নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 3:53 PM
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি শক্তিশালী অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিজেসি’র পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিপিবির সাবেক সাধারন সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য জিমি আমির ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাংবাদিক সমাজে বিভক্তি তৈরি হওয়াই তাদের অনেককে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাববলয়ে ঠেলে দেয়। এতে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং সংকট আরও গভীর হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভক্তির কারণে সাংবাদিকরা নিজেরাই বিভিন্ন রাজনীতিকদের পকেটে ঢুকে যান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর প্রমাণ—বিগত সময়ে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ফ্যাসিজমকে রক্ষা করেছিল গণমাধ্যমগুলো।রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর সবকিছু নির্ভর করে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার হৃদয়ে ধারণ করতে না পারলে সংস্কার কতটা কাজে আসবে, সন্দেহ রয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণমাধ্যমের জন্য ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সংবাদমাধ্যমকে এক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার অসুবিধা আছে। রাষ্ট্রকে যারা দেখেশুনে রাখে, সে গণমাধ্যমকর্মীরাই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখবে। ইউটিউবার ও অনলাইনে যারা নিজেরা সাংবাদিক হয়ে উঠেছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারা সাংবাদিক হবেন তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া জরুরী বলে জানান তিনি। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের জন্যে মর্যাদাপুর্ন বেতন কাঠামো তৈরী করা হবে বলেও জানান এনসিপির শীর্ষ এই নেতা।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সাথে রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। তিনি সাংবাদিকদের কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য,অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ না করলে গণমাধ্যম নিরপেক্ষ হলো না।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে সরকার এখন ক্ষমতায় আছে তারা তো তিনমাস পরে থাকবে না। ক্ষমতায় গেলে যদি তারা বদলে যান তবে অঙ্গীকার করে লাভ কি? গণমাধ্যমের অধিকারের জন্য সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক আছে। স্বাধীনতারও সীমা থাকবে। একজনের স্বাধীনতা যেনো অন্যজনের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হিসেবে থাকে। গণমাধ্যমের অধিকার যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে না পারলে নিষ্ঠা আশা করা কঠিন। মিডিয়া লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দলীয় মতাদর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারন করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে স্বাধীন গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, টেলিভিশনের নিজস্ব আয়ের উৎস থাকা দরকার। টেলিভিশনের মালিকানা নিয়মতান্ত্রিকতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারন সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনে গনমাধ্যম সংস্কার নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। গণমাধ্যম সংস্কারে কণ্ঠরোধ করা বন্ধ, নারী-পুরুষের সমতা সহ চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু বলেন, বিগত সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য যাকে তাকে টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছিল। মিডিয়াকে কোন ব্যাক্তি গোষ্ঠির কাছে জিম্মি হতে দেয়া যায় না। সচিবালয়ের কার্ড সব সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমকে সত্যিকারের রাষ্ট্রের চতুর্খ স্তম্ব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজেসির নির্বাহী মিলটন আনোয়ার। সঞ্চালনা করেন নির্বাহী শাহনাজ শারমিন ও মাহফুজ মিশু। বিজেসির ট্রাস্টিদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন তালাত মামুন ও ফাহিম আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে বিজেসি চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। কিন্তু বিগত সময়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবনতিশীল অবস্থানে।
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মো. আল মামুন জানান, সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য একটি স্বাধীন পরিবেশ তৈরি এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যম সংস্কারে সাংবাদিক ও অংশীজনদের মূল্যবান মতামত দায়িত্বশীলদের সামনে তুলে ধরা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন সবসময়ই সংবাদ ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তবে যেকোনো পরিবর্তন বা সংস্কারের জন্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। আর তাই সাংবাদিক ও অংশীজনদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তা অর্জনে সুস্পষ্ট পথনির্দেশিকা তৈরির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বিজেসি’র সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সম্প্রচার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও নীতি সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করছে বিজেসি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে আমন্ত্রণ পেয়ে বিজেসি একটি বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাবনা জমা দেয়।
বিজেসির আট দফা প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সম্প্রচার মাধ্যমের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন, একটি স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠন, টিভি চ্যানেলগুলোকে পে-চ্যানেল ঘোষণা করা ও সম্প্রচারমাধ্যমকে শিল্প ঘোষণা এবং সম্প্রচার সাংবাদিকদের জন্য জবাবদিহিমূলক “কোড অব এথিকস” প্রণয়ন। এছাড়া টিভি লাইসেন্স নীতিমালা ও মালিকানার ধরন নির্ধারণ, পরিচালনা পর্ষদে কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার মতো কাঠামোগত সংস্কার, স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কর্তৃপক্ষ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকতার নীতিমালার প্রণয়নের দাবি জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এ সময় গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ এবং সাংবাদিকদের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তায় পড়ে আছে বলে উদ্বেগও জানায় বিজেসি।
স্বাধীন, মুক্ত, স্বচ্ছ ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য ভিত্তি উল্লেখ করে সম্প্রচার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিজেসি প্রত্যাশা করে, রাজনৈতিক দলগুলো এই সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহারে তুলে ধরবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দ ছাড়াও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 3:53 PM
ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি শক্তিশালী অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দলসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিজেসি’র পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিপিবির সাবেক সাধারন সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য জিমি আমির ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাংবাদিক সমাজে বিভক্তি তৈরি হওয়াই তাদের অনেককে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রভাববলয়ে ঠেলে দেয়। এতে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং সংকট আরও গভীর হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভক্তির কারণে সাংবাদিকরা নিজেরাই বিভিন্ন রাজনীতিকদের পকেটে ঢুকে যান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর প্রমাণ—বিগত সময়ে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ফ্যাসিজমকে রক্ষা করেছিল গণমাধ্যমগুলো।রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর সবকিছু নির্ভর করে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার হৃদয়ে ধারণ করতে না পারলে সংস্কার কতটা কাজে আসবে, সন্দেহ রয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গণমাধ্যমের জন্য ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সংবাদমাধ্যমকে এক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার অসুবিধা আছে। রাষ্ট্রকে যারা দেখেশুনে রাখে, সে গণমাধ্যমকর্মীরাই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখবে। ইউটিউবার ও অনলাইনে যারা নিজেরা সাংবাদিক হয়ে উঠেছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারা সাংবাদিক হবেন তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া জরুরী বলে জানান তিনি। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের জন্যে মর্যাদাপুর্ন বেতন কাঠামো তৈরী করা হবে বলেও জানান এনসিপির শীর্ষ এই নেতা।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সাথে রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। তিনি সাংবাদিকদের কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার আহবান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য,অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজদের নাম প্রকাশ না করলে গণমাধ্যম নিরপেক্ষ হলো না।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে সরকার এখন ক্ষমতায় আছে তারা তো তিনমাস পরে থাকবে না। ক্ষমতায় গেলে যদি তারা বদলে যান তবে অঙ্গীকার করে লাভ কি? গণমাধ্যমের অধিকারের জন্য সবাই মিলে একসাথে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক আছে। স্বাধীনতারও সীমা থাকবে। একজনের স্বাধীনতা যেনো অন্যজনের জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয় হিসেবে থাকে। গণমাধ্যমের অধিকার যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে না পারলে নিষ্ঠা আশা করা কঠিন। মিডিয়া লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দলীয় মতাদর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারন করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে স্বাধীন গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, টেলিভিশনের নিজস্ব আয়ের উৎস থাকা দরকার। টেলিভিশনের মালিকানা নিয়মতান্ত্রিকতায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারন সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনে গনমাধ্যম সংস্কার নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। গণমাধ্যম সংস্কারে কণ্ঠরোধ করা বন্ধ, নারী-পুরুষের সমতা সহ চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু বলেন, বিগত সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য যাকে তাকে টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছিল। মিডিয়াকে কোন ব্যাক্তি গোষ্ঠির কাছে জিম্মি হতে দেয়া যায় না। সচিবালয়ের কার্ড সব সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমকে সত্যিকারের রাষ্ট্রের চতুর্খ স্তম্ব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজেসির নির্বাহী মিলটন আনোয়ার। সঞ্চালনা করেন নির্বাহী শাহনাজ শারমিন ও মাহফুজ মিশু। বিজেসির ট্রাস্টিদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন তালাত মামুন ও ফাহিম আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে বিজেসি চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। কিন্তু বিগত সময়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবনতিশীল অবস্থানে।
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মো. আল মামুন জানান, সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য একটি স্বাধীন পরিবেশ তৈরি এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যম সংস্কারে সাংবাদিক ও অংশীজনদের মূল্যবান মতামত দায়িত্বশীলদের সামনে তুলে ধরা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন সবসময়ই সংবাদ ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তবে যেকোনো পরিবর্তন বা সংস্কারের জন্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা প্রয়োজন। আর তাই সাংবাদিক ও অংশীজনদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তা অর্জনে সুস্পষ্ট পথনির্দেশিকা তৈরির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বিজেসি’র সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সম্প্রচার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, পেশাগত মানোন্নয়ন ও নীতি সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করছে বিজেসি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে আমন্ত্রণ পেয়ে বিজেসি একটি বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাবনা জমা দেয়।
বিজেসির আট দফা প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে সম্প্রচার মাধ্যমের জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন, একটি স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠন, টিভি চ্যানেলগুলোকে পে-চ্যানেল ঘোষণা করা ও সম্প্রচারমাধ্যমকে শিল্প ঘোষণা এবং সম্প্রচার সাংবাদিকদের জন্য জবাবদিহিমূলক “কোড অব এথিকস” প্রণয়ন। এছাড়া টিভি লাইসেন্স নীতিমালা ও মালিকানার ধরন নির্ধারণ, পরিচালনা পর্ষদে কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার মতো কাঠামোগত সংস্কার, স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কর্তৃপক্ষ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকতার নীতিমালার প্রণয়নের দাবি জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। এ সময় গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ এবং সাংবাদিকদের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তায় পড়ে আছে বলে উদ্বেগও জানায় বিজেসি।
স্বাধীন, মুক্ত, স্বচ্ছ ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য ভিত্তি উল্লেখ করে সম্প্রচার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিজেসি প্রত্যাশা করে, রাজনৈতিক দলগুলো এই সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী ইস্তাহারে তুলে ধরবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেবে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ববৃন্দ ছাড়াও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগি সংস্থা এবং গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।