নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 7:04 PM
সঙ্গীতকে ভালোলাগা, বিশ্বাস আর জীবনবোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যিনি ছুটে চলেছেন অবিরাম, তিনি কণ্ঠশিল্পী উত্তম রায়। শৈশব থেকে সুরের জগতে তাঁর পথচলা শুরু, আর সেই পথচলা আজও চলমান। শিক্ষাজীবনে যেমন তিনি পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী, তেমনই সঙ্গী ছিলেন গান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তম শুধু গান গেয়েই থামেননি, নিজেকে একজন সম্পূর্ণ সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। রবীন্দ্রভারতী থেকে তিনি 'বিমিউজ' সম্পন্ন করেছেন এবং নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ ও সোহরাব হোসেনের মতো গুণী মানুষের কাছে তিনি নজরুল সঙ্গীত শিখেছেন। এছাড়া, পণ্ডিত তুষার দত্ত, উস্তাদ মিহির লালা, অনিলকুমার সাহা, শুভ্রা গুহসহ বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বিশেষজ্ঞের কাছে তিনি মার্গসঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন।
পেশাদার জীবন ও জনপ্রিয়তা
সঙ্গীতের পাশাপাশি উত্তম একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একটি বেসরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি নিয়মিত নজরুল সঙ্গীত ও আধুনিক গান পরিবেশন করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভুক্ত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এবং মিউজিক কম্পোজার্স সোসাইটি বাংলাদেশ (এমসিএসবি)-এর একজন সদস্য।
টেলিভিশনে লাইভ ও রেকর্ডেড গানের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। নিজের লেখা ও সুর করা বহু গান তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে শ্রোতাদের মন জয় করেছে। বিশেষ করে কিশোর কুমার ও মান্না দের মতো স্বর্ণযুগের শিল্পীদের কালজয়ী গানগুলো গেয়ে তিনি ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে "ভালোবাসার ময়না", "আমার চোখের জলে বহে নদী", এবং "পরাণ বন্ধু" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অ্যালবাম ও সঙ্গীত ভাবনা
২০০৪ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম "হাওয়া" আধুনিক গানের ধারায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর "এলোরে শ্রী দুর্গা" অ্যালবামটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, যেখানে তিনি কাজী নজরুলের বাছাই করা ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন। গিটার ও কি-বোর্ডেও তিনি সমান দক্ষ। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক স্কুল-কলেজে সঙ্গীত শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম সঠিকভাবে গানের চর্চা করতে পারে। বর্তমানে তিনি নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর জন্ম বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ে। বাবা প্রয়াত মনীন্দ্র রায় এবং মা প্রয়াত চিনুবালা রায়। আজীবন গান গেয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বলেন, সঙ্গীত তাঁর কাছে কেবল একটি পেশা নয়, বরং আত্মার এক গভীর উপলব্ধি। তিনি চান একজন পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে এবং সব ধরনের সঙ্গীত ধারাকে সমানভাবে ধারণ করতে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 7:04 PM
সঙ্গীতকে ভালোলাগা, বিশ্বাস আর জীবনবোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে যিনি ছুটে চলেছেন অবিরাম, তিনি কণ্ঠশিল্পী উত্তম রায়। শৈশব থেকে সুরের জগতে তাঁর পথচলা শুরু, আর সেই পথচলা আজও চলমান। শিক্ষাজীবনে যেমন তিনি পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী, তেমনই সঙ্গী ছিলেন গান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র থাকাকালীনই তাঁর সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তম শুধু গান গেয়েই থামেননি, নিজেকে একজন সম্পূর্ণ সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। রবীন্দ্রভারতী থেকে তিনি 'বিমিউজ' সম্পন্ন করেছেন এবং নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন। প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশ ও সোহরাব হোসেনের মতো গুণী মানুষের কাছে তিনি নজরুল সঙ্গীত শিখেছেন। এছাড়া, পণ্ডিত তুষার দত্ত, উস্তাদ মিহির লালা, অনিলকুমার সাহা, শুভ্রা গুহসহ বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বিশেষজ্ঞের কাছে তিনি মার্গসঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন।
পেশাদার জীবন ও জনপ্রিয়তা
সঙ্গীতের পাশাপাশি উত্তম একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একটি বেসরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক। দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি নিয়মিত নজরুল সঙ্গীত ও আধুনিক গান পরিবেশন করেন। তিনি বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভুক্ত সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এবং মিউজিক কম্পোজার্স সোসাইটি বাংলাদেশ (এমসিএসবি)-এর একজন সদস্য।
টেলিভিশনে লাইভ ও রেকর্ডেড গানের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। নিজের লেখা ও সুর করা বহু গান তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে শ্রোতাদের মন জয় করেছে। বিশেষ করে কিশোর কুমার ও মান্না দের মতো স্বর্ণযুগের শিল্পীদের কালজয়ী গানগুলো গেয়ে তিনি ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে "ভালোবাসার ময়না", "আমার চোখের জলে বহে নদী", এবং "পরাণ বন্ধু" বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অ্যালবাম ও সঙ্গীত ভাবনা
২০০৪ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম "হাওয়া" আধুনিক গানের ধারায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর "এলোরে শ্রী দুর্গা" অ্যালবামটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, যেখানে তিনি কাজী নজরুলের বাছাই করা ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন। গিটার ও কি-বোর্ডেও তিনি সমান দক্ষ। তিনি মনে করেন, প্রত্যেক স্কুল-কলেজে সঙ্গীত শিক্ষার ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম সঠিকভাবে গানের চর্চা করতে পারে। বর্তমানে তিনি নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর জন্ম বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ে। বাবা প্রয়াত মনীন্দ্র রায় এবং মা প্রয়াত চিনুবালা রায়। আজীবন গান গেয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বলেন, সঙ্গীত তাঁর কাছে কেবল একটি পেশা নয়, বরং আত্মার এক গভীর উপলব্ধি। তিনি চান একজন পূর্ণাঙ্গ সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে এবং সব ধরনের সঙ্গীত ধারাকে সমানভাবে ধারণ করতে।