নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুলাই, ২০২৫, 1:48 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিবি) বহিষ্কৃত নেতা গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরসহ ৩৬ জন প্রেস মালিক ফেঁসে যাচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চলতি বছরের পাঠ্যবই ছাপানোর নামে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৩৬ জন প্রেস মালিকের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে। আর এনসিটিবি’র পক্ষ থেকে প্রেস মালিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। এদিকে দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শীর্ষ তিন কর্মকর্তা, এনসিপি নেতা সালাহউদ্দি তানভীরের মধ্যস্থতায় বই ছাপার কাগজের সংকট দেখিয়ে ‘ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানীর মাধ্যমে চীন থেকে কাগজ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। আর কাগজ আমদানিতে ৫৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। শিক্ষা উপদেষ্টার মাধ্যমে অর্থ উপদেষ্টাকে বুঝিয়ে ২৮ শতাংশ শুল্ক মওকুফ করিয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে মোট ৯ হাজার ৩৫০ টন কাগজ ও আর্টকার্ড আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ৭ হাজার ৭৫০ টন কাগজ এবং ১ হাজার ৬০০ টন আর্টকার্ড ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টন কাগজ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস। কিন্তু ২৮ শতাংশ শুল্ক মওকুফের পর সেই কাগজের দাম হওয়ার কথা ছিল ১ লাখ টাকার মধ্যে। ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটসের কাগজ আমদানি ও পরিবহন খরচসহ প্রতি টনের দাম পড়ে ৯৪ হাজার টাকা। কিন্তু এটি প্রিন্টার্সদের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ফলে প্রতি টনে ৩৬ হাজার টাকা মুনাফা করে ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস নামের প্রতিষ্ঠানটি। এই হিসাবে শুধু কাগজেই প্রায় ২৮ কোটি টাকা মুনাফা করা হয়েছে। আর এই পুরো বিষয়টি কমিশন বাণিজ্য হিসেবে দেখছে দুদক। আর্টকার্ডের শুল্ক মওকুফের বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও কাগজের মুনাফা যোগ করলে মোট কমিশন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এনসিটিবি’র সূত্র জানায়, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের পুরো কেনাকাটা ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এনসিটিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান, সচিব, সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) এবং বিতরণ ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রকসহ পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। গত ২৪ জুন বই ছাপায় নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত বই ছাপিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং শুল্কমুক্ত কাগজ আমদানির নামে ৩৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। উক্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য ছয় ধরনের তথ্য চেয়ে এনসিটিবিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দরপত্রের কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, বই গ্রহণ, প্রিন্টার্সদের সঙ্গে চুক্তির পরও তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে কি না, এ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র, মুদ্রণকারীদের বিল পরিশোধ, আমদানিকৃত মুদ্রণ কাগজের পোর্ট ডেমারেজ, নিম্নমানের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং ৩৬টি প্রেস মালিকদের গত ১০ বছরের কাজের বিস্তারিত তথ্য ওই চিঠিতে চাওয়া হয়েছে। আর উক্ত চিঠির প্রেক্ষিতে এনসিটিবি উল্লেখিত বিষয়গুলোর তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে বলেও সুত্রে জানা গেছে।
আর যে সকল প্রেস বা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছেন, সেই ৩৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আনোয়ারা, কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স,আমিন আর্ট প্রেস, আনন্দ প্রিন্টার্স, অনন্যা, সরকার ও বলাকা প্রিন্টার্স, অনুপম প্রিন্টার্স লিমিটেড, প্রোমা প্রিন্টিং প্রেস, বৃষ্টি প্রিন্টিং প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রিন্টার্স, অটো ও মোল্লা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রিন্টিং প্যাকেজিং, ভাই ভাই প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, ব্রাইট, ফাহিম প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, দোহার, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, ফাথিন প্রিন্টিং, ফাইভ স্টার প্রিন্টিং, ফরাজী প্রেস পাবলিকেশন, হাওলাদার অফসেট প্রেস, কাশেম অ্যান্ড রহমান প্রিন্টিং প্রেস, দ্য গুডলাক প্রিন্টার্স, আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, মেরাজ প্রিন্টিং প্রেস, পানামা প্রিন্টার্স, মৌসুমী অফসেট, জনতা প্রেস, নুরুল ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস, পাঞ্জেরী প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট, সোমা প্রিন্টিং, ভয়েজার পাবলিকেশন্স, রূপালী প্রিন্টিং এবং ঢাকা প্রিন্টার্স, খন্দকার এন্টারপ্রাইজ, প্রিয়াংকা প্রিন্টিং, রেদওয়ানিয়া প্রেস, এস আর প্রিন্টিং, এস এস প্রিন্টার্স, শৈলী প্রিন্টার্স বলে জানা গেছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুদক ছয় ধরনের তথ্য চাইলেও মূলত তদন্ত করছে বই ছাপানোর জন্য প্রিন্টার্সদের সঙ্গে চুক্তির পরও তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে ১০ হাজার টন কাগজ আমদানি করার বিষয়টি। এজন্য এনসিটিবির কাছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং চুক্তিপত্র হয়ে থাকলে সেসবের রেকর্ড চাওয়া হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে আলোচিত এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর ৩৩ কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার পর তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করার সুযোগ না থাকলেও এনসিটিবি তা করেছে বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রিন্টার্স ব্যবসায়ী জানান, দ্রুততম সময়ে খোলা বাজারের চেয়ে কমদামে কাগজ সরবরাহ করার জন্য শুল্ক মওকুফ করে কাগজ আমদানি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুল্ক মওকুফে আনা কাগজের দাম ছিল খোলাবাজারের চেয়েও বেশি। তাদের কম দামে কাগজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা পায়নি। তাহলে সরকার কেন শুল্ক মওকুফ করেছিল? এখানে একটি চক্র এনসিটিবি’র যোগসাজশে বিশাল অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘চলতি বছর বই ছাপায় পুকুর নয়, সাগর চুরি করা হয়েছে। এনসিটিবি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান, সচিব, এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর মিলে কাগজ কেনাকাটায় কারসাজি করে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তাই যারা নেপথ্যে ছিলেন তাদেরকে না ধরে দুদক উল্টো প্রিন্টার্সদের তলব করেছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উপ সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সিরাজুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সকালের সময়কে বলেন, এই বিষয়টি আমি দেখছি না। তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জানান তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুলাই, ২০২৫, 1:48 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিবি) বহিষ্কৃত নেতা গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ তানভীরসহ ৩৬ জন প্রেস মালিক ফেঁসে যাচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চলতি বছরের পাঠ্যবই ছাপানোর নামে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৩৬ জন প্রেস মালিকের বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে। আর এনসিটিবি’র পক্ষ থেকে প্রেস মালিকদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। এদিকে দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শীর্ষ তিন কর্মকর্তা, এনসিপি নেতা সালাহউদ্দি তানভীরের মধ্যস্থতায় বই ছাপার কাগজের সংকট দেখিয়ে ‘ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানীর মাধ্যমে চীন থেকে কাগজ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। আর কাগজ আমদানিতে ৫৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। শিক্ষা উপদেষ্টার মাধ্যমে অর্থ উপদেষ্টাকে বুঝিয়ে ২৮ শতাংশ শুল্ক মওকুফ করিয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে মোট ৯ হাজার ৩৫০ টন কাগজ ও আর্টকার্ড আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ৭ হাজার ৭৫০ টন কাগজ এবং ১ হাজার ৬০০ টন আর্টকার্ড ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টন কাগজ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করে ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস। কিন্তু ২৮ শতাংশ শুল্ক মওকুফের পর সেই কাগজের দাম হওয়ার কথা ছিল ১ লাখ টাকার মধ্যে। ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটসের কাগজ আমদানি ও পরিবহন খরচসহ প্রতি টনের দাম পড়ে ৯৪ হাজার টাকা। কিন্তু এটি প্রিন্টার্সদের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। ফলে প্রতি টনে ৩৬ হাজার টাকা মুনাফা করে ইউনিয়ন অ্যাসোসিয়েটস নামের প্রতিষ্ঠানটি। এই হিসাবে শুধু কাগজেই প্রায় ২৮ কোটি টাকা মুনাফা করা হয়েছে। আর এই পুরো বিষয়টি কমিশন বাণিজ্য হিসেবে দেখছে দুদক। আর্টকার্ডের শুল্ক মওকুফের বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও কাগজের মুনাফা যোগ করলে মোট কমিশন বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এনসিটিবি’র সূত্র জানায়, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের পুরো কেনাকাটা ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এনসিটিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান, সচিব, সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) এবং বিতরণ ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রকসহ পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। গত ২৪ জুন বই ছাপায় নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত বই ছাপিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং শুল্কমুক্ত কাগজ আমদানির নামে ৩৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। উক্ত বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য ছয় ধরনের তথ্য চেয়ে এনসিটিবিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দরপত্রের কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, বই গ্রহণ, প্রিন্টার্সদের সঙ্গে চুক্তির পরও তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে কি না, এ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র, মুদ্রণকারীদের বিল পরিশোধ, আমদানিকৃত মুদ্রণ কাগজের পোর্ট ডেমারেজ, নিম্নমানের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং ৩৬টি প্রেস মালিকদের গত ১০ বছরের কাজের বিস্তারিত তথ্য ওই চিঠিতে চাওয়া হয়েছে। আর উক্ত চিঠির প্রেক্ষিতে এনসিটিবি উল্লেখিত বিষয়গুলোর তথ্য দুদকে পাঠিয়েছে বলেও সুত্রে জানা গেছে।
আর যে সকল প্রেস বা মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করছেন, সেই ৩৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, আনোয়ারা, কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স,আমিন আর্ট প্রেস, আনন্দ প্রিন্টার্স, অনন্যা, সরকার ও বলাকা প্রিন্টার্স, অনুপম প্রিন্টার্স লিমিটেড, প্রোমা প্রিন্টিং প্রেস, বৃষ্টি প্রিন্টিং প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রিন্টার্স, অটো ও মোল্লা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রিন্টিং প্যাকেজিং, ভাই ভাই প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, ব্রাইট, ফাহিম প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স, দোহার, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স, ফায়িজা প্রিন্টিং প্রেস, ফাথিন প্রিন্টিং, ফাইভ স্টার প্রিন্টিং, ফরাজী প্রেস পাবলিকেশন, হাওলাদার অফসেট প্রেস, কাশেম অ্যান্ড রহমান প্রিন্টিং প্রেস, দ্য গুডলাক প্রিন্টার্স, আলিফ প্রিন্টিং প্রেস, মেরাজ প্রিন্টিং প্রেস, পানামা প্রিন্টার্স, মৌসুমী অফসেট, জনতা প্রেস, নুরুল ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস, পাঞ্জেরী প্রিন্টার্স, টাঙ্গাইল অফসেট, সোমা প্রিন্টিং, ভয়েজার পাবলিকেশন্স, রূপালী প্রিন্টিং এবং ঢাকা প্রিন্টার্স, খন্দকার এন্টারপ্রাইজ, প্রিয়াংকা প্রিন্টিং, রেদওয়ানিয়া প্রেস, এস আর প্রিন্টিং, এস এস প্রিন্টার্স, শৈলী প্রিন্টার্স বলে জানা গেছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুদক ছয় ধরনের তথ্য চাইলেও মূলত তদন্ত করছে বই ছাপানোর জন্য প্রিন্টার্সদের সঙ্গে চুক্তির পরও তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে ১০ হাজার টন কাগজ আমদানি করার বিষয়টি। এজন্য এনসিটিবির কাছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং চুক্তিপত্র হয়ে থাকলে সেসবের রেকর্ড চাওয়া হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে আলোচিত এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর ৩৩ কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার পর তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করার সুযোগ না থাকলেও এনসিটিবি তা করেছে বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রিন্টার্স ব্যবসায়ী জানান, দ্রুততম সময়ে খোলা বাজারের চেয়ে কমদামে কাগজ সরবরাহ করার জন্য শুল্ক মওকুফ করে কাগজ আমদানি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুল্ক মওকুফে আনা কাগজের দাম ছিল খোলাবাজারের চেয়েও বেশি। তাদের কম দামে কাগজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা পায়নি। তাহলে সরকার কেন শুল্ক মওকুফ করেছিল? এখানে একটি চক্র এনসিটিবি’র যোগসাজশে বিশাল অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য করেছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘চলতি বছর বই ছাপায় পুকুর নয়, সাগর চুরি করা হয়েছে। এনসিটিবি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান, সচিব, এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর মিলে কাগজ কেনাকাটায় কারসাজি করে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তাই যারা নেপথ্যে ছিলেন তাদেরকে না ধরে দুদক উল্টো প্রিন্টার্সদের তলব করেছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উপ সচিব (প্রশাসন ও সংস্থাপন) সিরাজুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সকালের সময়কে বলেন, এই বিষয়টি আমি দেখছি না। তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য জানান তিনি।