CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ জানুয়ারি, ২০২৬

শীতকালে রুম হিটার কেনার গাইড: কেনার আগে কী জানবেন, কী ভুলবেন না

#
news image

কুয়াশাচ্ছন্ন, হাড়কাঁপানো শীতের সকালের কথা ভাবুন। অ্যালার্ম বেজে উঠলেও বিছানা ছাড়তে মন চায় না। কম্বল আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। ঠান্ডা মেঝেতে পা রাখার চিন্তায় গা শিউরে ওঠে। বাথরুম যেন বরফঘর, আর কাপড় পরার পরও ঠান্ডা পিছু ছাড়ে না। প্রিয় হুডি কিংবা মোটা মোজা—কিছুই আর যথেষ্ট মনে হয় না। ঠিক তখনই মাথায় আসে—এবার সত্যিই একটা রুম হিটার কেনা দরকার।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম হিটার এখন অনেক পরিবারের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি যন্ত্র। তবে শুধু হিটার কেনা আর সঠিক হিটার কেনার মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য আছে। উষ্ণতা দেওয়াই হিটারের প্রধান কাজ হলেও, বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা, বাতাসের মান, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ব্যবহার সহজতা—এই সব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু কেনার সময় সমস্যাটা শুরু হয় গবেষণার পর্যায়েই। বাজারে এখন নানা ধরনের অপরিচিত শব্দে ভরা হিটার—অয়েল-ফিলড রেডিয়েটর, হ্যালোজেন হিটার, কোয়ার্টজ টিউব, কনভেকশন হিটিং, ওয়াট, এনার্জি এফিশিয়েন্সি—এসব বুঝে ওঠা অনেকের জন্য কঠিন। দামেও ব্যাপক পার্থক্য থাকে, যার যৌক্তিক ব্যাখ্যা অনেক সময় স্পষ্ট নয়।


বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
ভুল হিটার বেছে নিলে বিদ্যুৎ বিল হাজার হাজার টাকা বেড়ে যেতে পারে। আবার কম দামের হিটার অনেক সময় জরুরি নিরাপত্তা সুবিধাবিহীন হয়। যেহেতু শীতকালে হিটার প্রতিদিন ও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা হয়, তাই কয়েক বছরের কথা মাথায় রেখে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের।

রুম হিটারের ধরন

রুম হিটার মূলত বিভিন্ন প্রযুক্তির হয়ে থাকে—প্রতিটির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আলাদা।

অয়েল-ফিলড রেডিয়েটর

এই হিটারগুলো ভেতরের তেল গরম করে ধীরে ধীরে ঘরে তাপ ছড়ায়। শব্দহীনভাবে চলে এবং বন্ধ করার পরও কিছু সময় উষ্ণতা ধরে রাখে। অক্সিজেন কমায় না। তবে ঘর গরম হতে ১৫–২০ মিনিট সময় লাগে।

কনভেকশন হিটার

এগুলো বাতাস গরম করে ওপরে উঠতে সাহায্য করে, ফলে ঘরে স্বাভাবিকভাবে তাপ সঞ্চালিত হয়। আকারে ছোট ও সহজে সরানো যায়। তবে ছোট ও বন্ধ ঘরের জন্য বেশি উপযোগী।

কোয়ার্টজ হিটার
দ্রুত গরম হয় এবং তাৎক্ষণিক তাপ দেয়। বাথরুম বা স্টাডি রুমে ব্যবহার উপযোগী। তবে এগুলো দিকনির্দেশিত তাপ দেয়—সামনের মানুষ উষ্ণতা পায়, পুরো ঘর নয়।

হ্যালোজেন হিটার
কোয়ার্টজ হিটারের মতোই কাজ করে, তবে অনেক সময় দোলানোর সুবিধা থাকে। তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে, কিন্তু বাতাস গরম না করে সরাসরি তাপ দেয়।

সিরামিক হিটার
সিরামিক রড ও ফ্যান ব্যবহার করে দ্রুত ও সমানভাবে ঘর গরম করে। তুলনামূলক নিরাপদ এবং তাপ ধরে রাখে।

ফ্যান হিটার বা ব্লোয়ার
সবচেয়ে প্রচলিত ও কম দামের হিটার। দ্রুত গরম করলেও শব্দ বেশি হয় এবং বাতাস শুষ্ক করে, যা ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নিজের প্রয়োজন বুঝে নিন
হিটার কেনার আগে নিজের প্রয়োজন মূল্যায়ন করা সবচেয়ে জরুরি। ঘরের আয়তন এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।

১০দ্ধ১০ ফুটের ছোট ঘরের জন্য যে হিটার যথেষ্ট, ১৫দ্ধ২০ ফুটের বড় ঘরে সেটি কার্যকর হবে না। জানালার সংখ্যা, ছাদের উচ্চতা ও ঘরের অবস্থানও প্রভাব ফেলে।

হিটার সব সময় আসবাব, পর্দা বা বিছানা থেকে অন্তত ২ ফুট দূরে রাখতে হবে। ছোট ও ভরাট ঘরে নিরাপদভাবে হিটার বসানোর জায়গা আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সঠিক ওয়াটেজ নির্বাচন
রুম হিটারের ওয়াটেজ সাধারণত ৪০০ ওয়াট থেকে ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়।

সাধারণ নিয়ম: প্রতি বর্গফুটে ১০ ওয়াট
যেমন, ১৫০ বর্গফুটের ঘরের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫০০ ওয়াট হিটার।

তবে ছাদের উচ্চতা, ইনসুলেশন, জানালার আকার ও এলাকার আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বেশি ওয়াটেজ মানেই সেরা নয়। ছোট ঘরে ২ হাজার ওয়াট হিটার ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হবে এবং ঘন ঘন অন-অফ হয়ে অস্বস্তি তৈরি করবে।

নিরাপত্তা যেন উপেক্ষিত না হয়

রুম হিটারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১। টিপ-ওভার প্রোটেকশন: উল্টে গেলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে
২। ওভারহিট প্রোটেকশন: অতিরিক্ত গরম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ
৩।  কুল-টাচ বডি: গায়ে হাত লাগলেও পোড়া লাগার ঝুঁকি কম
৪। সেফটি গ্রিল: আঙুল ঢুকে যাওয়ার মতো বড় ফাঁক না থাকা
৫। চওড়া ও ভারী বেস: সহজে উল্টে না যাওয়ার জন্য
৬। আইএসআই সার্টিফিকেশন: ভারতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করে

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এনার্জি এফিশিয়েন্সি দেখুন

রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে, বিশেষ করে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যবহার হলে।

ইঊঊ রেটিং বেশি হলে বিদ্যুৎ খরচ কম
থার্মোস্ট্যাট: প্রয়োজন অনুযায়ী তাপ নিয়ন্ত্রণ
ইকো মোড: কম ওয়াটেজে আরামদায়ক উষ্ণতা
টাইমার ফাংশন: অপ্রয়োজনে চালু থাকা রোধ করে
সাধারণভাবে, অয়েল-ফিলড ও সিরামিক হিটার বেশি কার্যকর ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

স্বাস্থ্য ও আরামের বিষয়গুলো

কিছু হিটার বাতাস শুষ্ক করে ও অক্সিজেনের পরিমাণ কমাতে পারে। এতে শুষ্ক ত্বক, চোখ জ্বালা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অয়েল-ফিলড ও সিরামিক হিটার বেশি উপযোগী
শিশু ও বয়স্কদের জন্য মৃদু ও স্থির তাপ দেওয়া হিটার ভালো

শব্দের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষ করে শোবার ঘর বা অফিসে ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

অয়েল-ফিলড হিটার: প্রায় শব্দহীন
কনভেকশন হিটার: খুব হালকা শব্দ
ফ্যান/সিরামিক হিটার: তুলনামূলক বেশি শব্দ
৪০ ডেসিবেলের নিচে শব্দ হলে তা শান্ত ধরা হয়
বহনযোগ্যতা ও সংরক্ষণ

একাধিক ঘরে ব্যবহার করতে চাইলে হালকা ও হ্যান্ডেলযুক্ত হিটার সুবিধাজনক। অয়েল-ফিলড রেডিয়েটরে সাধারণত চাকা থাকে। ছোট হিটার সংরক্ষণ সহজ হলেও বড় ঘর গরমে কম কার্যকর।

প্রকৃত খরচ হিসাব করুন

শুধু কেনার দামই চূড়ান্ত খরচ নয়।

উদাহরণ:
১৫০০ ওয়াট হিটার দ্ধ দিনে ৫ ঘণ্টা দ্ধ ৯০ দিন
বিদ্যুৎ ইউনিট মূল্য ৮ টাকা হলে
মোট খরচ প্রায় ৫,৪০০ টাকা প্রতি শীত

অতএব, বেশি দামের হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হিটার দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।

সঠিক রুম হিটার বেছে নিতে হলে ঘরের আয়তন, ওয়াটেজ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শব্দ ও খরচ—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সব ঘরের জন্য এক ধরনের হিটার উপযুক্ত নয়। নিরাপত্তা ও সঠিক ক্ষমতা যেন সব সময় অগ্রাধিকার পায়। সঠিক নির্বাচন করলে শীতের দিনগুলো কাটবে উষ্ণ, স্বস্তিদায়ক ও নিশ্চিন্তে।

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫,  6:21 PM

news image

কুয়াশাচ্ছন্ন, হাড়কাঁপানো শীতের সকালের কথা ভাবুন। অ্যালার্ম বেজে উঠলেও বিছানা ছাড়তে মন চায় না। কম্বল আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরেন। ঠান্ডা মেঝেতে পা রাখার চিন্তায় গা শিউরে ওঠে। বাথরুম যেন বরফঘর, আর কাপড় পরার পরও ঠান্ডা পিছু ছাড়ে না। প্রিয় হুডি কিংবা মোটা মোজা—কিছুই আর যথেষ্ট মনে হয় না। ঠিক তখনই মাথায় আসে—এবার সত্যিই একটা রুম হিটার কেনা দরকার।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম হিটার এখন অনেক পরিবারের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি যন্ত্র। তবে শুধু হিটার কেনা আর সঠিক হিটার কেনার মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য আছে। উষ্ণতা দেওয়াই হিটারের প্রধান কাজ হলেও, বিদ্যুৎ খরচ, নিরাপত্তা, বাতাসের মান, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ব্যবহার সহজতা—এই সব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু কেনার সময় সমস্যাটা শুরু হয় গবেষণার পর্যায়েই। বাজারে এখন নানা ধরনের অপরিচিত শব্দে ভরা হিটার—অয়েল-ফিলড রেডিয়েটর, হ্যালোজেন হিটার, কোয়ার্টজ টিউব, কনভেকশন হিটিং, ওয়াট, এনার্জি এফিশিয়েন্সি—এসব বুঝে ওঠা অনেকের জন্য কঠিন। দামেও ব্যাপক পার্থক্য থাকে, যার যৌক্তিক ব্যাখ্যা অনেক সময় স্পষ্ট নয়।


বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন
ভুল হিটার বেছে নিলে বিদ্যুৎ বিল হাজার হাজার টাকা বেড়ে যেতে পারে। আবার কম দামের হিটার অনেক সময় জরুরি নিরাপত্তা সুবিধাবিহীন হয়। যেহেতু শীতকালে হিটার প্রতিদিন ও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা হয়, তাই কয়েক বছরের কথা মাথায় রেখে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের।

রুম হিটারের ধরন

রুম হিটার মূলত বিভিন্ন প্রযুক্তির হয়ে থাকে—প্রতিটির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আলাদা।

অয়েল-ফিলড রেডিয়েটর

এই হিটারগুলো ভেতরের তেল গরম করে ধীরে ধীরে ঘরে তাপ ছড়ায়। শব্দহীনভাবে চলে এবং বন্ধ করার পরও কিছু সময় উষ্ণতা ধরে রাখে। অক্সিজেন কমায় না। তবে ঘর গরম হতে ১৫–২০ মিনিট সময় লাগে।

কনভেকশন হিটার

এগুলো বাতাস গরম করে ওপরে উঠতে সাহায্য করে, ফলে ঘরে স্বাভাবিকভাবে তাপ সঞ্চালিত হয়। আকারে ছোট ও সহজে সরানো যায়। তবে ছোট ও বন্ধ ঘরের জন্য বেশি উপযোগী।

কোয়ার্টজ হিটার
দ্রুত গরম হয় এবং তাৎক্ষণিক তাপ দেয়। বাথরুম বা স্টাডি রুমে ব্যবহার উপযোগী। তবে এগুলো দিকনির্দেশিত তাপ দেয়—সামনের মানুষ উষ্ণতা পায়, পুরো ঘর নয়।

হ্যালোজেন হিটার
কোয়ার্টজ হিটারের মতোই কাজ করে, তবে অনেক সময় দোলানোর সুবিধা থাকে। তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে, কিন্তু বাতাস গরম না করে সরাসরি তাপ দেয়।

সিরামিক হিটার
সিরামিক রড ও ফ্যান ব্যবহার করে দ্রুত ও সমানভাবে ঘর গরম করে। তুলনামূলক নিরাপদ এবং তাপ ধরে রাখে।

ফ্যান হিটার বা ব্লোয়ার
সবচেয়ে প্রচলিত ও কম দামের হিটার। দ্রুত গরম করলেও শব্দ বেশি হয় এবং বাতাস শুষ্ক করে, যা ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

নিজের প্রয়োজন বুঝে নিন
হিটার কেনার আগে নিজের প্রয়োজন মূল্যায়ন করা সবচেয়ে জরুরি। ঘরের আয়তন এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়।

১০দ্ধ১০ ফুটের ছোট ঘরের জন্য যে হিটার যথেষ্ট, ১৫দ্ধ২০ ফুটের বড় ঘরে সেটি কার্যকর হবে না। জানালার সংখ্যা, ছাদের উচ্চতা ও ঘরের অবস্থানও প্রভাব ফেলে।

হিটার সব সময় আসবাব, পর্দা বা বিছানা থেকে অন্তত ২ ফুট দূরে রাখতে হবে। ছোট ও ভরাট ঘরে নিরাপদভাবে হিটার বসানোর জায়গা আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

সঠিক ওয়াটেজ নির্বাচন
রুম হিটারের ওয়াটেজ সাধারণত ৪০০ ওয়াট থেকে ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়।

সাধারণ নিয়ম: প্রতি বর্গফুটে ১০ ওয়াট
যেমন, ১৫০ বর্গফুটের ঘরের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫০০ ওয়াট হিটার।

তবে ছাদের উচ্চতা, ইনসুলেশন, জানালার আকার ও এলাকার আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বেশি ওয়াটেজ মানেই সেরা নয়। ছোট ঘরে ২ হাজার ওয়াট হিটার ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হবে এবং ঘন ঘন অন-অফ হয়ে অস্বস্তি তৈরি করবে।

নিরাপত্তা যেন উপেক্ষিত না হয়

রুম হিটারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১। টিপ-ওভার প্রোটেকশন: উল্টে গেলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে
২। ওভারহিট প্রোটেকশন: অতিরিক্ত গরম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ
৩।  কুল-টাচ বডি: গায়ে হাত লাগলেও পোড়া লাগার ঝুঁকি কম
৪। সেফটি গ্রিল: আঙুল ঢুকে যাওয়ার মতো বড় ফাঁক না থাকা
৫। চওড়া ও ভারী বেস: সহজে উল্টে না যাওয়ার জন্য
৬। আইএসআই সার্টিফিকেশন: ভারতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড নিশ্চিত করে

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এনার্জি এফিশিয়েন্সি দেখুন

রুম হিটার প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে, বিশেষ করে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যবহার হলে।

ইঊঊ রেটিং বেশি হলে বিদ্যুৎ খরচ কম
থার্মোস্ট্যাট: প্রয়োজন অনুযায়ী তাপ নিয়ন্ত্রণ
ইকো মোড: কম ওয়াটেজে আরামদায়ক উষ্ণতা
টাইমার ফাংশন: অপ্রয়োজনে চালু থাকা রোধ করে
সাধারণভাবে, অয়েল-ফিলড ও সিরামিক হিটার বেশি কার্যকর ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

স্বাস্থ্য ও আরামের বিষয়গুলো

কিছু হিটার বাতাস শুষ্ক করে ও অক্সিজেনের পরিমাণ কমাতে পারে। এতে শুষ্ক ত্বক, চোখ জ্বালা বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য অয়েল-ফিলড ও সিরামিক হিটার বেশি উপযোগী
শিশু ও বয়স্কদের জন্য মৃদু ও স্থির তাপ দেওয়া হিটার ভালো

শব্দের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষ করে শোবার ঘর বা অফিসে ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

অয়েল-ফিলড হিটার: প্রায় শব্দহীন
কনভেকশন হিটার: খুব হালকা শব্দ
ফ্যান/সিরামিক হিটার: তুলনামূলক বেশি শব্দ
৪০ ডেসিবেলের নিচে শব্দ হলে তা শান্ত ধরা হয়
বহনযোগ্যতা ও সংরক্ষণ

একাধিক ঘরে ব্যবহার করতে চাইলে হালকা ও হ্যান্ডেলযুক্ত হিটার সুবিধাজনক। অয়েল-ফিলড রেডিয়েটরে সাধারণত চাকা থাকে। ছোট হিটার সংরক্ষণ সহজ হলেও বড় ঘর গরমে কম কার্যকর।

প্রকৃত খরচ হিসাব করুন

শুধু কেনার দামই চূড়ান্ত খরচ নয়।

উদাহরণ:
১৫০০ ওয়াট হিটার দ্ধ দিনে ৫ ঘণ্টা দ্ধ ৯০ দিন
বিদ্যুৎ ইউনিট মূল্য ৮ টাকা হলে
মোট খরচ প্রায় ৫,৪০০ টাকা প্রতি শীত

অতএব, বেশি দামের হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হিটার দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।

সঠিক রুম হিটার বেছে নিতে হলে ঘরের আয়তন, ওয়াটেজ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, স্বাস্থ্যঝুঁকি, শব্দ ও খরচ—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সব ঘরের জন্য এক ধরনের হিটার উপযুক্ত নয়। নিরাপত্তা ও সঠিক ক্ষমতা যেন সব সময় অগ্রাধিকার পায়। সঠিক নির্বাচন করলে শীতের দিনগুলো কাটবে উষ্ণ, স্বস্তিদায়ক ও নিশ্চিন্তে।