নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুন, ২০২৫, 6:41 PM
দেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ধেয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা-হেরোইনসহ মাদকের বড় চালান। এসব মাদক উদ্ধারে বিজিবির অভিযানে বহনকারী দুই একজন আটক হলেও নেপথ্যের ব্যবসায়ীরা আড়ালেই থাকছেন। আর অধিকাংশই পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র সদরদপ্তর সূত্র জানায়, গত মে মাসেই বিজিবির অভিযানে ১৩৩ কোটি ১১ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানীর মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আর জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে ৬ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৯৩৫ গ্রাম হেরোইন, ২৩ গ্রাম ক্রিষ্টাল মেথ আইস, ১ কেজি ৪১০ গ্রাম কোকেন, ১০ হাজার ৫২১ বোতল ফেনসিডিল ও ৮ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া ৭১.২৫ লিটার বাংলা মদ, ৮১৩ বোতল ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৯১৩ কেজি ৬৩০ গ্রাম গাঁজা, ২ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ প্যাকেট বিড়ি-সিগারেট, ৩০ হাজার ১১৫টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। আবার ৫৪ হাজার ৩৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ৫ বোতল এলএসডি, ২০ হাজার ৪৯৩টি এ্যানেগ্রা ও সনেগ্রা ট্যাবলেট, ৭৩৭টি এমকেডিল ও কফিডিল এবং ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৪ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ও ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে ১ কেজি ৫১২ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ হাজার ৫৪৪টি শাড়ী, ৫ হাজার ১৪০টি বিভিন্ন প্রকারের কাপড়। ৩ হাজার ৪৭২টি তৈরী পোশাক, ১৯ হাজার ৩১৪ মিটার থান কাপড়, ২ লাখ ৫২ হাজার ২৯টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৫ হাজার ৪৪৩টি ইমিটেশন সামগ্রী, ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৫১টি আতশবাজি, ১৭ হাজার ৫২৩ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করেছে বিজিবি। তাছাড়া, ৩ হাজার ১৫১ কেজি চা পাতা, ৯২ হাজার ৪৮৭ কেজি সুপারি, ৫৩ হাজার ৪০ কেজি চিনি, ২০ হাজার ৪৪২ কেজি সার, ২৯ হাজার ৯৮৫ কেজি কয়লা, ১০০ কেজি সুতা ও কারেন্ট জাল, ৩৪১টি মোবাইল, ১৭ হাজার ৬৫টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৬ হাজার ৫৪০টি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, এবং ১৫ হাজার ১১২টি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ৪টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১৩টি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান, ১৫টি পিকআপ, ৪টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, ৯২টি নৌকা, ২৬টি সিএনজি এবং ইজিবাইক, ৭২টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল রয়েছে। এছাড়া, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি দেশীয় পিস্তল, ৫টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ৯মি:মি: পিস্তল, ২টি শট গান ৫টি ম্যাগাজিন, ৪টি ককটেল, ২৪টি গুলি এবং ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড রয়েছে। এসব উদ্ধার অভিযানে ১৪৫জন চোরাচালানী, ৭১৫ জন বাংলাদেশী ও ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিএসসি জানিয়েছেন, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মো. শহিদ (১৯)। গত ২১ জুন শনিবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেঅত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মাদকের বড় চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে আসার তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপি’র সীমান্তবর্তী জামালের ঘের নামক স্থানে অবস্থান করা হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে সীমান্তের দিক থেকে ব্যাগ কাঁধে করে সামনের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি তার সাথে থাকা ব্যাগ ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহলদল তাকে ধাওয়া করে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তি এফডিএমএন ক্যাম্প নং-০৮, ব্লক- বি/৭৪ এর বাসিন্দা। পরে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে তার ফেলে দেয়া ব্যাগের ভেতর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, নাফ নদীতে জেলের ছদ্মবেশে মাদক পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি। আটককৃতরা হলেন, জুবায়ের (২০) ও নুরুল আমিন (২২)।
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ ্র অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে জেলের ছদ্মবেশে মাদক পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মায়ানমারের ২জন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গত ১৮ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র নাফ নদী দিয়ে মায়ানমার নাগরিক মাছ ধরার ছদ্মবেশে ইয়াবার চালান বাংলাদেশী নাগরিকদের কাছে হস্তান্তরের সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, নাফ নদী ও তীরবর্তী বেশকিছু কৌশলগত স্থানে দ্রুত বিশেষ টহল মোতায়েন করেন। নদীতে একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি’র নৌ টহলদলগুলো তড়িৎ গতিতে তাদের পিছু ধাওয়া করে। একপর্যায়ে নাফ নদীর জল সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবির আভিযানে মায়ানমারের দুইজন নাগরিকসহ নৌকাটি আটক করা হয়। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাটাতনের নিচে জালের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
আবার টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার লেদা ও নোয়াপাড়া সীমান্তবর্তী আদমের জোড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখিত মাদকগুলো জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, গত ১৭ জুন গোয়েন্দা গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) আদমের জোড়া ও নোয়াপাড়া বিএসপি বেড়িবাঁধ এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মাদক পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া কর্দমাক্ত দুইটি বস্তার ভেতর থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
বিজিবির অপর এক অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মির্জাজোড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। ১২ জুন সকালে বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মায়ানমার হতে ইয়াবা সংগ্রহ করে নদী পথে বাংলাদেশে ফেরত আসবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি কেওড়া জঙ্গলের ভিতরে অভিনব পন্থায় পানিতে নিমজ্জিত দুটি ব্যাগের ভিতর থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ইয়াবাই নয়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ৩ গ্রাম হেরোইন ও নগদ আড়াই লক্ষ টাকাসহ ১ জনকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গার কাটাপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে উল্লেখিত হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে চাপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন -৫৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৮ মে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ ইকরাম (২৯) নামে এক মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদকের চালান আসার তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং চেকপোস্টে টহল জোরদার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উখিয়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেল চেকপোস্টে আসলে বিজিবি সদস্যরা ব্লক রেইড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত পালানোর চেস্টা করলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা প্লাষ্টিক ব্যাগের ভেতরে ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ জুন, ২০২৫, 6:41 PM
দেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও চাপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ধেয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা-হেরোইনসহ মাদকের বড় চালান। এসব মাদক উদ্ধারে বিজিবির অভিযানে বহনকারী দুই একজন আটক হলেও নেপথ্যের ব্যবসায়ীরা আড়ালেই থাকছেন। আর অধিকাংশই পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি’র সদরদপ্তর সূত্র জানায়, গত মে মাসেই বিজিবির অভিযানে ১৩৩ কোটি ১১ লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানীর মালামাল জব্দ করা হয়েছে। আর জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে ৬ লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৯৩৫ গ্রাম হেরোইন, ২৩ গ্রাম ক্রিষ্টাল মেথ আইস, ১ কেজি ৪১০ গ্রাম কোকেন, ১০ হাজার ৫২১ বোতল ফেনসিডিল ও ৮ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া ৭১.২৫ লিটার বাংলা মদ, ৮১৩ বোতল ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৯১৩ কেজি ৬৩০ গ্রাম গাঁজা, ২ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ প্যাকেট বিড়ি-সিগারেট, ৩০ হাজার ১১৫টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে। আবার ৫৪ হাজার ৩৪৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ৫ বোতল এলএসডি, ২০ হাজার ৪৯৩টি এ্যানেগ্রা ও সনেগ্রা ট্যাবলেট, ৭৩৭টি এমকেডিল ও কফিডিল এবং ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৪ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ও ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে ১ কেজি ৫১২ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ হাজার ৫৪৪টি শাড়ী, ৫ হাজার ১৪০টি বিভিন্ন প্রকারের কাপড়। ৩ হাজার ৪৭২টি তৈরী পোশাক, ১৯ হাজার ৩১৪ মিটার থান কাপড়, ২ লাখ ৫২ হাজার ২৯টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৫ হাজার ৪৪৩টি ইমিটেশন সামগ্রী, ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৫৫১টি আতশবাজি, ১৭ হাজার ৫২৩ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করেছে বিজিবি। তাছাড়া, ৩ হাজার ১৫১ কেজি চা পাতা, ৯২ হাজার ৪৮৭ কেজি সুপারি, ৫৩ হাজার ৪০ কেজি চিনি, ২০ হাজার ৪৪২ কেজি সার, ২৯ হাজার ৯৮৫ কেজি কয়লা, ১০০ কেজি সুতা ও কারেন্ট জাল, ৩৪১টি মোবাইল, ১৭ হাজার ৬৫টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৬ হাজার ৫৪০টি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, এবং ১৫ হাজার ১১২টি চশমা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ৪টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১৩টি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান, ১৫টি পিকআপ, ৪টি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস, ৯২টি নৌকা, ২৬টি সিএনজি এবং ইজিবাইক, ৭২টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল রয়েছে। এছাড়া, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি দেশীয় পিস্তল, ৫টি বিদেশী পিস্তল, ২টি ৯মি:মি: পিস্তল, ২টি শট গান ৫টি ম্যাগাজিন, ৪টি ককটেল, ২৪টি গুলি এবং ১টি হ্যান্ড গ্রেনেড রয়েছে। এসব উদ্ধার অভিযানে ১৪৫জন চোরাচালানী, ৭১৫ জন বাংলাদেশী ও ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিএসসি জানিয়েছেন, বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম মো. শহিদ (১৯)। গত ২১ জুন শনিবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেঅত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মাদকের বড় চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে আসার তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপি’র সীমান্তবর্তী জামালের ঘের নামক স্থানে অবস্থান করা হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে সীমান্তের দিক থেকে ব্যাগ কাঁধে করে সামনের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি তার সাথে থাকা ব্যাগ ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহলদল তাকে ধাওয়া করে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তি এফডিএমএন ক্যাম্প নং-০৮, ব্লক- বি/৭৪ এর বাসিন্দা। পরে বিজিবি টহলদল ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে তার ফেলে দেয়া ব্যাগের ভেতর থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, নাফ নদীতে জেলের ছদ্মবেশে মাদক পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি। আটককৃতরা হলেন, জুবায়ের (২০) ও নুরুল আমিন (২২)।
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ ্র অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে জেলের ছদ্মবেশে মাদক পাচারের সময় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মায়ানমারের ২জন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গত ১৮ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাজিরপাড়া বিওপি’র নাফ নদী দিয়ে মায়ানমার নাগরিক মাছ ধরার ছদ্মবেশে ইয়াবার চালান বাংলাদেশী নাগরিকদের কাছে হস্তান্তরের সময় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, নাফ নদী ও তীরবর্তী বেশকিছু কৌশলগত স্থানে দ্রুত বিশেষ টহল মোতায়েন করেন। নদীতে একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি’র নৌ টহলদলগুলো তড়িৎ গতিতে তাদের পিছু ধাওয়া করে। একপর্যায়ে নাফ নদীর জল সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে বাংলাদেশের ভেতরে বিজিবির আভিযানে মায়ানমারের দুইজন নাগরিকসহ নৌকাটি আটক করা হয়। পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাটাতনের নিচে জালের ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
আবার টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার লেদা ও নোয়াপাড়া সীমান্তবর্তী আদমের জোড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখিত মাদকগুলো জব্দ করা হয়েছে। বিজিবি জানায়, গত ১৭ জুন গোয়েন্দা গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) আদমের জোড়া ও নোয়াপাড়া বিএসপি বেড়িবাঁধ এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মাদক পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া কর্দমাক্ত দুইটি বস্তার ভেতর থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
বিজিবির অপর এক অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মির্জাজোড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। ১২ জুন সকালে বিজিবি’র টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মায়ানমার হতে ইয়াবা সংগ্রহ করে নদী পথে বাংলাদেশে ফেরত আসবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি কেওড়া জঙ্গলের ভিতরে অভিনব পন্থায় পানিতে নিমজ্জিত দুটি ব্যাগের ভিতর থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ইয়াবাই নয়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ৩ গ্রাম হেরোইন ও নগদ আড়াই লক্ষ টাকাসহ ১ জনকে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গার কাটাপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযানে সাখাওয়াত হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে উল্লেখিত হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে চাপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন -৫৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৮ মে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ ইকরাম (২৯) নামে এক মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদকের চালান আসার তথ্যের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং চেকপোস্টে টহল জোরদার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উখিয়া থেকে টেকনাফগামী মোটরসাইকেল চেকপোস্টে আসলে বিজিবি সদস্যরা ব্লক রেইড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। এসময় মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত পালানোর চেস্টা করলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা প্লাষ্টিক ব্যাগের ভেতরে ১ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন।