CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

রেহানা, টিউলিপ ও আজমিনার তিন মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৩ জনের সাক্ষ্য

#
news image

পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক তিন মামলায় আরও ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে তিন জন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।

রবিবার (৯ নভেম্বর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ মো. রবিউল আলম তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীর জেরার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তিন মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে তার আইনজীবী শাহিনুল ইসলাম তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীদের জেরা করার অনুমতি চান। আগামী ১৬ নভেম্বর রেহানার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীর জেরার অনুমতি দেন। দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ মামলায় আজকের সাক্ষীরা হলেন, সোনালী ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন, রাজউকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান লায়লা নূর বিশ্বাস, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মো. আল মামুন মিয়া, রাজউকের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম অপারেটর মো. জাকির হোসাইন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মো. জহিরুল ইসলাম খান, রাজউকের উপসচিব তানজিলুর রহমান, দুদকের কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম, ঢাকার সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান, গাজীপুরের সাবরেজিস্ট্রার সোহেল রানা, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ, হাসিবুজ্জামান, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর থেকে শেখ রেহানা ও তার তিন ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ অনেককে আসামি করা হয়। সব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ নভেম্বর, ২০২৫,  6:26 PM

news image

পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের পৃথক তিন মামলায় আরও ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। তাদের মধ্যে তিন জন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।

রবিবার (৯ নভেম্বর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ মো. রবিউল আলম তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীর জেরার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তিন মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে তার আইনজীবী শাহিনুল ইসলাম তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীদের জেরা করার অনুমতি চান। আগামী ১৬ নভেম্বর রেহানার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীর জেরার অনুমতি দেন। দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ মামলায় আজকের সাক্ষীরা হলেন, সোনালী ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন, রাজউকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান লায়লা নূর বিশ্বাস, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মো. আল মামুন মিয়া, রাজউকের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম অপারেটর মো. জাকির হোসাইন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মো. জহিরুল ইসলাম খান, রাজউকের উপসচিব তানজিলুর রহমান, দুদকের কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম, ঢাকার সাবরেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান, গাজীপুরের সাবরেজিস্ট্রার সোহেল রানা, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ, হাসিবুজ্জামান, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর থেকে শেখ রেহানা ও তার তিন ছেলেমেয়ের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ অনেককে আসামি করা হয়। সব মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।