CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

গণপূর্তে ‘পদোন্নতির অলিম্পিকস’

#
news image

বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি)-এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদকে ঘিরে চলছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে যে, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার তোয়াক্কা না করে বিশেষ ক্ষমতা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি দ্রুত পদোন্নতির পথে হাঁটছেন, যেখানে অন্যান্য যোগ্য কর্মকর্তারা উপেক্ষিত। এই ঘটনাকে অধিদপ্তরের ভেতরে অনেকেই “পদোন্নতির অলিম্পিকস” বলে মন্তব্য করছেন।
নিয়ম ভেঙে পদোন্নতির প্রস্তাব
সরকারি সূত্র ও অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীন খবর অনুযায়ী, প্রকৌশলী কায়কোবাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক সরকারি নিয়ম মেনে চলছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার নিয়ম ভঙ্গ করে পদোন্নতির জন্য অন্যান্য যোগ্য কর্মকর্তার নামের তালিকা না পাঠিয়ে এককভাবে কেবল কায়কোবাদের নাম প্রস্তাব করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, গণপূর্তে পদোন্নতির জন্য সাধারণত একাধিক যোগ্য কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে নিয়ম উল্টো হওয়ায় জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, কায়কোবাদ একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী, যার মাধ্যমে তিনি তার ক্ষমতাকে ব্যবহার করছেন।
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নাটকীয়ভাবে সেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই অস্বীকার ছিল “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার” এক ব্যর্থ চেষ্টা।
মিথ্যা প্রতিবাদের অভিযোগ: প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা দাবি করে তিনি যে প্রতিবাদপত্র দেন, সেটি তথ্য-প্রমাণে দুর্বল হওয়ায় পাঠকের কাছে তা হাস্যকর মনে হয়েছে।
সাংবাদিকদের ‘মৌখিক তলব’: আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয় যখন তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে সাংবাদিকদের লিখিত চিঠি না দিয়ে মৌখিকভাবে তলব পাঠান। এই ঘটনাকে অনেকেই তার ক্ষমতার দাপট হিসেবে দেখছেন।
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও তার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা-ই এখন অধিদপ্তরের আলোচনার মূল বিষয়।
প্রকৌশলী কায়কোবাদের নাম একসময় “মুজিববর্ষের” আয়োজন ঘিরে কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ লেনদেনের কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়েছিল। এই কেলেঙ্কারির পর তাকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। তবে এই “পানিশমেন্ট পোস্টিং”-এর নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়।
তার বদলির পর তার জায়গায় জুনিয়র প্রকৌশলী তৈমুর আলম দায়িত্ব পান। ফলে অধিদপ্তরের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয় যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষমতা এতটাই ব্যাপক যে, তার প্রভাবে একজন জুনিয়র কর্মকর্তাও সিনিয়রদের পদে আসীন হতে পারেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মীদের মধ্যে এখন একটাই রসিকতা: “দুর্নীতি যদি যোগ্যতা হয়, তাহলে কায়কোবাদের পদোন্নতি নিশ্চিত।”
সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, মেধা ও সততার চেয়ে প্রভাবশালী নেটওয়ার্কই এখন তার প্রধান মূলধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, যোগ্যতার বদলে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতির এই ‘রঙ্গিন নাটকের’ পর্দা কবে নামে এবং এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।

 

ইউসুফ আলী বাচ্চু

০৫ অক্টোবর, ২০২৫,  3:35 PM

news image

বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি)-এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদকে ঘিরে চলছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে যে, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার তোয়াক্কা না করে বিশেষ ক্ষমতা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি দ্রুত পদোন্নতির পথে হাঁটছেন, যেখানে অন্যান্য যোগ্য কর্মকর্তারা উপেক্ষিত। এই ঘটনাকে অধিদপ্তরের ভেতরে অনেকেই “পদোন্নতির অলিম্পিকস” বলে মন্তব্য করছেন।
নিয়ম ভেঙে পদোন্নতির প্রস্তাব
সরকারি সূত্র ও অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীন খবর অনুযায়ী, প্রকৌশলী কায়কোবাদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া স্বাভাবিক সরকারি নিয়ম মেনে চলছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার নিয়ম ভঙ্গ করে পদোন্নতির জন্য অন্যান্য যোগ্য কর্মকর্তার নামের তালিকা না পাঠিয়ে এককভাবে কেবল কায়কোবাদের নাম প্রস্তাব করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, গণপূর্তে পদোন্নতির জন্য সাধারণত একাধিক যোগ্য কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে নিয়ম উল্টো হওয়ায় জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, কায়কোবাদ একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সুবিধাভোগী, যার মাধ্যমে তিনি তার ক্ষমতাকে ব্যবহার করছেন।
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি নাটকীয়ভাবে সেই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই অস্বীকার ছিল “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার” এক ব্যর্থ চেষ্টা।
মিথ্যা প্রতিবাদের অভিযোগ: প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা দাবি করে তিনি যে প্রতিবাদপত্র দেন, সেটি তথ্য-প্রমাণে দুর্বল হওয়ায় পাঠকের কাছে তা হাস্যকর মনে হয়েছে।
সাংবাদিকদের ‘মৌখিক তলব’: আরও বিতর্ক সৃষ্টি হয় যখন তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে সাংবাদিকদের লিখিত চিঠি না দিয়ে মৌখিকভাবে তলব পাঠান। এই ঘটনাকে অনেকেই তার ক্ষমতার দাপট হিসেবে দেখছেন।
কায়কোবাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও তার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন, তা-ই এখন অধিদপ্তরের আলোচনার মূল বিষয়।
প্রকৌশলী কায়কোবাদের নাম একসময় “মুজিববর্ষের” আয়োজন ঘিরে কাজের নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ লেনদেনের কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়েছিল। এই কেলেঙ্কারির পর তাকে শাস্তিমূলক বদলি হিসেবে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। তবে এই “পানিশমেন্ট পোস্টিং”-এর নাটকীয়তা এখানেই শেষ নয়।
তার বদলির পর তার জায়গায় জুনিয়র প্রকৌশলী তৈমুর আলম দায়িত্ব পান। ফলে অধিদপ্তরের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয় যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ক্ষমতা এতটাই ব্যাপক যে, তার প্রভাবে একজন জুনিয়র কর্মকর্তাও সিনিয়রদের পদে আসীন হতে পারেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মীদের মধ্যে এখন একটাই রসিকতা: “দুর্নীতি যদি যোগ্যতা হয়, তাহলে কায়কোবাদের পদোন্নতি নিশ্চিত।”
সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, মেধা ও সততার চেয়ে প্রভাবশালী নেটওয়ার্কই এখন তার প্রধান মূলধন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, যোগ্যতার বদলে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতির এই ‘রঙ্গিন নাটকের’ পর্দা কবে নামে এবং এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।