নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 3:33 PM
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ এবং রেলের অভ্যন্তরে চলমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। সম্প্রতি রেলের চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণের নামে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে মহাপরিচালককে অপসারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জোর লবিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ডিজি পদে রদবদলের গুঞ্জন
সূত্রমতে, রেলের বর্তমান মহাপরিচালক আফজাল হোসেনকে সরিয়ে প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তাকে ডিজি পদে বসানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লবিং করছেন। যাদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন: অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মার্কেটিং এন্ড কর্পোরেট প্ল্যানিং) পার্থ সরকার, ট্রেনিং একাডেমির প্রধান কর্মকর্তা এস এম সলিমুল্লাহ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী।
পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে বিতর্ক
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেড-২ পদায়নের জন্য তদবির করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পার্থ সরকার আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি মহাপরিচালক হওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, তিনি গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমিতে বদলি হলেও, তিনি সেখান থেকে গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব শেষ করে ২ মার্চ রেলভবনে যোগদান দেখিয়েছেন।
একাধিক একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, পার্থ সরকার তিন মাসের দায়িত্বকালে কর্মের প্রতি উদাসীন ছিলেন। অন্যদিকে, বর্তমান রেক্টর এস এম সলিমুল্লাহ বাহার শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
সনদ বাণিজ্য ও গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন পদের সনদ পেতে প্রশিক্ষণার্থীদের ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮৪ জন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮২ জন প্রশিক্ষণার্থী সনদ পেয়েছেন, যেখানে কেউ ফেল করেনি।
এছাড়াও, রেলের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে সম্প্রতি এক কর্মচারী ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ঘটনায় সরকারি গোপন আইন, ১৯২৩-এর অধীনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এডিজি আহমেদ মাহবুব চৌধুরী অবশ্য ডিজি অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমে বলেছেন, রেলের ডিজি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নেই। তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা বোর্ড যাচাই-বাছাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই ডিজি নিয়োগ দিয়েছে।
এই বিষয়ে চলমান তদন্ত এবং কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর রেলওয়ের ভাবমূর্তি অনেকটাই নির্ভর করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 3:33 PM
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ এবং রেলের অভ্যন্তরে চলমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে। সম্প্রতি রেলের চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণের নামে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে মহাপরিচালককে অপসারণের জন্য মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জোর লবিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
ডিজি পদে রদবদলের গুঞ্জন
সূত্রমতে, রেলের বর্তমান মহাপরিচালক আফজাল হোসেনকে সরিয়ে প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তাকে ডিজি পদে বসানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লবিং করছেন। যাদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন: অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মার্কেটিং এন্ড কর্পোরেট প্ল্যানিং) পার্থ সরকার, ট্রেনিং একাডেমির প্রধান কর্মকর্তা এস এম সলিমুল্লাহ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী।
পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে বিতর্ক
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেড-২ পদায়নের জন্য তদবির করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পার্থ সরকার আগামী ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি মহাপরিচালক হওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, তিনি গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমিতে বদলি হলেও, তিনি সেখান থেকে গত ১৬ মার্চ দায়িত্ব শেষ করে ২ মার্চ রেলভবনে যোগদান দেখিয়েছেন।
একাধিক একাডেমি সূত্র জানিয়েছে, পার্থ সরকার তিন মাসের দায়িত্বকালে কর্মের প্রতি উদাসীন ছিলেন। অন্যদিকে, বর্তমান রেক্টর এস এম সলিমুল্লাহ বাহার শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
সনদ বাণিজ্য ও গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ
চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন পদের সনদ পেতে প্রশিক্ষণার্থীদের ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮৪ জন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮২ জন প্রশিক্ষণার্থী সনদ পেয়েছেন, যেখানে কেউ ফেল করেনি।
এছাড়াও, রেলের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে সম্প্রতি এক কর্মচারী ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ঘটনায় সরকারি গোপন আইন, ১৯২৩-এর অধীনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এডিজি আহমেদ মাহবুব চৌধুরী অবশ্য ডিজি অপসারণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমে বলেছেন, রেলের ডিজি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নেই। তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টা বোর্ড যাচাই-বাছাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েই ডিজি নিয়োগ দিয়েছে।
এই বিষয়ে চলমান তদন্ত এবং কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর রেলওয়ের ভাবমূর্তি অনেকটাই নির্ভর করছে।