নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:10 PM
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। একইসাথে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও জানান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজার এলাকায় ভবন দুটি পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন তারা।
সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সরকারের ভূমিকা, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের ওপর এই আক্রমণ কেবল একটি ভবনের ওপর হামলা নয়, বরং এটি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার শামিল। তিনি একে ‘মব জাস্টিস’ বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, যখন একের পর এক জাতীয় সংবাদপত্রের অফিসে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তখন প্রশাসনের নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা অমার্জনীয়।
সারা হোসেন প্রশ্ন তুলে বলেন, রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে দৃশ্যমান অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তার দায় উপদেষ্টা এড়াতে পারেন না।
তিনি বলেন, দেশে আইনি প্রক্রিয়ার বদলে সহিংসতা চালিয়ে বিচার করার যে সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে, তা দমনে বর্তমান প্রশাসন কঠোর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, কোনও হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার অজুহাতে সংবাদপত্রের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সারা হোসেন বলেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা। সরকার যদি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারে এবং সংবাদপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের শাসন করার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানারকম খেলা চলছে। তাই দয়া করে আইন হাতে তুলে নেবেন না কেউ।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এতদিনেও অপরাধীদের ধরা হয়নি। উল্টো ভিন্ন মানুষকে ধরা হচ্ছে। এ নিয়ে নানা ধরনের খামখেয়ালি কাজ দেখতে পাচ্ছি আমরা, যা রাষ্ট্রের কাছে আশা করি না। অতএব এ দায় নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি অপারেশন শেষে তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপরে গতকাল ১৮ ডিসেম্বর রাতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল বিক্ষোভকারী প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।
এসময় প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 4:10 PM
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। একইসাথে তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও জানান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজার এলাকায় ভবন দুটি পরিদর্শনের পর আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন তারা।
সমাবেশে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সরকারের ভূমিকা, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, সংবাদপত্রের ওপর এই আক্রমণ কেবল একটি ভবনের ওপর হামলা নয়, বরং এটি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার শামিল। তিনি একে ‘মব জাস্টিস’ বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, যখন একের পর এক জাতীয় সংবাদপত্রের অফিসে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তখন প্রশাসনের নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা অমার্জনীয়।
সারা হোসেন প্রশ্ন তুলে বলেন, রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে দৃশ্যমান অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তার দায় উপদেষ্টা এড়াতে পারেন না।
তিনি বলেন, দেশে আইনি প্রক্রিয়ার বদলে সহিংসতা চালিয়ে বিচার করার যে সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে, তা দমনে বর্তমান প্রশাসন কঠোর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, কোনও হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার অজুহাতে সংবাদপত্রের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সারা হোসেন বলেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা। সরকার যদি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে না পারে এবং সংবাদপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের শাসন করার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত। আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানারকম খেলা চলছে। তাই দয়া করে আইন হাতে তুলে নেবেন না কেউ।
তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এতদিনেও অপরাধীদের ধরা হয়নি। উল্টো ভিন্ন মানুষকে ধরা হচ্ছে। এ নিয়ে নানা ধরনের খামখেয়ালি কাজ দেখতে পাচ্ছি আমরা, যা রাষ্ট্রের কাছে আশা করি না। অতএব এ দায় নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি অপারেশন শেষে তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। পরে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপরে গতকাল ১৮ ডিসেম্বর রাতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল বিক্ষোভকারী প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।
এসময় প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।