নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:36 PM
আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ, নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষনেতাদের আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই দলগুলো একটি বিশেষ বৈঠক করেছে। প্রথমে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও পরে সমাগম বেড়ে যাওয়ায় শিশু কল্যাণ পরিষদের একটি হলরুমে এই বৈঠক হয়।
একইদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও বৈঠক করেছেন গুলশানে। তাদের বৈঠকের বিষয়বস্তুও ছিল- যুগপৎ শরিকদের আসন বণ্টন জটিলতা ও এর সমাধান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি দলের প্রধান জানান, কালকের বৈঠকে বিএনপির আসনব ন্টন নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। অনেকে উচ্চবাচ্য করেছে। কেউ-কেউ হালকাভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় ১২ দলীয় জোটের একজন নেতা ক্ষুব্ধ বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য থামিয়ে দিতে বৈঠকে মোস্তফা জামাল হায়দার হস্তক্ষেপ করেন। বৈঠকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি দলের প্রধান খুব হালকাভাবে বক্তব্য দিলে অন্য নেতারা ‘তার আসন নিশ্চিত হয়েছে’ বলে হেসে উঠেন। পরে এই নেতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করেন।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি একেএম আশরাফুল হক বলেন, ‘কালকের বৈঠকে সবাই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সাইফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য।’
আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি বিগত এক মাস ধরে কোনও যোগাযোগ করে না। যাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছে, নির্বাচনি বিষয় নিয়ে তারা নীরব।’
তিনি বলেন, ‘এটা তো কেবল নির্বাচনের আসন বন্টনের বিষয় না, এটা দেশের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। আসনবন্টনের চেয়ে নির্বাচনি কৌশল অনেক জরুরি। আগামী নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জের। এজন্য যুগপৎ শরিকদের তারা ডেকে কথা বলবে, এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখাতো।’
যুগপৎসঙ্গীদের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতায় বিএনপি, সন্ধ্যায় বৈঠক
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময় গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা সাইফুল হক জানান, চলমান পরিস্থিতিতে বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। আজ সন্ধ্যা ৭ টায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন এর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি’র সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরীক দল ও জোটের (গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, গণ অধিকার পরিষদ এবং গণফোরাম) সাথে গুরুত্বপুর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দল ও জোটসমূহের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেবেন।
বিভিন্ন দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শরিকদের আসন বণ্টনের বিষয়ে সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পূর্বশর্ত হিসেবে আসন জেতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে তিনি। এছাড়া এখন পর্যন্ত আরপিও অনুযায়ী, প্রত্যেকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে যুগপৎসঙ্গী অনেকের আসনে বিজয় নিশ্চিত নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে বিএনপির।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় দলগুলোকে ডেকে আনা হলো, এখন কেন আসন দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত খোঁদ স্থায়ী কমিটির নেতারাও। যদিও অনেকে এটিও উল্লেখ করেছেন, প্রার্থী মনোনয়নের সময় সব দায়িত্ব স্থায়ী কমিটির নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপর বর্তেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছি। একটা সমাধানে পৌঁছাবো আশা করি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:36 PM
আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণফোরাম, গণঅধিকার পরিষদ, নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষনেতাদের আসন ছাড় দেওয়া নিয়ে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই দলগুলো একটি বিশেষ বৈঠক করেছে। প্রথমে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও পরে সমাগম বেড়ে যাওয়ায় শিশু কল্যাণ পরিষদের একটি হলরুমে এই বৈঠক হয়।
একইদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও বৈঠক করেছেন গুলশানে। তাদের বৈঠকের বিষয়বস্তুও ছিল- যুগপৎ শরিকদের আসন বণ্টন জটিলতা ও এর সমাধান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি দলের প্রধান জানান, কালকের বৈঠকে বিএনপির আসনব ন্টন নিয়েই মূল আলোচনা হয়েছে। অনেকে উচ্চবাচ্য করেছে। কেউ-কেউ হালকাভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় ১২ দলীয় জোটের একজন নেতা ক্ষুব্ধ বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য থামিয়ে দিতে বৈঠকে মোস্তফা জামাল হায়দার হস্তক্ষেপ করেন। বৈঠকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি দলের প্রধান খুব হালকাভাবে বক্তব্য দিলে অন্য নেতারা ‘তার আসন নিশ্চিত হয়েছে’ বলে হেসে উঠেন। পরে এই নেতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব করেন।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি একেএম আশরাফুল হক বলেন, ‘কালকের বৈঠকে সবাই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সাইফুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য।’
আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি বিগত এক মাস ধরে কোনও যোগাযোগ করে না। যাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছে, নির্বাচনি বিষয় নিয়ে তারা নীরব।’
তিনি বলেন, ‘এটা তো কেবল নির্বাচনের আসন বন্টনের বিষয় না, এটা দেশের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত। আসনবন্টনের চেয়ে নির্বাচনি কৌশল অনেক জরুরি। আগামী নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জের। এজন্য যুগপৎ শরিকদের তারা ডেকে কথা বলবে, এটাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার দেখাতো।’
যুগপৎসঙ্গীদের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতায় বিএনপি, সন্ধ্যায় বৈঠক
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখার সময় গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা সাইফুল হক জানান, চলমান পরিস্থিতিতে বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। আজ সন্ধ্যা ৭ টায় বিএনপি’র চেয়ারপার্সন এর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপি’র সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরীক দল ও জোটের (গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, গণ অধিকার পরিষদ এবং গণফোরাম) সাথে গুরুত্বপুর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। দল ও জোটসমূহের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সভায় অংশ নেবেন।
বিভিন্ন দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শরিকদের আসন বণ্টনের বিষয়ে সীমাবদ্ধতার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পূর্বশর্ত হিসেবে আসন জেতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পক্ষে তিনি। এছাড়া এখন পর্যন্ত আরপিও অনুযায়ী, প্রত্যেকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে যুগপৎসঙ্গী অনেকের আসনে বিজয় নিশ্চিত নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে বিএনপির।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় দলগুলোকে ডেকে আনা হলো, এখন কেন আসন দেওয়া হবে না। এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত খোঁদ স্থায়ী কমিটির নেতারাও। যদিও অনেকে এটিও উল্লেখ করেছেন, প্রার্থী মনোনয়নের সময় সব দায়িত্ব স্থায়ী কমিটির নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপর বর্তেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আলোচনা করছি। একটা সমাধানে পৌঁছাবো আশা করি।’