নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 7:58 PM
চট্টগ্রামের সাধারণ হকারদের জিম্মি করে ‘সুদের ব্যবসা’ পরিচালনা এবং জোরপূর্বক ফুটপাতের জায়গা দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির অর্থ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহ আলম। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি টানা সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের ছত্রছায়ায় বিএনপি সেজে আবারও অর্থ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিতে চাইছেন তিনি।
বিগত সময়ে শাহ আলমের দ্বারা নির্যাতিত সমিতির নেতৃবৃন্দরা কোনোভাবেই তাকে ছাড় দিতে নারাজ। অভিযোগ উঠেছে যে বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শাহ আলমকে পুনরায় অর্থ সম্পাদক বানাতে চাইছেন। তবে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর। তিনি বলেন, আমি শাহ আলম নামে কাউকে চিনি না। তবে লেদু নামে একজনকে চিনি। তাদের বিরুদ্ধে তো একাধীক মামলা আছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: শাহ আলম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ড রেয়াজউদ্দিন বাজার ইউনিটের কার্যকারী সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিগত সময়ে নানা অপকর্ম করেছেন।
হকারদের জিম্মি: তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সাধারণ হকারদের জিম্মি করে উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়া। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে শাহ আলম প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক হকারদের ব্যবসায়িক স্থান বা জীবনের শেষ সম্বলটুকু দখল করে বিক্রি করে দেন।
কাপড়ের ব্যবসা: কাপড়ের ব্যবসার মাধ্যমে হকারদের বাকি দিয়ে, সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারলে একইভাবে তাদের দখলকৃত জায়গা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: অভিযোগকারীরা বলছেন, শাহ আলম এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বেসিক ইউনিয়ন সদস্য নেতা ও বর্তমান চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদু দু’জনই সুদের ব্যবসা ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বানালেও রাষ্ট্রকে কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স দেন না। যা দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি। সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদুর বিরুদ্ধেও সুদের কারবারের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
১৩ ডিসেম্বরের ‘পাতানো’ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
অর্থ সম্পাদক মো. শাহ আলম এবং সমিতির সভাপতি নুরুল আলম লেদু মিলে আগামী ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির পাতানো নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিএনপি সংযোগ: অভিযোগ মতে, এই ‘পাতানো’ নির্বাচনের পেছনে বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্ব এবং মোটা অংকের টাকার লেনদেন জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ধরে টাকার বিনিময়ে আবারও সমিতির নেতৃত্বে ভাগ বসাতে চাওয়ার এই ঘটনায় সংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা অর্থ সম্পাদক প্রার্থী শাহ আলম ও সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদুকে পদে বসাতে চাইছেন।
প্রশাসনের নীরবতা: ভুক্তভোগীদের দাবি, একাধিক গুরুতর মামলা থাকা সত্ত্বেও মো. শাহ আলম বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, তিনি নিয়মিত পুলিশকে ‘মোটা অংকের টাকা’ দিয়ে ম্যানেজ করে চলছেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আমি লেবার বা হাকার্স রাজনীতি করি না। আর যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা এবং আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেও করার জন্য।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে শাহ আলমকে ফোন করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। চলবে
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 7:58 PM
চট্টগ্রামের সাধারণ হকারদের জিম্মি করে ‘সুদের ব্যবসা’ পরিচালনা এবং জোরপূর্বক ফুটপাতের জায়গা দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির অর্থ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহ আলম। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে তিনি টানা সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের ছত্রছায়ায় বিএনপি সেজে আবারও অর্থ সম্পাদক পদটি বাগিয়ে নিতে চাইছেন তিনি।
বিগত সময়ে শাহ আলমের দ্বারা নির্যাতিত সমিতির নেতৃবৃন্দরা কোনোভাবেই তাকে ছাড় দিতে নারাজ। অভিযোগ উঠেছে যে বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শাহ আলমকে পুনরায় অর্থ সম্পাদক বানাতে চাইছেন। তবে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর। তিনি বলেন, আমি শাহ আলম নামে কাউকে চিনি না। তবে লেদু নামে একজনকে চিনি। তাদের বিরুদ্ধে তো একাধীক মামলা আছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: শাহ আলম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ৩১ নং আলকরণ ওয়ার্ড রেয়াজউদ্দিন বাজার ইউনিটের কার্যকারী সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিগত সময়ে নানা অপকর্ম করেছেন।
হকারদের জিম্মি: তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সাধারণ হকারদের জিম্মি করে উচ্চ সুদে টাকা ধার দেওয়া। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে শাহ আলম প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক হকারদের ব্যবসায়িক স্থান বা জীবনের শেষ সম্বলটুকু দখল করে বিক্রি করে দেন।
কাপড়ের ব্যবসা: কাপড়ের ব্যবসার মাধ্যমে হকারদের বাকি দিয়ে, সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারলে একইভাবে তাদের দখলকৃত জায়গা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি: অভিযোগকারীরা বলছেন, শাহ আলম এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ বেসিক ইউনিয়ন সদস্য নেতা ও বর্তমান চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদু দু’জনই সুদের ব্যবসা ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বানালেও রাষ্ট্রকে কোনো ভ্যাট-ট্যাক্স দেন না। যা দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি। সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদুর বিরুদ্ধেও সুদের কারবারের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
১৩ ডিসেম্বরের ‘পাতানো’ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
অর্থ সম্পাদক মো. শাহ আলম এবং সমিতির সভাপতি নুরুল আলম লেদু মিলে আগামী ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ফুটপাত হকার্স সমিতির পাতানো নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিএনপি সংযোগ: অভিযোগ মতে, এই ‘পাতানো’ নির্বাচনের পেছনে বিএনপি চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্ব এবং মোটা অংকের টাকার লেনদেন জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দদের ধরে টাকার বিনিময়ে আবারও সমিতির নেতৃত্বে ভাগ বসাতে চাওয়ার এই ঘটনায় সংগঠন ও স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মূলত বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা অর্থ সম্পাদক প্রার্থী শাহ আলম ও সভাপতি প্রার্থী নুরুল আলম লেদুকে পদে বসাতে চাইছেন।
প্রশাসনের নীরবতা: ভুক্তভোগীদের দাবি, একাধিক গুরুতর মামলা থাকা সত্ত্বেও মো. শাহ আলম বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, তিনি নিয়মিত পুলিশকে ‘মোটা অংকের টাকা’ দিয়ে ম্যানেজ করে চলছেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আমি লেবার বা হাকার্স রাজনীতি করি না। আর যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা এবং আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেও করার জন্য।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে শাহ আলমকে ফোন করা হলেও তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। চলবে