদিক হাসান। এদের মধ্যে সাদিক ও ইমন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম সাদমান ঢাকার সময়কে বলেন, ‘আমরা তিন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। অন্য বিভাগ থেকে আসায় তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গাটা নাই। তাই আমরা সভাপতির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করি।’
রাইসুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী ঢাকার সময়কে বলেন, ‘এক দফা দাবিতে আমাদের ছয়জন ভাই-বোন ২১ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। আমাদের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই সভাপতির পদত্যাগ চান। প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ব্যতিত বাকি শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা সভা শেষে বের হয়েছেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁকে অপসারণ করে নতুন সভাপতি নিয়োগ না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঢাকার সময়কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য মহোদয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এনামুল হককে গত জুলাইয়ে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শুধুমাত্র চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ পাবার পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর নিজ বিভাগ মনোবিজ্ঞানকেও সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন তাঁরা। এর অংশ হিসেবে তাঁরা রক্ত ব্যানার লেখা, সংবাদ সম্মেলন, মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার তাঁরা তিন দফা দাবি থেকে সরে এসে বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করেন। গতকাল এক দফা দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন।
যে তিন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল তা হলো বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন; ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
রাবি প্রতিনিধি
২৭ অক্টোবর, ২০২৫, 6:26 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন ভেঙেছেন উপাচার্য। অনশন শুরুর প্রায় ২৪ ঘন্টা পর অনশন ভাঙলেন তাঁরা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং পানীয় পান করিয়ে অনশন ভাঙিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান সৈকত ঢাকার সময়কে বলেন, উপাচার্য আমাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন এটি বাস্তবায়নে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যেহেতু সভাপতি নিজে পদত্যাগ করছেন না, সেহেতু তাকে যদি সরাসরি প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সরাতে হলে একটি দীর্ঘ পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তিনি আমাদের ধৈর্য্য ধরে তাদের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই আশ্বাসে আমরা অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
এর আগে গতকাল রোববার বিকেল ৩টা থেকে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন বিভাগের ৫ শিক্ষার্থী। আজ দুপুর ১টায় অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। এর মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে স্যালাইন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভাগের পঞ্চাশর্ধ শিক্ষার্থী এসে প্রশাসনের ভবনের ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন আলী মণ্ডল, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ইলমুল মুনতাহা ও আয়েশা খাতুন হুমায়রা, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইমন হোসেন ও মো. কাউছার এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাদিক হাসান। এদের মধ্যে সাদিক ও ইমন গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনরত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম সাদমান ঢাকার সময়কে বলেন, ‘আমরা তিন দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার আন্দোলন করে যাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করলেও তিনি গুরুত্ব দেননি। অন্য বিভাগ থেকে আসায় তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গাটা নাই। তাই আমরা সভাপতির পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করি।’
রাইসুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী ঢাকার সময়কে বলেন, ‘এক দফা দাবিতে আমাদের ছয়জন ভাই-বোন ২১ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। আমাদের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই সভাপতির পদত্যাগ চান। প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ব্যতিত বাকি শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। তারা সভা শেষে বের হয়েছেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁকে অপসারণ করে নতুন সভাপতি নিয়োগ না দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ঢাকার সময়কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য মহোদয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এনামুল হককে গত জুলাইয়ে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে শুধুমাত্র চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ পাবার পর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর নিজ বিভাগ মনোবিজ্ঞানকেও সংযুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় গত বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন তাঁরা। এর অংশ হিসেবে তাঁরা রক্ত ব্যানার লেখা, সংবাদ সম্মেলন, মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বৃহস্পতিবার তাঁরা তিন দফা দাবি থেকে সরে এসে বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করেন। গতকাল এক দফা দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেন।
যে তিন দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল তা হলো বৈষম্যমূলক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন; ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু এবং বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে টেকনিক্যাল ক্যাডার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।