CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

চিড়িয়াখানাকে শুধু রাজস্ব বা বিনোদনের মানদণ্ড ভাবা উচিৎ নয়: উপদেষ্টা

#
news image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে কেবল রাজস্ব আয় বা নিছক বিনোদনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং এটি দেশের "বিশেষ পরিচয়ের প্রতীক" হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। চিড়িয়াখানার প্রাণিগুলোর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় না—এমন অভিযোগ করে তিনি সংস্কারের ওপর জোর দেন। আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে 'বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, চিড়িয়াখানার বর্তমান সংকট কোনো একক ব্যক্তি বা পরিচালকের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, কারণ এ সমস্যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। তিনি জোর দেন:

সমন্বিত উদ্যোগ: অধিদপ্তর, চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি: তিনি ঘোষণা করেন, চিড়িয়াখানার উন্নয়নে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সব শ্রেণির অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে প্রতি মাসে বৈঠক করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণার নতুন দিকনির্দেশনা
ফরিদা আখতার চিড়িয়াখানার প্রাণী সংরক্ষণ পরিকল্পনাকে চিড়িয়াখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন এবং নতুন কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন:

প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর: কোন কোন প্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর করা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।

বার্ধক্যপ্রাপ্ত প্রাণী: যেসব প্রাণীর স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে—সেগুলোকে চিড়িয়াখানায় রাখা হবে, নাকি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন।

গবেষণা নীতি: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাণীকে গবেষণার জন্য বাইরে পাঠানো হবে না। গবেষকদের চিড়িয়াখানায় এসে এখানকার পরিবেশের মধ্যেই গবেষণা করতে হবে।

জনবল সংকট ও সমাধানের প্রতিশ্রুতি
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় সংকটের কথা তুলে ধরেন:

"আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট প্রাণীগুলোকে যেভাবে রাখার দরকার, তা আমরা করতে পারছিনা। এর বড় কারণ পর্যাপ্ত জনবলের অভাব। আজকের এ কর্মশালা থেকে যে প্রস্তাবগুলো আসবে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।"

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়া আলোচনা করেন চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এ বি এম শহীদ উল্লাহ এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ নভেম্বর, ২০২৫,  5:15 PM

news image

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে কেবল রাজস্ব আয় বা নিছক বিনোদনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং এটি দেশের "বিশেষ পরিচয়ের প্রতীক" হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। চিড়িয়াখানার প্রাণিগুলোর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় না—এমন অভিযোগ করে তিনি সংস্কারের ওপর জোর দেন। আজ সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে 'বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা' শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, চিড়িয়াখানার বর্তমান সংকট কোনো একক ব্যক্তি বা পরিচালকের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়, কারণ এ সমস্যা বহু বছর ধরে চলে আসছে। তিনি জোর দেন:

সমন্বিত উদ্যোগ: অধিদপ্তর, চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি: তিনি ঘোষণা করেন, চিড়িয়াখানার উন্নয়নে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সব শ্রেণির অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে প্রতি মাসে বৈঠক করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণার নতুন দিকনির্দেশনা
ফরিদা আখতার চিড়িয়াখানার প্রাণী সংরক্ষণ পরিকল্পনাকে চিড়িয়াখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার পরামর্শ দেন এবং নতুন কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন:

প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর: কোন কোন প্রাণীকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর করা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।

বার্ধক্যপ্রাপ্ত প্রাণী: যেসব প্রাণীর স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে—সেগুলোকে চিড়িয়াখানায় রাখা হবে, নাকি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা প্রয়োজন।

গবেষণা নীতি: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাণীকে গবেষণার জন্য বাইরে পাঠানো হবে না। গবেষকদের চিড়িয়াখানায় এসে এখানকার পরিবেশের মধ্যেই গবেষণা করতে হবে।

জনবল সংকট ও সমাধানের প্রতিশ্রুতি
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় সংকটের কথা তুলে ধরেন:

"আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট প্রাণীগুলোকে যেভাবে রাখার দরকার, তা আমরা করতে পারছিনা। এর বড় কারণ পর্যাপ্ত জনবলের অভাব। আজকের এ কর্মশালা থেকে যে প্রস্তাবগুলো আসবে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।"

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়া আলোচনা করেন চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. এ বি এম শহীদ উল্লাহ এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।