CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সেবায় ৭ দফা নির্দেশনা জারি

#
news image

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি ও দুর্নীতি দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৭ দফা নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য লিজগ্রহীতাদের দুর্ভোগ লাঘব করা।

উপসচিব ড. মোঃ নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনের প্রধান পরিবর্তন হলো— আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান, হেবা, নামজারি, হস্তান্তর বা ঋণ অনুমতির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমোদন গ্রহণের প্রথা বাতিল করা।
৭ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনাগুলো মূলত লিজগ্রহীতাদের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়াকে সরল করবে:
১. অনুমোদন প্রথা বাতিল ও সরলীকরণ (প্রধান পরিবর্তন)
বাতিল: উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান, হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, বণ্টন), আম-মোক্তার (আম-মোক্তার) দলিল সম্পাদন বা বাতিল, এবং ঋণ গ্রহণের অনুমতির জন্য লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বাতিল করা হলো।
বহাল: তবে প্লটের আয়তন পরিবর্তন (বিভাজন বা একত্রীকরণ) এবং ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন (মাস্টার প্ল্যান পরিবর্তন) এর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বহাল থাকবে।

২. হস্তান্তর ফি ও আদায় পদ্ধতি
ফ্ল্যাট/ভবনসহ ভূমি হস্তান্তর: দলিল মূল্যের ২% (দুই শতাংশ) হারে ফি জমা দিতে হবে।

শুধু প্লট/ভূমি হস্তান্তর: দলিল মূল্যের ৩% (তিন শতাংশ) হারে ফি জমা দিতে হবে।

আদায়: এই অর্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন দলিল সম্পাদনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা দিতে হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়/গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে এটি নন-ট্যাক্স রেভিনিউ (এনটিআর) হিসেবে আদায় করা হবে।

৩. রেকর্ড হালনাগাদ ও হয়রানি রোধ
দাখিল: দলিল সম্পাদনের পর অবিকল নকলের (সার্টিফাইড কপি) একটি কপি এবং নামজারির পর রেকর্ডপত্র ক্রেতাকে ৯০ দিনের মধ্যে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিল করতে হবে।

জরিমানা: নির্ধারিত সময়ে দাখিল না করলে দৈনিক ৫০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাবে।

হালনাগাদ: লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করে তা ক্রেতাকে রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইল/ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। ব্যর্থ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. লিজের স্বয়ংক্রিয় নবায়ন
লিজ দলিলের মেয়াদ শেষে (নিরানব্বই বছর পর) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নকৃত বলে গণ্য হবে এবং নবায়নের জন্য ফি আদায় রহিত হবে।

৫. বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রথা বহাল
আবাসিক ব্যতীত অন্যান্য (প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্য ও শিল্প) প্লট, ফ্ল্যাট বা স্পেসের হস্তান্তর ও নামজারির ক্ষেত্রে লিজদাতা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বহাল থাকবে।

৬. বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদন বাধ্যতামূলক
নিম্নলিখিত বিশেষ ক্ষেত্রে লিজদাতার অনুমোদন গ্রহণের প্রথা বহাল থাকবে:

মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং তাতে সরকারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত (যা ২৮/০৩/১৯৮৮-এর পরে অবমুক্ত হয়নি)।

জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুলাই ২০২৪ মেয়াদে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাট।

৭. তফসিলে প্রকাশ
যে সকল আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে এই নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে, সেগুলোর তালিকা শীঘ্রই তফসিল আকারে প্রকাশ করা হবে।

এই সংস্কারগুলো আবাসন খাতে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ নভেম্বর, ২০২৫,  6:35 PM

news image

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের হস্তান্তর ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা, হয়রানি ও দুর্নীতি দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৭ দফা নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য লিজগ্রহীতাদের দুর্ভোগ লাঘব করা।

উপসচিব ড. মোঃ নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনের প্রধান পরিবর্তন হলো— আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান, হেবা, নামজারি, হস্তান্তর বা ঋণ অনুমতির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমোদন গ্রহণের প্রথা বাতিল করা।
৭ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই নতুন নির্দেশনাগুলো মূলত লিজগ্রহীতাদের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়াকে সরল করবে:
১. অনুমোদন প্রথা বাতিল ও সরলীকরণ (প্রধান পরিবর্তন)
বাতিল: উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান, হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, বণ্টন), আম-মোক্তার (আম-মোক্তার) দলিল সম্পাদন বা বাতিল, এবং ঋণ গ্রহণের অনুমতির জন্য লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বাতিল করা হলো।
বহাল: তবে প্লটের আয়তন পরিবর্তন (বিভাজন বা একত্রীকরণ) এবং ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন (মাস্টার প্ল্যান পরিবর্তন) এর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বহাল থাকবে।

২. হস্তান্তর ফি ও আদায় পদ্ধতি
ফ্ল্যাট/ভবনসহ ভূমি হস্তান্তর: দলিল মূল্যের ২% (দুই শতাংশ) হারে ফি জমা দিতে হবে।

শুধু প্লট/ভূমি হস্তান্তর: দলিল মূল্যের ৩% (তিন শতাংশ) হারে ফি জমা দিতে হবে।

আদায়: এই অর্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন দলিল সম্পাদনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা দিতে হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়/গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে এটি নন-ট্যাক্স রেভিনিউ (এনটিআর) হিসেবে আদায় করা হবে।

৩. রেকর্ড হালনাগাদ ও হয়রানি রোধ
দাখিল: দলিল সম্পাদনের পর অবিকল নকলের (সার্টিফাইড কপি) একটি কপি এবং নামজারির পর রেকর্ডপত্র ক্রেতাকে ৯০ দিনের মধ্যে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিল করতে হবে।

জরিমানা: নির্ধারিত সময়ে দাখিল না করলে দৈনিক ৫০ টাকা হারে সর্বোচ্চ ১০,০০০/- টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাবে।

হালনাগাদ: লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করে তা ক্রেতাকে রেজিস্টার্ড ডাক ও ই-মেইল/ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। ব্যর্থ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. লিজের স্বয়ংক্রিয় নবায়ন
লিজ দলিলের মেয়াদ শেষে (নিরানব্বই বছর পর) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নকৃত বলে গণ্য হবে এবং নবায়নের জন্য ফি আদায় রহিত হবে।

৫. বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রথা বহাল
আবাসিক ব্যতীত অন্যান্য (প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্য ও শিল্প) প্লট, ফ্ল্যাট বা স্পেসের হস্তান্তর ও নামজারির ক্ষেত্রে লিজদাতা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বহাল থাকবে।

৬. বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদন বাধ্যতামূলক
নিম্নলিখিত বিশেষ ক্ষেত্রে লিজদাতার অনুমোদন গ্রহণের প্রথা বহাল থাকবে:

মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং তাতে সরকারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।

পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত (যা ২৮/০৩/১৯৮৮-এর পরে অবমুক্ত হয়নি)।

জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুলাই ২০২৪ মেয়াদে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ দেওয়া আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাট।

৭. তফসিলে প্রকাশ
যে সকল আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে এই নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে, সেগুলোর তালিকা শীঘ্রই তফসিল আকারে প্রকাশ করা হবে।

এই সংস্কারগুলো আবাসন খাতে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।