নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:26 PM
রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট ফাহমিদা খন্দকার আন্না। পাশাপাশি তিনি অসুস্থ থাকায় রিমান্ডে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আদেশও দেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গত ৭ ডিসেম্বর গ্রেফতারের পর ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন মামলার মূল নথি না থাকায় আজকের জন্য শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা শুনানিতে বলেন, শওকত মাহমুদের মোবাইলে ডিভাইসের মধ্যে সরকারকে উৎখাতের বিষয়ে তথ্য ছিল। মামলা রেকর্ডের আগে গোপন বৈঠক ছিল। তার কাছ থেকে আমরা একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি। তদন্তের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে রিমান্ডের আবেদন করছি।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাসিসট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর এপিপি কাইউম হোসেন নয়ন বলেন, এ মামলায় গ্রেফতার এনায়েত করিমের সঙ্গে বাংলাদেশি ফোন-পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। এ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জাতীয় নির্বাচনকে নষ্ট করতে শেখ হাসিনার সরকারে প্রেসক্রিপশনে শওকত মাহমুদসহ অনেকেই মিটিং করে। এটা অবশ্যই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। এ মামলাকে খাটো করার কারণ নেই। পাশের দেশের ষড়যন্ত্রে এনায়েত করিম, শওকত মাহমুদ জড়িত। তাদের মতো যারা স্বৈরাচারের দোসর আছে তারা আমাদের আশপাশে এদের মতো ঘোরাফেরা করছে। এ জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীরা বলেন, ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে জড়িত আছে কিনা এ জন্য তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এর অংশবিশেষেই মামলাটি চলছে। ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ তদন্তের পরে শওকত মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কারা কারা জড়িত আছে তদন্তের স্বার্থে তাদের উদ্ধার করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শওকত মাহমুদদের টার্গেট ছিল তাদের মন মতো সরকার গড়বে, তারপর ফ্যাসিস্ট ফেরত আনবে। শওকত মাহমুদ বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তখন তাকে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রিমান্ডে নিলে তদন্ত করে অর্থদাতা পরিকল্পনাকারীসহ সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান ও ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তবর্তী সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে থাকেন। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়ি থামায়। কেন এখানে ঘোরাঘুরি করছেন, জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে কোনও উত্তর দিতে পারেননি। এ জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এরপর মামলায় জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:26 PM
রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যজিস্ট্রেট ফাহমিদা খন্দকার আন্না। পাশাপাশি তিনি অসুস্থ থাকায় রিমান্ডে নেওয়ার আগে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আদেশও দেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গত ৭ ডিসেম্বর গ্রেফতারের পর ৮ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন মামলার মূল নথি না থাকায় আজকের জন্য শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা শুনানিতে বলেন, শওকত মাহমুদের মোবাইলে ডিভাইসের মধ্যে সরকারকে উৎখাতের বিষয়ে তথ্য ছিল। মামলা রেকর্ডের আগে গোপন বৈঠক ছিল। তার কাছ থেকে আমরা একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি। তদন্তের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে রিমান্ডের আবেদন করছি।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাসিসট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর এপিপি কাইউম হোসেন নয়ন বলেন, এ মামলায় গ্রেফতার এনায়েত করিমের সঙ্গে বাংলাদেশি ফোন-পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। এ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জাতীয় নির্বাচনকে নষ্ট করতে শেখ হাসিনার সরকারে প্রেসক্রিপশনে শওকত মাহমুদসহ অনেকেই মিটিং করে। এটা অবশ্যই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। এ মামলাকে খাটো করার কারণ নেই। পাশের দেশের ষড়যন্ত্রে এনায়েত করিম, শওকত মাহমুদ জড়িত। তাদের মতো যারা স্বৈরাচারের দোসর আছে তারা আমাদের আশপাশে এদের মতো ঘোরাফেরা করছে। এ জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীরা বলেন, ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর সঙ্গে জড়িত আছে কিনা এ জন্য তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। এর অংশবিশেষেই মামলাটি চলছে। ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ তদন্তের পরে শওকত মাহমুদকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কারা কারা জড়িত আছে তদন্তের স্বার্থে তাদের উদ্ধার করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শওকত মাহমুদদের টার্গেট ছিল তাদের মন মতো সরকার গড়বে, তারপর ফ্যাসিস্ট ফেরত আনবে। শওকত মাহমুদ বিএনপির আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তখন তাকে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রিমান্ডে নিলে তদন্ত করে অর্থদাতা পরিকল্পনাকারীসহ সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। তিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান ও ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তবর্তী সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন।
মামলায় বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে করে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে থাকেন। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়ি থামায়। কেন এখানে ঘোরাঘুরি করছেন, জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে কোনও উত্তর দিতে পারেননি। এ জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছে থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এরপর মামলায় জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।