নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ নভেম্বর, ২০২৫, 11:15 PM
বহুল আলোচিত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার সংলাপে মিলিত হয়েছেন শ্রমিক, মালিক, সরকার এবং অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা। আজ বৃহস্পতিবার সলিডারিটি সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে সংশোধনীর ইতিবাচক দিকগুলো প্রশংসিত হলেও এর কারিগরি অসামঞ্জস্য, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংলাপের মূল বক্তব্যে সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে সংশোধনীটি ভালো হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ফাঁকফোকর বের হয়ে আসবে। ইউনিয়ন গঠনে নিয়োগকর্তা পক্ষের ‘স্ল্যাব অ্যাপ্রোচ’ একটি যুগোপযোগী প্রস্তাবনা হতে পারত, কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করবে।” তিনি শ্রম সংস্কার কমিশনের (এলআরসি) গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো চূড়ান্ত সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এলআরসি সদস্য তাসলিমা আখতার বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রতি তিন বছর পর ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ একটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু বিদেশি ক্রেতাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শিল্পের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের স্বার্থে আনা অনেক সংশোধনীতে আমরা একমত হয়েছি। তবে শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করাও জরুরি।” মজুরি কাঠামো নিয়ে তিনি আরও বলেন, “একবারে ৮০% মজুরি বাড়ানোর চেয়ে প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে মজুরি সমন্বয় করা হলে তা শিল্প এবং শ্রমিক উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।”
বৈঠকে সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামসুল আলম জানান, এই সংশোধনীটি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, “আমরা চাই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই এটি বাস্তবায়নে কাজ করুক।” সলিডারিটি সেন্টারের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আমাদের শ্রম আইনটি ‘কোডিফায়েড’ হওয়ায় যেকোনো সংশোধনীতে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পুরো আইনটি সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আলোচনা শুধু আরএমজি-কেন্দ্রিক হলে চলবে না। আমাদের সমগ্র শ্রমশক্তিকেই বিবেচনায় আনতে হবে, কারণ আরএমজি বাংলাদেশের একমাত্র শিল্প নয়।”
সব মিলিয়ে, স্টেকহোল্ডাররা একমত হয়েছেন যে, এই সংশোধনীর সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত পর্যালোচনা, প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য। বাংলাদেশের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সলিডারিটি সেন্টার।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ নভেম্বর, ২০২৫, 11:15 PM
বহুল আলোচিত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার সংলাপে মিলিত হয়েছেন শ্রমিক, মালিক, সরকার এবং অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা। আজ বৃহস্পতিবার সলিডারিটি সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে সংশোধনীর ইতিবাচক দিকগুলো প্রশংসিত হলেও এর কারিগরি অসামঞ্জস্য, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংলাপের মূল বক্তব্যে সলিডারিটি সেন্টারের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ কে এম নাসিম বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে সংশোধনীটি ভালো হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ফাঁকফোকর বের হয়ে আসবে। ইউনিয়ন গঠনে নিয়োগকর্তা পক্ষের ‘স্ল্যাব অ্যাপ্রোচ’ একটি যুগোপযোগী প্রস্তাবনা হতে পারত, কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করবে।” তিনি শ্রম সংস্কার কমিশনের (এলআরসি) গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো চূড়ান্ত সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এলআরসি সদস্য তাসলিমা আখতার বলেন, “অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রতি তিন বছর পর ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ একটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু বিদেশি ক্রেতাদের জবাবদিহিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অন্যদিকে, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শিল্পের স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের স্বার্থে আনা অনেক সংশোধনীতে আমরা একমত হয়েছি। তবে শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করাও জরুরি।” মজুরি কাঠামো নিয়ে তিনি আরও বলেন, “একবারে ৮০% মজুরি বাড়ানোর চেয়ে প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে মজুরি সমন্বয় করা হলে তা শিল্প এবং শ্রমিক উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হবে।”
বৈঠকে সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শামসুল আলম জানান, এই সংশোধনীটি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, “আমরা চাই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই এটি বাস্তবায়নে কাজ করুক।” সলিডারিটি সেন্টারের দেওয়া প্রস্তাবগুলো মন্ত্রণালয়ে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আমাদের শ্রম আইনটি ‘কোডিফায়েড’ হওয়ায় যেকোনো সংশোধনীতে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পুরো আইনটি সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আলোচনা শুধু আরএমজি-কেন্দ্রিক হলে চলবে না। আমাদের সমগ্র শ্রমশক্তিকেই বিবেচনায় আনতে হবে, কারণ আরএমজি বাংলাদেশের একমাত্র শিল্প নয়।”
সব মিলিয়ে, স্টেকহোল্ডাররা একমত হয়েছেন যে, এই সংশোধনীর সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত পর্যালোচনা, প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অপরিহার্য। বাংলাদেশের শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সলিডারিটি সেন্টার।