CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

‘জাতীয় অন্ধ সংস্থা’র মহাসচিব আইয়ূবের বিরুদ্ধে  শত কোটি টাকা দুর্নীতি : তদন্তে দুদক

#
news image

জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে মার্কেটের দোকান ভাড়া ও অন্ধদের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাতসহ প্রায় শত কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ জাতীয় অন্ধ সংস্থার সাবেক নেতা-কর্মীরা গত ৪ এপিল লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৭০ বছর আগে জাতীয় অন্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সংস্থাটির সাধারণ সদস্যদের পক্ষে সাবেক চেয়ারম্যান ‘জাতীয় অন্ধ সংস্থা’ মিনহাজ উদ্দিন গত ২৫ মার্চ দুদক চেয়ার এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০২১ সালে ৩১ মে দুদকের চেয়ারম্যান এর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। গত ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশ নং ১৫-৭১/২০২৪ করা হয়। যা হাইকোটি সন্তষ্ঠ হয়ে বিষয়টি তদন্ত পুর্বক নিষ্পত্তির জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। উক্ত আদেশের কপি গত ২৫ মার্চ দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে। 
অভিযোগে জানা গেছে, গত স্বৈরাচারী সরকারের সময় জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদার নিজস্ব একটি কমিটি সৃজন করে। এই সময়ে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২০২১ সালে সংস্থাটির কয়েকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাছে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। ২০২১ সালের ৩১ মে সংস্থার সাবেক সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে দুদকে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আয়ুব আলী সাভার পৌরসভার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত অন্ধদের কল্যাণে তৈরীকৃত মার্কেট অনিয়মিতভাবে বরাদ্ধ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার দোকান ভাড়ার টাকা সংস্থার তহবিলে জমা না দিয়ে তা তছরুপের অভিযোগ করা হয়েছে। 
মিনহাজ উদ্দিন দাবি করেছেন, ২০২১ সালেই সংস্থায় ৫০ কোটির বেশি টাকার আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। একই সঙ্গে, সংস্থার নাম পরিবর্তন করে “জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা” রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনিয়মের ইঙ্গিত দেওয়া হয় অভিযোগে। দুদক অভিযোগ অনুসরণ না করায় ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-১৫০১৭/২০২৪) দায়ের করা হয়। আদালত দুদক’কে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পরেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। হাইকোর্টের আদেশ দুদকে প্রেরণের পর, গত ২৫ মার্চ মিনহাজ উদ্দিন দুদকের চেয়ারম্যানকে পুনরায় একটি চিঠি দিয়ে দ্রুত তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে, তিনি এখনো কোনো সাড়া পাননি। গত চার বছরে সংস্থার দুর্নীতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত হলে আরও বড় অঙ্কের অনিয়ম উদঘাটিত হতে পারে। ‘দুদক যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বরাদ্ধকৃত তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত হবে। 
জানা গেছে, জাতীয় অন্ধ সংস্থার নাম পরিবর্তন করে এখন ‘জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা’ নামে রাজধানীর ৬ নম্বর ওরফানেজ রোর্ডস্থ (বকশী বাজার) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। আর ৯ কাঠা জায়গার মধ্যে সংস্থার কেন্দ্রীয় এই কার্যালয়ে ভেতরে অবৈধ পাউরুটি ও বিস্কুট তৈরীর কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে নোংড়া ও অপরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং নকল খাবার পণ্য তৈরী করা হচ্ছে। আর এসব খাদ্য সামগ্রী নামীদামী বিভিন্ন কোম্পানীর নামে লেভেল ছাপিয়ে ব্যবহার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের পর তা সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি উক্ত কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, ‘জাতীয় অন্ধ সংস্থার’ নামে দেশের সাধারণ মানুষের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে গত ১৯৭৮ সালে ঢাকা জেলার সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ৫ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়। উক্ত জমির উপর ২টি তিন তলা পাকা মার্কেট স্থাপন করা হয়েছে। আর সেই মার্কেটের দোকানের ভাড়ার টাকা অন্ধদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা থাকলেও তা কয়েকজনে লুটপাট করছে। বর্তমান অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার তার সাথে কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসীচক্রের সহযোগিতায় উক্ত মার্কেট ২টি দখল করেছেন। গত ২০১৫ সালের উক্ত মার্কেটটিকে ডেভেলপার কোম্পানির সাথে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করে চুক্তি করা হয়েছে। আর উক্ত রেজিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে তৎকালীন চেয়ারম্যান মিনহাজউদ্দিন উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এরপর হাইকোর্ট ডিভিশন সন্তুষ্ট হয়ে উক্ত জমির উপর স্থিতি আদেশ জারী করেন। যার রিট নং-২২৬৮/২০১৬।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য জানান, উক্ত জমির উপর উচ্চ আদালতের স্থিতি আদেশ থাকা সত্ত্বেও মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র মার্কেটে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেখানে নির্মিত দোকানগুলো থেকে দুইশতাধিক দোকান অবৈধভাবে বিক্রি করছেন। যার প্রতিটি দোকানের মূল্য ১৬ লাখ হতে ২০ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোন হিসাব নেই। আর এসব আত্মসাতকৃত টাকা দিয়ে আইয়ূব আলী হাওলাদার তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল বাকেরগঞ্জ পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া, রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট, সাভারে জামি ক্রয় করেছে। শুধু তাই নয়, তিনি একাধিক গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অপর এক সূত্র জানায়, আইয়ূব আলী ভুইয়া সরকারি বরাদ্ধকৃত জায়গাটি অন্ধদের হাতছাড়া করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংস্থার নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তারা সংস্থার নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা’ নামকরণ করেছেন। আর সংস্থার গঠনতন্ত্রকে ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংশোধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় অন্ধ সংস্থার প্রধান কার্যালয়টি সরকার অন্ধদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে অন্ধদের জন্য কোন প্রকল্পের কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আইয়ুব আলী হাওলাদারের নিকট আত্মীয়-স্বজন সেখানে বসবাস করছেন। এছাড়া মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে একটি রুটি-বিস্কুট ফ্যাক্টরি কোম্পানীকে ভাড়া দিয়েছেন। এ সব বিষয়ে সাধারণ অন্ধ সদস্যরা প্রতিবাদ করায় তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওয়াদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র সাভারস্থ মার্কেটে দোকান বিক্রি, দোকান ভাড়া, প্রধান কার্যালয়ে রুটি-বিস্কুট ফ্যাক্টরী ভাড়া ছাড়াও দেশের বৃত্তবানদের সাহায্য-সহযোগিতার অর্থসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অন্ধ সংস্থার সাবেক মহাসচিব খলিলুর রহমান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে এই আইয়ূব আলীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে। উক্ত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারাধীন ছিল। কিন্তু এই আইয়ূব আলী হাওলাদার গংরা সেই মামলাটি এলোমেলো করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান মহাসচিব দুর্নীতি লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে। অন্ধদের কল্যাণে কোন প্রকার কাজ করা হচ্ছে না। কাউকে কোন প্রকার সহযোগিতাও করা হচ্ছে না। সরকারী বেসরকারি যে সব অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তার সব কিছুই আইয়ূব আলী ও তার লোকজন ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছে।
অপর এক সদস্য জানান, জাতীয় অন্ধ সংস্থার কোটি কোটি টাকার সকল সম্পত্তি লুটপাট করা হচ্ছে। আর এসব সম্পত্তি আইয়ূব আলীর নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা খাচ্ছে। সাভারের ৫ বিঘা সম্পত্তির উপর তিন তলা মার্কেট রয়েছে। উক্ত মার্কেটের অতিরিক্ত দোকান নির্মাণ করে বিক্রি করছে। আর মার্কেটের দোকানগুলোর ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ খাওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ৪২ কাঠা জমি বরাদ্ধ করা হয়েছিল। উক্ত সম্পত্তি অবৈধ কমিটি গঠন করে তা বিক্রি করা হয়েছে। আর এসব সম্পত্তি আত্মসাৎ করে তার গ্রামের বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও ঢাকা ও সাভারে জায়গা জমি, ফ্ল্যাট ও দু’টি গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ূব আলী হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র মার্কেট এর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। আর এই মতবিরোধকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। উক্ত হত্যাকাণ্ডের আসামী সন্ত্রাসীরা উচ্চ থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নেয়। কিন্তু নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে আইয়ুব আলী হাওলাদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সকালের সময়কে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তারা মামলা করেছেন, তদন্ত সংস্থা যদি আসে আমি তাদের কাগজপত্র দেখিয়ে দেব।

 

আব্দুল লতিফ রানা 

০৪ জুন, ২০২৫,  7:32 PM

news image
‘জাতীয় অন্ধ সংস্থা’র মহাসচিব আইয়ূব

জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদারের বিরুদ্ধে মার্কেটের দোকান ভাড়া ও অন্ধদের জন্য বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাতসহ প্রায় শত কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ জাতীয় অন্ধ সংস্থার সাবেক নেতা-কর্মীরা গত ৪ এপিল লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৭০ বছর আগে জাতীয় অন্ধ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সংস্থাটির সাধারণ সদস্যদের পক্ষে সাবেক চেয়ারম্যান ‘জাতীয় অন্ধ সংস্থা’ মিনহাজ উদ্দিন গত ২৫ মার্চ দুদক চেয়ার এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০২১ সালে ৩১ মে দুদকের চেয়ারম্যান এর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। গত ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশ নং ১৫-৭১/২০২৪ করা হয়। যা হাইকোটি সন্তষ্ঠ হয়ে বিষয়টি তদন্ত পুর্বক নিষ্পত্তির জন্য আদেশ প্রদান করেছেন। উক্ত আদেশের কপি গত ২৫ মার্চ দুদকে জমা দেওয়া হয়েছে। 
অভিযোগে জানা গেছে, গত স্বৈরাচারী সরকারের সময় জাতীয় অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদার নিজস্ব একটি কমিটি সৃজন করে। এই সময়ে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। উক্ত অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২০২১ সালে সংস্থাটির কয়েকজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাছে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। ২০২১ সালের ৩১ মে সংস্থার সাবেক সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষে দুদকে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আয়ুব আলী সাভার পৌরসভার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত অন্ধদের কল্যাণে তৈরীকৃত মার্কেট অনিয়মিতভাবে বরাদ্ধ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আবার দোকান ভাড়ার টাকা সংস্থার তহবিলে জমা না দিয়ে তা তছরুপের অভিযোগ করা হয়েছে। 
মিনহাজ উদ্দিন দাবি করেছেন, ২০২১ সালেই সংস্থায় ৫০ কোটির বেশি টাকার আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে। একই সঙ্গে, সংস্থার নাম পরিবর্তন করে “জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা” রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনিয়মের ইঙ্গিত দেওয়া হয় অভিযোগে। দুদক অভিযোগ অনুসরণ না করায় ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-১৫০১৭/২০২৪) দায়ের করা হয়। আদালত দুদক’কে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পরেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। হাইকোর্টের আদেশ দুদকে প্রেরণের পর, গত ২৫ মার্চ মিনহাজ উদ্দিন দুদকের চেয়ারম্যানকে পুনরায় একটি চিঠি দিয়ে দ্রুত তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে, তিনি এখনো কোনো সাড়া পাননি। গত চার বছরে সংস্থার দুর্নীতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী তদন্ত হলে আরও বড় অঙ্কের অনিয়ম উদঘাটিত হতে পারে। ‘দুদক যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়, তবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বরাদ্ধকৃত তহবিল সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত হবে। 
জানা গেছে, জাতীয় অন্ধ সংস্থার নাম পরিবর্তন করে এখন ‘জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা’ নামে রাজধানীর ৬ নম্বর ওরফানেজ রোর্ডস্থ (বকশী বাজার) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। আর ৯ কাঠা জায়গার মধ্যে সংস্থার কেন্দ্রীয় এই কার্যালয়ে ভেতরে অবৈধ পাউরুটি ও বিস্কুট তৈরীর কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে নোংড়া ও অপরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং নকল খাবার পণ্য তৈরী করা হচ্ছে। আর এসব খাদ্য সামগ্রী নামীদামী বিভিন্ন কোম্পানীর নামে লেভেল ছাপিয়ে ব্যবহার করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের পর তা সেখান থেকে উচ্ছেদ হয়ে যায়। কিন্তু সম্প্রতি উক্ত কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, ‘জাতীয় অন্ধ সংস্থার’ নামে দেশের সাধারণ মানুষের সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে গত ১৯৭৮ সালে ঢাকা জেলার সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ৫ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়। উক্ত জমির উপর ২টি তিন তলা পাকা মার্কেট স্থাপন করা হয়েছে। আর সেই মার্কেটের দোকানের ভাড়ার টাকা অন্ধদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা থাকলেও তা কয়েকজনে লুটপাট করছে। বর্তমান অন্ধ সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার তার সাথে কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসীচক্রের সহযোগিতায় উক্ত মার্কেট ২টি দখল করেছেন। গত ২০১৫ সালের উক্ত মার্কেটটিকে ডেভেলপার কোম্পানির সাথে বিপুল অংকের টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করে চুক্তি করা হয়েছে। আর উক্ত রেজিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে তৎকালীন চেয়ারম্যান মিনহাজউদ্দিন উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এরপর হাইকোর্ট ডিভিশন সন্তুষ্ট হয়ে উক্ত জমির উপর স্থিতি আদেশ জারী করেন। যার রিট নং-২২৬৮/২০১৬।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য জানান, উক্ত জমির উপর উচ্চ আদালতের স্থিতি আদেশ থাকা সত্ত্বেও মহাসচিব আইয়ূব আলী হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র মার্কেটে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আর সেখানে নির্মিত দোকানগুলো থেকে দুইশতাধিক দোকান অবৈধভাবে বিক্রি করছেন। যার প্রতিটি দোকানের মূল্য ১৬ লাখ হতে ২০ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোন হিসাব নেই। আর এসব আত্মসাতকৃত টাকা দিয়ে আইয়ূব আলী হাওলাদার তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল বাকেরগঞ্জ পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া, রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট, সাভারে জামি ক্রয় করেছে। শুধু তাই নয়, তিনি একাধিক গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন।
অপর এক সূত্র জানায়, আইয়ূব আলী ভুইয়া সরকারি বরাদ্ধকৃত জায়গাটি অন্ধদের হাতছাড়া করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংস্থার নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তারা সংস্থার নাম পরিবর্তন করে ‘জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা’ নামকরণ করেছেন। আর সংস্থার গঠনতন্ত্রকে ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংশোধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় অন্ধ সংস্থার প্রধান কার্যালয়টি সরকার অন্ধদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানে অন্ধদের জন্য কোন প্রকল্পের কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আইয়ুব আলী হাওলাদারের নিকট আত্মীয়-স্বজন সেখানে বসবাস করছেন। এছাড়া মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে একটি রুটি-বিস্কুট ফ্যাক্টরি কোম্পানীকে ভাড়া দিয়েছেন। এ সব বিষয়ে সাধারণ অন্ধ সদস্যরা প্রতিবাদ করায় তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওয়াদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র সাভারস্থ মার্কেটে দোকান বিক্রি, দোকান ভাড়া, প্রধান কার্যালয়ে রুটি-বিস্কুট ফ্যাক্টরী ভাড়া ছাড়াও দেশের বৃত্তবানদের সাহায্য-সহযোগিতার অর্থসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অন্ধ সংস্থার সাবেক মহাসচিব খলিলুর রহমান হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে এই আইয়ূব আলীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে। উক্ত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারাধীন ছিল। কিন্তু এই আইয়ূব আলী হাওলাদার গংরা সেই মামলাটি এলোমেলো করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমান মহাসচিব দুর্নীতি লুটপাটে ব্যস্ত রয়েছে। অন্ধদের কল্যাণে কোন প্রকার কাজ করা হচ্ছে না। কাউকে কোন প্রকার সহযোগিতাও করা হচ্ছে না। সরকারী বেসরকারি যে সব অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তার সব কিছুই আইয়ূব আলী ও তার লোকজন ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছে।
অপর এক সদস্য জানান, জাতীয় অন্ধ সংস্থার কোটি কোটি টাকার সকল সম্পত্তি লুটপাট করা হচ্ছে। আর এসব সম্পত্তি আইয়ূব আলীর নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা খাচ্ছে। সাভারের ৫ বিঘা সম্পত্তির উপর তিন তলা মার্কেট রয়েছে। উক্ত মার্কেটের অতিরিক্ত দোকান নির্মাণ করে বিক্রি করছে। আর মার্কেটের দোকানগুলোর ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ খাওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ৪২ কাঠা জমি বরাদ্ধ করা হয়েছিল। উক্ত সম্পত্তি অবৈধ কমিটি গঠন করে তা বিক্রি করা হয়েছে। আর এসব সম্পত্তি আত্মসাৎ করে তার গ্রামের বাড়িতে পাকা বাড়ি নির্মাণ ছাড়াও ঢাকা ও সাভারে জায়গা জমি, ফ্ল্যাট ও দু’টি গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আইয়ূব আলী হাওলাদার ও তার সন্ত্রাসীচক্র মার্কেট এর টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। আর এই মতবিরোধকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। উক্ত হত্যাকাণ্ডের আসামী সন্ত্রাসীরা উচ্চ থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নেয়। কিন্তু নিম্ন আদালতে হাজির না হয়ে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে আইয়ুব আলী হাওলাদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সকালের সময়কে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তারা মামলা করেছেন, তদন্ত সংস্থা যদি আসে আমি তাদের কাগজপত্র দেখিয়ে দেব।