স্পোর্টস ডেস্ক
০১ নভেম্বর, ২০২৫, 5:57 PM
গ্যালারির দর্শকদের যখন ধন্যবাদ দিয়ে লিটন বলতে থাকলেন পরের বার এখানে আপনাদের হাসি ফোটাতে পারব, গ্যালারি তখন মেলার ভাঙা হাট। প্রিয় দলকে এভাবে হোয়াইটওয়াশ দেখার পর আর বাড়ি ফেরার সময় ট্রাফিক জ্যামের বিরক্তি কেউ নিতে চাননি। এই দলটি নিয়ে ভীষণভাবে হতাশ তারা, যেতে যেতে বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেলের কাছে দলের একাধিক ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে রীতিমতো নালিশ করে গেছেন তাদের অনেকে।
যে দলের একগাদা ব্যাটসম্যান লেগ সাইডের বাইরে কোনো শটসই খেলতে পারেন না, তাদের দিয়ে এই আধুনিক টি২০ ক্রিকেটে কীভাবে টিকে থাকবে বাংলাদেশ দল? প্রশ্নটা করা হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক লিটন দাসকে। ‘দেখুন ব্যাটসম্যানরা যত স্কিলড হবে, তত ম্যাচে তার প্রয়োগ করতে পারবে। এখনকার ক্রিকেটে অনেক ব্যাটসম্যানকে দেখবেন ঘূর্ণি উইকেটে সুইপ, রিভার্স সুইপ ভালো খেলে। আমরা সেটা খেলতে পারি না। এই ব্যাপারটি অনেক সময় ব্যাটসম্যানের নিজস্ব স্কিলের ব্যাপার।’
জাকেরের লেগ সাইড দিয়ে মারার বদঅভ্যাসটিকে এভাবেই আড়াল করার চেষ্টা করলেন লিটন। সঙ্গে ম্যাচটি হারার জন্য সন্ধ্যার পর মাঠে পড়া শিশিরের ব্যাপারটিও সামনে আনলেন। ‘প্রকৃতির ওপর তো আমাদের কারও হাত নেই। দুর্ভাগ্য আমাদের প্রথম দুই ম্যাচে কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এতটা শিশির পড়েনি মাঠে। আজ কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রচুর শিশির পড়েছে। আমাদের বোলাররা ভালোভাবে বল গ্রিপ করতে পারেনি।’
লিটনের কথাটি শুনেই পাশে বসা সাংবাদিকের চিমটি, ‘জানতাম হারলে শিশিরকেই টেনে আনা হবে।’ শুধুই কি শিশিরের কারণে ম্যাচটি পিছলে গেছে। মাত্র ১৫১ রান করে কি ম্যাচটি জেতার আশা করেছিলেন অধিনায়ক। ‘এখানে কিন্তু ১৬৫ রানের বেশি ওঠেনি এই সিরিজে। আরও কিছু রান হলে ভালো হতো। কিন্তু আমাদের কিছু ক্যাচ মিসও হয়েছে।’
সিরিজ শুরুর আগে তিনি ‘প্রেশার’ চেয়ে নিয়েছিলেন। সেটা মনে করিয়ে দিতেই লিটন বলে চললেন। ‘হ্যাঁ আমি সত্যিই প্রেশার চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে রিকোভারিও করতে চেয়েছিলাম। আমরা তিন ম্যাচেই সেই প্রেশার পেয়েছি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে, দুর্ভাগ্য এই যে সেখান থেকে সেই চাপ সামলে উঠতে পারিনি।’
কোনো রাখঢাক না রেখেই সরাসরি প্রশ্ন করা হয়– আপনাদের এই দলটি নিয়ে সমর্থকরা ভীষণভাবে হতাশ, মিডল অর্ডারে কেউ রানই করতে পারেন না। বিশ্বকাপের আগে এই দলটির কী পরিবর্তন চান? ‘আমার মনে হয় এই দলের যারা খেলছে, তারা সবাই প্রমাণিত ক্রিকেটার, মাঠে তারা আগে পারফর্ম করেছে। তবে গত কয়েক মাসে অনেক বেশি খেলা থাকায় তারা হয়তো কিছুটা ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। পরের টি২০ সিরিজের আগে অন্তত ১০-১২ দিনের বিশ্রাম পাবে তারা। সেটা পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
তবে কি এই তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলীদের নিয়েই বিশ্বকাপে যাবেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ড সিরিজ আর ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানকে নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ রয়েছে। নতুন কাউকে নিয়ে কি দেখা যায় না পরের সিরিজগুলোতে? নতুনদের নিয়েও যে ঝুঁকি থাকে, সেটা বলে যেন নিজের নিরুৎসাহিতাই প্রকাশ করলেন। তবে বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে তাঁর হতাশাটা চেষ্টা করেও লুকাতে পারেননি। ‘আমাদের দলে যদি স্কিলড ক্রিকেটার থাকে, তাহলে তার হাতে শটের বৈচিত্র্য থাকবে। সেটা হলে অবশ্যই ভালো হতো। আসলে আমরা আধুনিক ক্রিকেটে অনেকের চেয়ে এই দিকটাতে পিছিয়ে আছি।’
সিরিজের মাঝে শামীম হোসেনের নাম নিয়ে যেভাবে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন, এদিন কিন্তু সেভাবে কারও নাম নেননি তিনি। নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে রান না পাওয়ার আক্ষেপ করেছেন। ‘আমি হয়তো ইনজুরির কারণে এই সিরিজের আগে কিছুটা বিশ্রাম পেয়েছিলাম, কিন্তু প্রত্যাশা মতো রান করতে পারিনি। বাকিরা কিন্তু সেই টানা ম্যাচ খেলে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস সিরিজ থেকে। এশিয়া কাপের পর আফগানিস্তান সিরিজ, সেখান থেকে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার টানা ম্যাচ খেলে যাচ্ছে। আশা করছি, কিছুটা বিশ্রাম পেলে সবাই আগের ফর্মে ফিরতে পারবে।’ লিটন বললেন ঠিকই, কিন্তু সামনে থাকা শ্রোতাদের কেউ তা বিশ্বাস করল বলে মনে হয়নি।
স্পোর্টস ডেস্ক
০১ নভেম্বর, ২০২৫, 5:57 PM
গ্যালারির দর্শকদের যখন ধন্যবাদ দিয়ে লিটন বলতে থাকলেন পরের বার এখানে আপনাদের হাসি ফোটাতে পারব, গ্যালারি তখন মেলার ভাঙা হাট। প্রিয় দলকে এভাবে হোয়াইটওয়াশ দেখার পর আর বাড়ি ফেরার সময় ট্রাফিক জ্যামের বিরক্তি কেউ নিতে চাননি। এই দলটি নিয়ে ভীষণভাবে হতাশ তারা, যেতে যেতে বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেলের কাছে দলের একাধিক ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে রীতিমতো নালিশ করে গেছেন তাদের অনেকে।
যে দলের একগাদা ব্যাটসম্যান লেগ সাইডের বাইরে কোনো শটসই খেলতে পারেন না, তাদের দিয়ে এই আধুনিক টি২০ ক্রিকেটে কীভাবে টিকে থাকবে বাংলাদেশ দল? প্রশ্নটা করা হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক লিটন দাসকে। ‘দেখুন ব্যাটসম্যানরা যত স্কিলড হবে, তত ম্যাচে তার প্রয়োগ করতে পারবে। এখনকার ক্রিকেটে অনেক ব্যাটসম্যানকে দেখবেন ঘূর্ণি উইকেটে সুইপ, রিভার্স সুইপ ভালো খেলে। আমরা সেটা খেলতে পারি না। এই ব্যাপারটি অনেক সময় ব্যাটসম্যানের নিজস্ব স্কিলের ব্যাপার।’
জাকেরের লেগ সাইড দিয়ে মারার বদঅভ্যাসটিকে এভাবেই আড়াল করার চেষ্টা করলেন লিটন। সঙ্গে ম্যাচটি হারার জন্য সন্ধ্যার পর মাঠে পড়া শিশিরের ব্যাপারটিও সামনে আনলেন। ‘প্রকৃতির ওপর তো আমাদের কারও হাত নেই। দুর্ভাগ্য আমাদের প্রথম দুই ম্যাচে কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে এতটা শিশির পড়েনি মাঠে। আজ কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রচুর শিশির পড়েছে। আমাদের বোলাররা ভালোভাবে বল গ্রিপ করতে পারেনি।’
লিটনের কথাটি শুনেই পাশে বসা সাংবাদিকের চিমটি, ‘জানতাম হারলে শিশিরকেই টেনে আনা হবে।’ শুধুই কি শিশিরের কারণে ম্যাচটি পিছলে গেছে। মাত্র ১৫১ রান করে কি ম্যাচটি জেতার আশা করেছিলেন অধিনায়ক। ‘এখানে কিন্তু ১৬৫ রানের বেশি ওঠেনি এই সিরিজে। আরও কিছু রান হলে ভালো হতো। কিন্তু আমাদের কিছু ক্যাচ মিসও হয়েছে।’
সিরিজ শুরুর আগে তিনি ‘প্রেশার’ চেয়ে নিয়েছিলেন। সেটা মনে করিয়ে দিতেই লিটন বলে চললেন। ‘হ্যাঁ আমি সত্যিই প্রেশার চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখান থেকে রিকোভারিও করতে চেয়েছিলাম। আমরা তিন ম্যাচেই সেই প্রেশার পেয়েছি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে, দুর্ভাগ্য এই যে সেখান থেকে সেই চাপ সামলে উঠতে পারিনি।’
কোনো রাখঢাক না রেখেই সরাসরি প্রশ্ন করা হয়– আপনাদের এই দলটি নিয়ে সমর্থকরা ভীষণভাবে হতাশ, মিডল অর্ডারে কেউ রানই করতে পারেন না। বিশ্বকাপের আগে এই দলটির কী পরিবর্তন চান? ‘আমার মনে হয় এই দলের যারা খেলছে, তারা সবাই প্রমাণিত ক্রিকেটার, মাঠে তারা আগে পারফর্ম করেছে। তবে গত কয়েক মাসে অনেক বেশি খেলা থাকায় তারা হয়তো কিছুটা ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। পরের টি২০ সিরিজের আগে অন্তত ১০-১২ দিনের বিশ্রাম পাবে তারা। সেটা পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
তবে কি এই তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলীদের নিয়েই বিশ্বকাপে যাবেন তিনি। বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ড সিরিজ আর ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানকে নিয়ে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ রয়েছে। নতুন কাউকে নিয়ে কি দেখা যায় না পরের সিরিজগুলোতে? নতুনদের নিয়েও যে ঝুঁকি থাকে, সেটা বলে যেন নিজের নিরুৎসাহিতাই প্রকাশ করলেন। তবে বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে তাঁর হতাশাটা চেষ্টা করেও লুকাতে পারেননি। ‘আমাদের দলে যদি স্কিলড ক্রিকেটার থাকে, তাহলে তার হাতে শটের বৈচিত্র্য থাকবে। সেটা হলে অবশ্যই ভালো হতো। আসলে আমরা আধুনিক ক্রিকেটে অনেকের চেয়ে এই দিকটাতে পিছিয়ে আছি।’
সিরিজের মাঝে শামীম হোসেনের নাম নিয়ে যেভাবে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন, এদিন কিন্তু সেভাবে কারও নাম নেননি তিনি। নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে রান না পাওয়ার আক্ষেপ করেছেন। ‘আমি হয়তো ইনজুরির কারণে এই সিরিজের আগে কিছুটা বিশ্রাম পেয়েছিলাম, কিন্তু প্রত্যাশা মতো রান করতে পারিনি। বাকিরা কিন্তু সেই টানা ম্যাচ খেলে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস সিরিজ থেকে। এশিয়া কাপের পর আফগানিস্তান সিরিজ, সেখান থেকে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটার টানা ম্যাচ খেলে যাচ্ছে। আশা করছি, কিছুটা বিশ্রাম পেলে সবাই আগের ফর্মে ফিরতে পারবে।’ লিটন বললেন ঠিকই, কিন্তু সামনে থাকা শ্রোতাদের কেউ তা বিশ্বাস করল বলে মনে হয়নি।