CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ নভেম্বর, ২০২৬
শিরোনামঃ
পাহাড়ের জাতিগোষ্ঠীকে বাঙালি বলার অধিকার কারও নেই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নিরাপত্তাঝুঁকিতে আজও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সুন্দরবন দেখলেন প্রধানমন্ত্রী কোরআনে বর্ণিত গুনাহ মাফের ১০ দোয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ যোগ্যতার ভিত্তিতে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হচ্ছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ভাগনে ইমরানকে ‘ভারত ছাড়ার নোটিশ’ বিতর্কের মধ্যে রাজ ঠাকরের বাড়িতে আমির খান ডিজিটাল বিমাসেবা সম্প্রসারণে সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স ও নগদের চুক্তি বরিশালে বিএনপি নেতার মাদকবিরোধী অভিযান, মারধরের ভিডিও ভাইরাল জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

গৃহশ্রমিকদের আংশিক অন্তর্ভুক্তি যথেষ্ট নয়, জরুরি সংশোধনের দাবি

#
news image

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর মাধ্যমে গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করায় গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অধ্যাদেশে গৃহপরিচারককে আইনের দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ অধ্যায়ের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ধারা ২-এর উপ-ধারা (৯খ) সংযোজন করে তাদের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
তবে নেটওয়ার্কভুক্ত জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এই সংশোধনীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে গৃহশ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

উপেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ অধিকারসমূহ
নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে, যা শ্রম আইনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে:
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত: নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
নীতি ও সুপারিশ লঙ্ঘন- আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫’-এ বর্ণিত নির্দেশনা এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে গৃহশ্রমিকদের বিষয়ে সুপারিশসমূহ অনুসরণ করা হয়নি। এই নীতি ও প্রতিবেদনে গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা, মজুরি, নিয়োগচুক্তি, প্রশিক্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো উল্লেখ ছিল।

সুপারিশ গ্রহণ না করা- শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব বরাবর যে সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার অধিকাংশও সংশোধনের ক্ষেত্রে গৃহীত হয়নি।

নেটওয়ার্কের দাবি ও করণীয়
গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক মনে করে, শ্রম আইনে আংশিক অন্তর্ভুক্তি প্রায়োগিক জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

শ্রম বিধিমালায় স্পষ্ট ব্যাখ্যার সংযোজন: যে সকল অধ্যায়ের জন্য গৃহশ্রমিককে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার প্রয়োগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য শ্রম বিধিমালায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা প্রয়োজন।

সকল অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্তি: শোভন কর্মপরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের যে সকল অধ্যায়ের ক্ষেত্রে গৃহশ্রমিক প্রযোজ্য হয়নি, সে অধ্যায়গুলোতে অবিলম্বে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

অবিলম্বে পুনরায় অধ্যাদেশ জারি- দেশের অন্যান্য শ্রমিকের ন্যায় গৃহশ্রমিকদের জন্য ন্যায্য অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের সকল অধ্যায়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অবিলম্বে পুনরায় অধ্যাদেশ জারি করা জরুরি।

আইএলও মানদণ্ড অনুসরণ: নেটওয়ার্ক দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে যে, ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫’, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং আইএলও কনভেনশন ১৮৯ এর মানদণ্ডের আলোকে গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫,  5:42 PM

news image

সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর মাধ্যমে গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করায় গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। এই অধ্যাদেশে গৃহপরিচারককে আইনের দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ অধ্যায়ের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ধারা ২-এর উপ-ধারা (৯খ) সংযোজন করে তাদের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
তবে নেটওয়ার্কভুক্ত জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এই সংশোধনীতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে গৃহশ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

উপেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ অধিকারসমূহ
নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সংশোধনীর মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত হয়েছে, যা শ্রম আইনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে:
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষিত: নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
নীতি ও সুপারিশ লঙ্ঘন- আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫’-এ বর্ণিত নির্দেশনা এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে গৃহশ্রমিকদের বিষয়ে সুপারিশসমূহ অনুসরণ করা হয়নি। এই নীতি ও প্রতিবেদনে গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষা, মজুরি, নিয়োগচুক্তি, প্রশিক্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো উল্লেখ ছিল।

সুপারিশ গ্রহণ না করা- শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব বরাবর যে সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার অধিকাংশও সংশোধনের ক্ষেত্রে গৃহীত হয়নি।

নেটওয়ার্কের দাবি ও করণীয়
গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক মনে করে, শ্রম আইনে আংশিক অন্তর্ভুক্তি প্রায়োগিক জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

শ্রম বিধিমালায় স্পষ্ট ব্যাখ্যার সংযোজন: যে সকল অধ্যায়ের জন্য গৃহশ্রমিককে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার প্রয়োগ যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য শ্রম বিধিমালায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা যুক্ত করা প্রয়োজন।

সকল অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্তি: শোভন কর্মপরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের যে সকল অধ্যায়ের ক্ষেত্রে গৃহশ্রমিক প্রযোজ্য হয়নি, সে অধ্যায়গুলোতে অবিলম্বে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

অবিলম্বে পুনরায় অধ্যাদেশ জারি- দেশের অন্যান্য শ্রমিকের ন্যায় গৃহশ্রমিকদের জন্য ন্যায্য অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের সকল অধ্যায়ে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অবিলম্বে পুনরায় অধ্যাদেশ জারি করা জরুরি।

আইএলও মানদণ্ড অনুসরণ: নেটওয়ার্ক দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছে যে, ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫’, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং আইএলও কনভেনশন ১৮৯ এর মানদণ্ডের আলোকে গৃহশ্রমিকদের শ্রম আইনে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।