ইউসুফ আলী বাচ্চু
০৪ অক্টোবর, ২০২৫, 5:13 PM
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উপর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার চলমান সংকটের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে কর্মী পাঠানোর সংখ্যার তুলনায় রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে ভারতসহ অন্য দেশ থেকে পিছিয়ে থাকায় এই আয়ের টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বস্তি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১০.৬৬ শতাংশ বেশি।
মাসিক রেকর্ড: প্রবাসীরা গত জুন মাসে (কোরবানির মাস) রেকর্ড ২৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার (প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা) রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫.৫৯ শতাংশ।
বিপর্যয় থেকে ফেরা: অর্থবছরের শুরুতে, বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে, ডলারের বিনিময় হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পতন হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিতে কিছুটা উদার হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ফিরে আসে। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৩০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
বিশ্ব অভিবাসন চিত্রে বাংলাদেশ: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের দ্বিবার্ষিক বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ঢাকাকে বেছে নেয়। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন এখনও মানব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অঙ্গীকার আইওএমের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
আইওএমের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
বাংলাদেশ বিশ্বের ষষ্ঠ অভিবাসী কর্মী প্রেরণকারী দেশ।
রেমিট্যান্স প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার।
অবস্থান দেশ ২০২৩ সালে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স
১ম ভারত ১১১.২২ বিলিয়ন ডলার
২য় মেক্সিকো ৬১.১১ বিলিয়ন ডলার
৩য় চীন ৫১ বিলিয়ন ডলার
কর্মী সংখ্যা বাড়লেও আয় কম কেন?
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স হিসেবে পেয়েছিল মাত্র ২১.৮২ বিলিয়ন ডলার। কর্মী পাঠানোর সংখ্যায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ছিল ভারতের এক-পঞ্চমাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসীর সংখ্যা বাড়লেই সেই অনুপাতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে এমনটি নয়। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মূল কারণগুলো হলো:
দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি: অদক্ষ বা স্বল্প-দক্ষ কর্মীর চেয়ে দক্ষ কর্মীরা বিদেশে অনেক বেশি আয় করে।
অধিক আয়ের দেশে কর্মী প্রেরণ: উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে কর্মী পাঠালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ে।
অবৈধ পথ বন্ধ করা: অর্জিত আয়ের কত অংশ বৈধ পথে দেশে আসে, তা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই তিনটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
০৪ অক্টোবর, ২০২৫, 5:13 PM
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উপর নির্ভরশীলতা দিন দিন বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার চলমান সংকটের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে কর্মী পাঠানোর সংখ্যার তুলনায় রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে ভারতসহ অন্য দেশ থেকে পিছিয়ে থাকায় এই আয়ের টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেকর্ড প্রবৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বস্তি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১০.৬৬ শতাংশ বেশি।
মাসিক রেকর্ড: প্রবাসীরা গত জুন মাসে (কোরবানির মাস) রেকর্ড ২৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার (প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা) রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫.৫৯ শতাংশ।
বিপর্যয় থেকে ফেরা: অর্থবছরের শুরুতে, বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে, ডলারের বিনিময় হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পতন হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিতে কিছুটা উদার হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ফিরে আসে। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৩০ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।
বিশ্ব অভিবাসন চিত্রে বাংলাদেশ: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের দ্বিবার্ষিক বিশ্ব অভিবাসন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ঢাকাকে বেছে নেয়। আইওএম-এর মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন এখনও মানব উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালক হিসেবে ভূমিকা রাখছে এবং নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অঙ্গীকার আইওএমের লক্ষ্যের সঙ্গে মিলে যায়।
আইওএমের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
বাংলাদেশ বিশ্বের ষষ্ঠ অভিবাসী কর্মী প্রেরণকারী দেশ।
রেমিট্যান্স প্রাপ্তির দিক থেকে বাংলাদেশ অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার।
অবস্থান দেশ ২০২৩ সালে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স
১ম ভারত ১১১.২২ বিলিয়ন ডলার
২য় মেক্সিকো ৬১.১১ বিলিয়ন ডলার
৩য় চীন ৫১ বিলিয়ন ডলার
কর্মী সংখ্যা বাড়লেও আয় কম কেন?
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ১২ লাখ কর্মী পাঠানোর পরও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স হিসেবে পেয়েছিল মাত্র ২১.৮২ বিলিয়ন ডলার। কর্মী পাঠানোর সংখ্যায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ছিল ভারতের এক-পঞ্চমাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসীর সংখ্যা বাড়লেই সেই অনুপাতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে এমনটি নয়। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মূল কারণগুলো হলো:
দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি: অদক্ষ বা স্বল্প-দক্ষ কর্মীর চেয়ে দক্ষ কর্মীরা বিদেশে অনেক বেশি আয় করে।
অধিক আয়ের দেশে কর্মী প্রেরণ: উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে কর্মী পাঠালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ে।
অবৈধ পথ বন্ধ করা: অর্জিত আয়ের কত অংশ বৈধ পথে দেশে আসে, তা রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই তিনটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।