CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

ঝটিকা মিছিলে বাড়ছে লোকসংখ্যা, অস্বস্তি অর্ন্তর্বতী সরকারে

#
news image

প্রতিদিন বাড়ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল। আগে লোক সংখ্যা সিমিত থাকলেও বর্তমানে অনেক লোক জমায়েত হয়। এতে সাধারণ জনগণ আর তেমন বিরোধিতা করছে না। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ও এর সাথে সংশ্লিষ্টরা দেশের অভ্যন্তরে স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিদেশের মাটিতে বারবার অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে এবং তাদের ইমেজ সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষত, সুইজারল্যান্ড ও লন্ডনে সরকারের উপদেষ্টাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিদেশে হামলার ঘটনা: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাকে বিদেশে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে ঘিরে ধরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর একটি সেমিনার থেকে বের হওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা তাদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। বিদেশের মাটিতে এই ধরনের পরিস্থিতি সরকারের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ড. ইউনূসের কৌশলগত সফর এবং রাজনৈতিক সমর্থন: জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তার এই সফরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি একা বা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সঙ্গীদের নিয়ে নয়, বরং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে গেছেন। এই দলে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি কৌশলগত। এর মাধ্যমে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেখাতে চেয়েছেন যে, তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিয়েই কাজ করছেন। একই সাথে, এর মাধ্যমে তিনি বিদেশে সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সমাবেশ মোকাবেলা করতে চান, যা তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারে।
জনগণের অসন্তোষ ও নির্বাচনের দাবি: দেশের ভেতরেও অন্তর্বর্তী সরকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে জনগণের অসন্তোষের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার প্রায় তিন বছর ধরে ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি টিসিবির ট্রাক সেল বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জনগণের একটি বড় অংশ দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬.৫% ভোটার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন চান। একই সঙ্গে, ৯৪.৩% ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী। এই পরিসংখ্যানগুলো রাজনৈতিক মহলকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সরকারের জন্য আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও ঝটিকা মিছিল: দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা দ্রুত একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক জটিলতা দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এদিকে, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঝটিকা মিছিল বের করছেন। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং সাধারণ জনগণ এখন আর তেমন বিরোধিতা করছে না। এই পরিস্থিতিও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
দ্রুত নির্বাচনের দিকে সরকার: এই সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত নির্বাচনের পথেই হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়াও, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান এবং মার্চ থেকে আর দায়িত্বে থাকতে চান না। তিনি বলেছেন, তিনি আর চাপ নিতে পারছেন না এবং দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান তার প্রধান লক্ষ্য। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকার এখন নির্বাচনের পথেই দ্রুত অগ্রসর হতে আগ্রহী।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  3:00 PM

news image

প্রতিদিন বাড়ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল। আগে লোক সংখ্যা সিমিত থাকলেও বর্তমানে অনেক লোক জমায়েত হয়। এতে সাধারণ জনগণ আর তেমন বিরোধিতা করছে না। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ও এর সাথে সংশ্লিষ্টরা দেশের অভ্যন্তরে স্বাচ্ছন্দ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বিদেশের মাটিতে বারবার অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিব্রতকর অবস্থায় আছে এবং তাদের ইমেজ সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষত, সুইজারল্যান্ড ও লন্ডনে সরকারের উপদেষ্টাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিদেশে হামলার ঘটনা: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টাকে বিদেশে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে ঘিরে ধরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর একটি সেমিনার থেকে বের হওয়ার সময় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা তাদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। বিদেশের মাটিতে এই ধরনের পরিস্থিতি সরকারের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ড. ইউনূসের কৌশলগত সফর এবং রাজনৈতিক সমর্থন: জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তার এই সফরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তিনি একা বা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সঙ্গীদের নিয়ে নয়, বরং দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে গেছেন। এই দলে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপটি কৌশলগত। এর মাধ্যমে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক মহলের কাছে দেখাতে চেয়েছেন যে, তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিয়েই কাজ করছেন। একই সাথে, এর মাধ্যমে তিনি বিদেশে সম্ভাব্য বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সমাবেশ মোকাবেলা করতে চান, যা তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারে।
জনগণের অসন্তোষ ও নির্বাচনের দাবি: দেশের ভেতরেও অন্তর্বর্তী সরকার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে জনগণের অসন্তোষের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতির হার প্রায় তিন বছর ধরে ১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি টিসিবির ট্রাক সেল বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জনগণের একটি বড় অংশ দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়। এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬.৫% ভোটার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন চান। একই সঙ্গে, ৯৪.৩% ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী। এই পরিসংখ্যানগুলো রাজনৈতিক মহলকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সরকারের জন্য আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও ঝটিকা মিছিল: দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা দ্রুত একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছেন। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক জটিলতা দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এদিকে, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঝটিকা মিছিল বের করছেন। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে এবং সাধারণ জনগণ এখন আর তেমন বিরোধিতা করছে না। এই পরিস্থিতিও অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
দ্রুত নির্বাচনের দিকে সরকার: এই সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত নির্বাচনের পথেই হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এছাড়াও, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ড. ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চান এবং মার্চ থেকে আর দায়িত্বে থাকতে চান না। তিনি বলেছেন, তিনি আর চাপ নিতে পারছেন না এবং দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান তার প্রধান লক্ষ্য। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, অন্তর্বর্তী সরকার এখন নির্বাচনের পথেই দ্রুত অগ্রসর হতে আগ্রহী।