নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:55 PM
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবে না ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। দলটি জানিয়েছে, ‘অসাংবিধানিক গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।’
দলটি মনে করে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুস্পষ্টভাবেই নিরপেক্ষ না। এই সরকার নিরপেক্ষ অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বদলে একটি অসাংবিধানিক গণভোট ও একপাক্ষিক, একতরফা সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেছে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নে অসাংবিধানিক গণভোট ও একপাক্ষিক একতরফা সংসদ নির্বাচনের প্রহসন করছে।’ ‘তাই জাসদ অসাংবিধানিক গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক একতরফা নির্বাচন বর্জন করছে।’ জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে এক বিবৃতিতে জানাচ্ছে যে, ‘জাসদ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ও নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে মনে করে, একটি অনির্বাচিত অসাংবিধানিক সরকারের চেয়ে একটি নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকার যে কোনো বিবেচনায় শ্রেয়। সেই বিবেচনা থেকেই জাসদ অতীতে কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া অতীতে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। জাসদ একটি নির্বাচনমুখী দল হয়েও আসন্ন অসাংবিধানিক গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক, একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।’
জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ‘জাসদ কেন নির্বাচন অংশ নিচ্ছে না’ ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স নিয়ে ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ হিসেবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীপূর্ব নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আলোকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যেদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই দিনই জাসদ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুততম সময়ে সব দলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের তথা নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকারের হাতে দেশের শাসনভার ন্যাস্ত করার আহবান জানিয়েছিল।’’
‘কিন্তু সমগ্র দেশবাসী ও বিশ্ববাসী লক্ষ্য করলেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অতীতের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর মত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বদলে একের পর এক ফন্দিফিকির তালবাহানা করে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদি করছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের বিভাজিত রাজনীতির একটি পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে আরেক পক্ষের উপর চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।’
জাসদের অভিযোগ, ‘মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া, মুক্তিযুদ্ধে মীমাংসিত বিষয়গুলো অমীমাংসিত ও অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্মারক, ভাস্কর্য, ম্যুরাল, স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা, সংগীত ও নাট্যায়োজনে বাধা প্রদান করা, বাঙালি ও আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি-লোকসংস্কৃতি এমনকি ইসলামের শান্তিবাদী, সহিষ্ণুতাবাদী, সমন্বয়বাদী, সুফিবাদী, মরমীবাদী ধারার ওপর একের পর আঘাত হানার মত জঘন্য অপরাধে মদদ দিতে থাকে।’
‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনার বদলে মব উসকে দিয়ে দেশকে মবের মুল্লুকে পরিণত করে। নিম্ম আদালত থেকে উচ্চ আদালত, প্রশাসন, গণমাধ্যম, শিক্ষাঙ্গণ এবং পাড়া, মহল্লা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি রাস্তাঘাটে মববাজি আর খুন, গুম, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির মাধ্যমে দেশে নরক গুলজার পরিস্থিতি তৈরি করে। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, কাজ, মজুরি, জীবিকা ধ্বংস এবং উৎপাদন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ছয় কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে পাঠিয়ে দেয়ার বন্দোবস্ত করে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেদের দলনিরপেক্ষ, নিরপেক্ষ রাখার বদলে দেশে বিভাজিত রাজনীতির একটি পক্ষকে প্রকাশ্যে মদদ দেওয়ার পাশাপাশি কিংস পার্টিও গড়ে তোলে। অন্য পক্ষকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও শত্রু বানিয়ে তাদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কোনো আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে হরেদরে ঢালাও মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, 3:55 PM
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবে না ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ। দলটি জানিয়েছে, ‘অসাংবিধানিক গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।’
দলটি মনে করে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুস্পষ্টভাবেই নিরপেক্ষ না। এই সরকার নিরপেক্ষ অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বদলে একটি অসাংবিধানিক গণভোট ও একপাক্ষিক, একতরফা সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করেছে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নে অসাংবিধানিক গণভোট ও একপাক্ষিক একতরফা সংসদ নির্বাচনের প্রহসন করছে।’ ‘তাই জাসদ অসাংবিধানিক গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক একতরফা নির্বাচন বর্জন করছে।’ জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে এক বিবৃতিতে জানাচ্ছে যে, ‘জাসদ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ও নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে মনে করে, একটি অনির্বাচিত অসাংবিধানিক সরকারের চেয়ে একটি নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকার যে কোনো বিবেচনায় শ্রেয়। সেই বিবেচনা থেকেই জাসদ অতীতে কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া অতীতে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। জাসদ একটি নির্বাচনমুখী দল হয়েও আসন্ন অসাংবিধানিক গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একপাক্ষিক, একতরফা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।’
জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ‘জাসদ কেন নির্বাচন অংশ নিচ্ছে না’ ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স নিয়ে ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী কার্য পরিচালনার নিমিত্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ হিসেবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীপূর্ব নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আলোকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যেদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই দিনই জাসদ বিবৃতি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করে দ্রুততম সময়ে সব দলের অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের তথা নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকারের হাতে দেশের শাসনভার ন্যাস্ত করার আহবান জানিয়েছিল।’’
‘কিন্তু সমগ্র দেশবাসী ও বিশ্ববাসী লক্ষ্য করলেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অতীতের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারগুলোর মত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বদলে একের পর এক ফন্দিফিকির তালবাহানা করে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদি করছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের বিভাজিত রাজনীতির একটি পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে আরেক পক্ষের উপর চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।’
জাসদের অভিযোগ, ‘মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া, মুক্তিযুদ্ধে মীমাংসিত বিষয়গুলো অমীমাংসিত ও অস্বীকার করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্মারক, ভাস্কর্য, ম্যুরাল, স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে ফেলা, সংগীত ও নাট্যায়োজনে বাধা প্রদান করা, বাঙালি ও আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি-লোকসংস্কৃতি এমনকি ইসলামের শান্তিবাদী, সহিষ্ণুতাবাদী, সমন্বয়বাদী, সুফিবাদী, মরমীবাদী ধারার ওপর একের পর আঘাত হানার মত জঘন্য অপরাধে মদদ দিতে থাকে।’
‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনার বদলে মব উসকে দিয়ে দেশকে মবের মুল্লুকে পরিণত করে। নিম্ম আদালত থেকে উচ্চ আদালত, প্রশাসন, গণমাধ্যম, শিক্ষাঙ্গণ এবং পাড়া, মহল্লা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি রাস্তাঘাটে মববাজি আর খুন, গুম, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির মাধ্যমে দেশে নরক গুলজার পরিস্থিতি তৈরি করে। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, কাজ, মজুরি, জীবিকা ধ্বংস এবং উৎপাদন ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে ছয় কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে পাঠিয়ে দেয়ার বন্দোবস্ত করে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিজেদের দলনিরপেক্ষ, নিরপেক্ষ রাখার বদলে দেশে বিভাজিত রাজনীতির একটি পক্ষকে প্রকাশ্যে মদদ দেওয়ার পাশাপাশি কিংস পার্টিও গড়ে তোলে। অন্য পক্ষকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও শত্রু বানিয়ে তাদের উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কোনো আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে হরেদরে ঢালাও মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করে।