CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
টাইটেল ঢাকা-৯ এর ‘ঘরের মেয়ে’ তাসনিম জারা, কিন্তু ভোটার ঢাকা-১১? ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকারহরণের অপকৌশল রুখতে হবে কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ 'জাহাজপোড়া ক্যাসেল' রিসোর্ট’র শুভ উদ্বোধন করলেন ডিআইজি ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো সিনিয়রে আনসার ও জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহীর নতুন সভাপতি দীপু, সম্পাদক তাজ মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস ধর্ম ও বিকাশ দিয়ে ভোট কেনা আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়? প্রশ্ন রিজভীর ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে চাই.....ডা. শফিকুর রহমান পরাজিত শক্তির সহযোগীরাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিরোধী

বিএনপির মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের তাগিদ

#
news image

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে দলটির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের প্রায় সব শীর্ষ গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মতবিনিময় সভায় মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না।

বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থির ও কঠিন সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত।

বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট (কঠিন)। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে এই কারণে— বিএনপির যে তিনজন নেতা বক্তৃতা করেছেন, আগামী দিনে দলটি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া পলিসি কী হবে, তা সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভী আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই— আগামী দিনে যদি এর সিকিভাগ বাস্তবায়িত হয়।
মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে গণমাধ্যমের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দল-মত নির্বিশেষে যে সংহতি দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকে চরম চাপের মুখে থাকতে হয়েছে— মিথ্যা মামলা, সাংবাদিকদের কারাবরণ, মালিকানা ও সম্পাদক পরিবর্তনের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। 

তুলনামূলকভাবে বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিএনপির রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মিডিয়া হাউজে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, সমালোচনা ও মত প্রকাশকে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। 

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলটি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার প্রসঙ্গে যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় সমাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

তিনি বলেন, বিএনপি বলতে পারে তারা ক্ষমতায় নেই। তবে ক্ষমতায় না থেকেও এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো যেতো। বিএনপি কি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে?

তিনি আরও বলেন, আমরা বরাবরের মতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। তখনও প্রশ্ন করেছি, এখনও করছি। এর জন্য আমাদের ভিলেন বানানো হয়, নানা ট্যাগ দেওয়া হয়। আগামী দিনে এর অবসান ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে—তিন বা ছয় মাস অন্তর—এ ধরনের সংলাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনে দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  5:13 PM

news image

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সম্পাদক, বার্তা প্রধান ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে দলটির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের প্রায় সব শীর্ষ গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মতবিনিময় সভায় মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে চ্যালেঞ্জ যেটা আসছে, তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, রাষ্ট্র বিপন্ন হয়ে যাবে। সেই রাষ্ট্রের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউই থাকব না।

বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থির ও কঠিন সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত।

বিভাজনের মধ্যে কথা বলাও খুব ডিফিকাল্ট (কঠিন)। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুবই ভালো লেগেছে এই কারণে— বিএনপির যে তিনজন নেতা বক্তৃতা করেছেন, আগামী দিনে দলটি ক্ষমতায় এলে মিডিয়া পলিসি কী হবে, তা সালাহউদ্দিন আহমদ ও রিজভী আহমেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। আমি খুবই আশাবাদী হতে চাই— আগামী দিনে যদি এর সিকিভাগ বাস্তবায়িত হয়।
মতিউর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে গণমাধ্যমের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে এবং এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দল-মত নির্বিশেষে যে সংহতি দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকে চরম চাপের মুখে থাকতে হয়েছে— মিথ্যা মামলা, সাংবাদিকদের কারাবরণ, মালিকানা ও সম্পাদক পরিবর্তনের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। 

তুলনামূলকভাবে বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিএনপির রয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মিডিয়া হাউজে আগুন দেওয়া হয়নি। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলার ঘটনা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, সমালোচনা ও মত প্রকাশকে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। 

একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দলটি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার প্রসঙ্গে যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় সমাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

তিনি বলেন, বিএনপি বলতে পারে তারা ক্ষমতায় নেই। তবে ক্ষমতায় না থেকেও এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো যেতো। বিএনপি কি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে?

তিনি আরও বলেন, আমরা বরাবরের মতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। তখনও প্রশ্ন করেছি, এখনও করছি। এর জন্য আমাদের ভিলেন বানানো হয়, নানা ট্যাগ দেওয়া হয়। আগামী দিনে এর অবসান ঘটবে বলে আমরা আশাবাদী।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে—তিন বা ছয় মাস অন্তর—এ ধরনের সংলাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামী দিনে একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনে দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।