নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 5:38 PM
মৎস্যজীবী শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে আজ রাজধানীতে এক জরুরি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফইএস (FES)-এর সহায়তায় বিলস (BILS)-এর উদ্যোগে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এই সংলাপে বক্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মৎস্য খাতে যুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের জীবনজীবিকা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাদের আইনগত সুরক্ষা ও জীবনরক্ষা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় মৎস্য শ্রমিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক নইমুল আহসান জুয়েল। গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন বিলস উপপরিচালক এডভোকেট নজরুল ইসলাম।
আইনি সুরক্ষার বাইরে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক
বক্তারা উল্লেখ করেন, সারাদেশের আনুমানিক এক কোটি বিশ লক্ষ মানুষ মৎস্যখাতের সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত এবং চৌদ্দ লক্ষ মানুষের জীবনজীবিকা সরাসরি এই খাত নির্ভর। অথচ:
শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির অভাব: শ্রম আইনে শুধুমাত্র ফিশিং ট্রলার ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দেশের অন্য সকল মৎস্য শ্রমিক আইনগত সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন।
মজুরি কাঠামো নেই: চিংড়ি এবং ট্রলার ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া অন্য কোনো মৎস্য শ্রমিকের জন্য সুনির্দিষ্ট মজুরী কাঠামো নেই।
দাদন ও ঋণের জাল: সিংহভাগ মৎস্যশ্রমিকই দাদন ও ঋণের জালে আবদ্ধ।
অপর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা: মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় প্রদত্ত সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয়, ফলে শ্রমিকরা জীবনযাপনের উপযোগী অর্থ আয় করতে পারেন না।
জীবনরক্ষা ব্যবস্থা ও পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি
সংলাপে মৎস্য শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়:
নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল: ঝড়, জলোচ্ছাস কিংবা জলদস্যুর আক্রমন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল। সাগরে সিগনাল সিস্টেম আধুনিক নয়, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য ও ক্ষতিপূরণ: শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক হলেও চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নেই বললেই চলে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সকল শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত হয়নি।
বক্তাদের মূল সুপারিশ ও দাবি
সংলাপ থেকে মৎস্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং আইএলও কনভেনশন নং ১৮৮ বিবেচনায় নিয়ে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়:
শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি: সকল মৎস্য শ্রমিককে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও পরিচয় নিশ্চিত করে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় যথাযথ সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালু করা।
মজুরি ও ক্ষতিপূরণ: সকল শ্রমিকের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা।
ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার: শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিশ্চিত করা।
আধুনিক প্রযুক্তি: পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো।
আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্ট সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম সহ শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 5:38 PM
মৎস্যজীবী শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে আজ রাজধানীতে এক জরুরি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফইএস (FES)-এর সহায়তায় বিলস (BILS)-এর উদ্যোগে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এই সংলাপে বক্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, মৎস্য খাতে যুক্ত বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের জীবনজীবিকা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তাদের আইনগত সুরক্ষা ও জীবনরক্ষা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় মৎস্য শ্রমিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক নইমুল আহসান জুয়েল। গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরেন বিলস উপপরিচালক এডভোকেট নজরুল ইসলাম।
আইনি সুরক্ষার বাইরে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক
বক্তারা উল্লেখ করেন, সারাদেশের আনুমানিক এক কোটি বিশ লক্ষ মানুষ মৎস্যখাতের সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত এবং চৌদ্দ লক্ষ মানুষের জীবনজীবিকা সরাসরি এই খাত নির্ভর। অথচ:
শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির অভাব: শ্রম আইনে শুধুমাত্র ফিশিং ট্রলার ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। দেশের অন্য সকল মৎস্য শ্রমিক আইনগত সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন।
মজুরি কাঠামো নেই: চিংড়ি এবং ট্রলার ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া অন্য কোনো মৎস্য শ্রমিকের জন্য সুনির্দিষ্ট মজুরী কাঠামো নেই।
দাদন ও ঋণের জাল: সিংহভাগ মৎস্যশ্রমিকই দাদন ও ঋণের জালে আবদ্ধ।
অপর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা: মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় প্রদত্ত সরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত নয়, ফলে শ্রমিকরা জীবনযাপনের উপযোগী অর্থ আয় করতে পারেন না।
জীবনরক্ষা ব্যবস্থা ও পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি
সংলাপে মৎস্য শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়:
নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল: ঝড়, জলোচ্ছাস কিংবা জলদস্যুর আক্রমন থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা দুর্বল। সাগরে সিগনাল সিস্টেম আধুনিক নয়, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য ও ক্ষতিপূরণ: শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক হলেও চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নেই বললেই চলে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সকল শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত হয়নি।
বক্তাদের মূল সুপারিশ ও দাবি
সংলাপ থেকে মৎস্য শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং আইএলও কনভেনশন নং ১৮৮ বিবেচনায় নিয়ে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়:
শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি: সকল মৎস্য শ্রমিককে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও পরিচয় নিশ্চিত করে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তা: শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় যথাযথ সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম চালু করা।
মজুরি ও ক্ষতিপূরণ: সকল শ্রমিকের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করা।
ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার: শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিশ্চিত করা।
আধুনিক প্রযুক্তি: পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটানো।
আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফন্ট সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম সহ শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।