ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:32 PM
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটে গেল।
এদিকে তারেক রহমান দেশে ফেরাকে অন্য সকল রাজনৈতি দল ইতিবাচক দেখছেন। এই বিষয় বিবিসিকে দেয়া এক বক্তব্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন রাজনৈতিক সহকর্মী দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’ একই সঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন, অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন—এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বলেছেন, ‘তিনিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাটিকে। তবে তিনিও মনে করেন, ‘তারেক রহমান কিভাবে ভূমিকা রাখেন, তার ওপর নির্ভর করে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান তৈরি হবে।’
পাশাপাশি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরো সুসংহত করবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এ অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’ তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই, যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।’ ‘বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরো সুসংহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জনাব তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার এ অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেছেন, দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।’
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, ‘তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাসনে থেকে তার দল বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তিনি কিভাবে ভূমিকা রাখেন, সেটি একটি বড় বিষয়।’
অপরদিকে তারেক রহমানের ফেরার পর ৩টি প্রধান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ছিল ‘আসলেই কি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে?’ তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পর সেই অনিশ্চয়তা প্রায় ৯০শতাংশ কেটে গেছে। বিএনপির মতো বড় দল এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে নামছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ফিরেছেন মানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর একটি আইনি সমাধান বা জামিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এখন মুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, বিচার বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সমঝোতা বা আইনি পথ তৈরি হয়েছে। এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
তারেক রহমান ফেরার পরপরই জামায়াতে ইসলামী, ইনকিলাব মঞ্চ এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর সাথে বিএনপির সম্পর্কের রসায়ন কী হয়, তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহল উৎসুক। তিনি আসার পর হয়তো খুব দ্রুতই ‘যুগপৎ আন্দোলন’ থেকে ‘নির্বাচনি জোটে’ রূপান্তরের ঘোষণা আসতে পারে।
বিদেশের প্রতিক্রিয়া: মার্কিন দূতাবাস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বড় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা মেলায় এখন তারা ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিএনপির ইশতেহার: শোনা যাচ্ছে, আগামী ১ বা ২ জানুয়ারি তারেক রহমান নিজেই বিএনপির ‘ভিশন ২০২৬’ বা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
এতদিন জনমনে বড় প্রশ্ন ছিল নির্বাচন কি আসলেই হবে? তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি সেই শঙ্কার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। বিএনপি এখন আর ‘অংশগ্রহণ করব কি করব না’ এমন দোটানায় নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, তাতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্র এখন প্রশ্নাতীত।
লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দল চালানো আর সরাসরি জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য, তা গত কয়েক ঘণ্টার জনসমর্থনই প্রমাণ করেছে।
ভোটের রাজনীতি: নিরপেক্ষ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যারা এতদিন সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন, তারা এখন একটি সুনির্দিষ্ট মেরুকরণ দেখতে পাচ্ছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছেও একটি শক্তিশালী বার্তা। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো, যারা বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চেয়েছিল, তারা এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছেও এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতায় কারা আসতে পারে।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, 6:32 PM
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে যে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা ছিল, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কেটে গেল।
এদিকে তারেক রহমান দেশে ফেরাকে অন্য সকল রাজনৈতি দল ইতিবাচক দেখছেন। এই বিষয় বিবিসিকে দেয়া এক বক্তব্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন রাজনৈতিক সহকর্মী দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরাসরি রাজনীতির মাঠে ফিরছেন, এটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।’ একই সঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন, অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কিভাবে করবেন—এসব বিষয়ে জামায়াত নজর রাখবে।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও বলেছেন, ‘তিনিও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাটিকে। তবে তিনিও মনে করেন, ‘তারেক রহমান কিভাবে ভূমিকা রাখেন, তার ওপর নির্ভর করে জাতীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান তৈরি হবে।’
পাশাপাশি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরো সুসংহত করবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এ অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’ তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই, যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।’ ‘বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা লিখেছেন, ‘জনাব তারেক রহমানের এ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরো সুসংহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জনাব তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার এ অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেছেন, দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।’
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, ‘তারেক রহমান দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা রাখেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাসনে থেকে তার দল বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তিনি কিভাবে ভূমিকা রাখেন, সেটি একটি বড় বিষয়।’
অপরদিকে তারেক রহমানের ফেরার পর ৩টি প্রধান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতদিন সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন ছিল ‘আসলেই কি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে?’ তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পর সেই অনিশ্চয়তা প্রায় ৯০শতাংশ কেটে গেছে। বিএনপির মতো বড় দল এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে নামছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ফিরেছেন মানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর একটি আইনি সমাধান বা জামিন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এখন মুক্ত। এটি প্রমাণ করে যে, বিচার বিভাগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সমঝোতা বা আইনি পথ তৈরি হয়েছে। এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
তারেক রহমান ফেরার পরপরই জামায়াতে ইসলামী, ইনকিলাব মঞ্চ এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর সাথে বিএনপির সম্পর্কের রসায়ন কী হয়, তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহল উৎসুক। তিনি আসার পর হয়তো খুব দ্রুতই ‘যুগপৎ আন্দোলন’ থেকে ‘নির্বাচনি জোটে’ রূপান্তরের ঘোষণা আসতে পারে।
বিদেশের প্রতিক্রিয়া: মার্কিন দূতাবাস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বড় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা মেলায় এখন তারা ব্যালট পেপার মুদ্রণ ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছেন।
বিএনপির ইশতেহার: শোনা যাচ্ছে, আগামী ১ বা ২ জানুয়ারি তারেক রহমান নিজেই বিএনপির ‘ভিশন ২০২৬’ বা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন।
এতদিন জনমনে বড় প্রশ্ন ছিল নির্বাচন কি আসলেই হবে? তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি সেই শঙ্কার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। বিএনপি এখন আর ‘অংশগ্রহণ করব কি করব না’ এমন দোটানায় নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে, তাতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্র এখন প্রশ্নাতীত।
লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দল চালানো আর সরাসরি জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার মধ্যে যে বিশাল পার্থক্য, তা গত কয়েক ঘণ্টার জনসমর্থনই প্রমাণ করেছে।
ভোটের রাজনীতি: নিরপেক্ষ ভোটারদের একটি বড় অংশ, যারা এতদিন সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন, তারা এখন একটি সুনির্দিষ্ট মেরুকরণ দেখতে পাচ্ছেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছেও একটি শক্তিশালী বার্তা। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো, যারা বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চেয়েছিল, তারা এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছেও এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে, আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতায় কারা আসতে পারে।