নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ নভেম্বর, ২০২৫, 5:53 PM
গণঅভ্যুত্থানের পর ‘আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে আজ বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে।’
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সমৃদ্ধি দিবস, সেই পথেই যেতে হবে। যে পথে সত্যিকার অর্থেই আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, একটা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’
জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণভোট প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্যে।’
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে দীর্ঘ আলোচনায় উপনীত ঐকমত্যকে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনোমতেই নিত্য-নতুন প্রশ্ন উত্থাপন কিংবা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিতব্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবে না।
বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয় ঐকমত্য হয়েছে তার আইনানুগ বাস্তবায়নের জন্য এবং যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনকে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং পুস্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদসহ মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পুস্পস্তবক অপর্ণের পরে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, এ্যাব, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মস্যজীবীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা আলাদা আলাদাভাবে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অপর্ণ করে।
জিয়া সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণ করেছেন
৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে বানচাল করে দেয় এবং এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মহানায়ক, রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। এটা ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা টার্নিং পয়েন্ট।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরত নিয়ে আসেন। মাল্টি পার্টি ডেমোক্রেসি তিনি চর্চা করেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক যে অধিকার সে অধিকারকে নিশ্চিতের চেষ্টা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে একদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার, রাজনৈতিক অবস্থার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন করেন এবং একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন।’
দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে উন্নয়নে অগ্রযাত্রা সূচনা করেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। সেই ভিত্তি পরবর্তীকালে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ নভেম্বর, ২০২৫, 5:53 PM
গণঅভ্যুত্থানের পর ‘আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পরে আজ বাংলাদেশে বিভিন্ন রকমভাবে একটা প্রচেষ্টা চলছে, একটা চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্রকে আবারও ধ্বংস করার জন্যে।’
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সমৃদ্ধি দিবস, সেই পথেই যেতে হবে। যে পথে সত্যিকার অর্থেই আমরা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, একটা সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারবো, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো, সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, বিএনপি এগিয়ে যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।’
জামায়াতের আলোচনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণভোট প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত খুব পরিষ্কার আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি। ওটাই আমাদের বক্তব্যে।’
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি দৃঢ়ভাবে মনে করে দীর্ঘ আলোচনায় উপনীত ঐকমত্যকে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনোমতেই নিত্য-নতুন প্রশ্ন উত্থাপন কিংবা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিতব্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করবে না।
বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয় ঐকমত্য হয়েছে তার আইনানুগ বাস্তবায়নের জন্য এবং যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনকে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং পুস্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদসহ মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিনসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির পুস্পস্তবক অপর্ণের পরে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ড্যাব, এ্যাব, ছাত্রদল, তাঁতী দল, মস্যজীবীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা আলাদা আলাদাভাবে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অপর্ণ করে।
জিয়া সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণ করেছেন
৭ নভেম্বরের পটভূমি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং দেশপ্রেমিক মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্তকে বানচাল করে দেয় এবং এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মহানায়ক, রাষ্ট্রনায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে গৃহবন্দি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে। এটা ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতির একটা টার্নিং পয়েন্ট।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফেরত নিয়ে আসেন। মাল্টি পার্টি ডেমোক্রেসি তিনি চর্চা করেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেন এবং জনগণের গণতান্ত্রিক যে অধিকার সে অধিকারকে নিশ্চিতের চেষ্টা করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি বাংলাদেশে একদিকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার, রাজনৈতিক অবস্থার, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার সাধন করেন এবং একদলীয় বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন।’
দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে উন্নয়নে অগ্রযাত্রা সূচনা করেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশকে সুখী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। সেই ভিত্তি পরবর্তীকালে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’